Categories
প্রকৃতি

ব্রি ধান-৭৪: উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ ধান

কৃষিতে এখন প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে কমছে কৃষকের সময় ও ব্যয়। তবুও বছর বছর ধানের উৎপাদন, বিক্রয়, চাষাবাদের খরচ আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নাজেহাল কৃষক। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের লাভের মুখ দেখাতে কৃষি সম্পর্কিত দপ্তর, দেশি-বিদেশি এনজিওরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর থেকে লালমনিরহাটের স্থানীয় এনজিও নজীর, কৃষি দপ্তর আর হার্ভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪’র আবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

স্থানীয় কৃষিদপ্তর বলছে, গেলো বছর জেলার মোট ধান উৎপাদনের ২% এই জাতের ধান চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর ধানি জমির মধ্যে ৩ হাজার ৮শ ২০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৭৪’র চাষ হয়েছে। যা জেলার মোট ধান উৎপাদনের ৯ %।

এই ধান চাষে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাত আর হাইব্রিড জাতের ধান বীজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে লালমনিরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪। দ্রুত উৎপাদন ও উচ্চ ফলনশীল এ জাতের ধান চাষে যেমন সার কীটনাশক কম লাগে, তেমনি উৎপাদিত ধান থেকেই সংরক্ষণ করা যায় বীজ। আর আগাম কাটামারা হওয়ায় নানাভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ফলে ব্রি ধান-৭৪ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বেড়ে চলছে।

ধান গবেষনা কেন্দ্রের উদ্ভাবিত স্বল্প মেয়াদী জাত এই ব্রি ধান-৭৪। ভিটামিন ও জিংক সমৃদ্ধ অধিক ফলনশীল এই ধান উৎপাদনে সময় লাগে ১শ ৪০ থেকে ৪৫ দিন। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল চাষ করা যায়। আর এই ধানে ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাতও কম।

অন্য ধানের তুলনায় ব্রি ধান-৭৪’র উৎপাদনে খরচ কম, দামও বেশি। এছাড়াও উৎপাদিত ধান থেকে বীজ সংরক্ষণ করা যায়।

কালিগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের কৃষক দুলু মিয়া বলেন, অন্যান্য ধান চাষে অনেক ঝুঁকি, কিন্তু ব্রি ধান-৭৪’র চাষে ব্লাস্ট, মাজরাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমন নেই বললেই চলে।

কৃষক ফজিলা বানু বলেন, অন্য ধান চাষে লেবার খরচ বেশি হয়।

মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের জমিগুলো আলু ও তামাক চাষ করার পরে পড়ে থাকে। সেই জমিতে অন্য ফসল চাষ করা যায়না। কিন্তু আমরা খুব কম সময় আর কম খরচে ব্রি ধান-৭৪’র চাষ করছি। এই ধানের বীজ আমরা নিজেরাই সংরক্ষণ করছি। পরের বছর নিজেদের বীজ দিয়েই চাষ করতে পারছি।

এই ধানের উদ্ভাবক দলের প্রধান ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এবং হার্ভেস্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. খায়রুল বাশার বলেন, মানুষের শরীরে যে পরিমান জিংকের প্রয়োজন তার প্রায় ৭০ভাগ পাওয়া সম্ভব ব্রি ধান-৭৪ থেকে।

নজীরের নির্বাহী পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক সরকার বলেন, মঙ্গাপিড়ীত এই জনপদের মানুষ উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪’র ভাত খেয়ে স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের শক্তি ও মেধা বিকাশে কাজ করবে এই ধান। এসব কারণেই আমরা এই ধান চাষে আগ্রহ তৈরি করছি।

আরও পড়ুন

পাবনায় ক্যাপসিক্যামের আবাদ বাড়ছে

পাবনায় বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যামের বাণিজ্যিক আবাদে সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। বাজারে চাহিদা থাকায় মিলছে ভালো দামও। তাই জেলায় দিন দিন বাড়ছে ক্যাপসিক্যামের আবাদ।

পাবনার সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। উচ্চশিক্ষিত এই কৃষক প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি দুই বছর চার বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করছেন ক্যাপসিক্যামের। প্রথম দিকে অভিজ্ঞতা না থাকায় ফলন ভালো না হলেও দমে যাননি তিনি। ইন্টারনেট থেকে আবাদের বিষয়ে জেনেছেন। সরেজমিন গাজীপুরে গিয়ে আবাদ দেখে এসে ভুলত্রুটি শুধরে নিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমের শুরুতে মিলেছে ভালো ফলন।

গত বছর ক্যামসিক্যাম ক্ষেতে আগাছার কারণে ফলন ভালো হয়নি নজরুলের। খরচও বেশি হয়। সেই ঝামেলা এড়াতে এবার জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে পলিথিন বিছিয়ে চারা রোপণ করেন। তাতে কাজ হয়েছে। নজরুলের হিসাবে, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে এককেজি ফলন পেলেও তার লাভের অঙ্ক চার লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলা কৃষিবিভাগের তথ্যমতে, পাবনা জেলায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যামের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টরপ্রতি ৪০ মেট্রিক টন ফলন পাবেন কৃষকরা।

নজরুল ইসলাম বলেন, তার ক্ষেতের ক্যামসিক্যাম ঢাকার বাজারে পাঠাচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও পাঠাচ্ছেন। ঢাকার রেস্টুরেন্টে এর ভালো চাহিদা। স্থানীয়রা বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। পাবনায় এই সবজি তেমন কেউ আবাদ করে না। তবে আস্তে আস্তে আবাদ বাড়ছে।

নজরুলের এমন সাফল্যে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের গ্রামের চাষিরা। মকবুল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম জানান, অল্প জমিতে বেশি আবাদ করা যায়। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। বেশি খরচ নেই, পরিচর্যাও বেশি করতে হয় না। এ কারণে সবার মাঝে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তারা আরও জানান, দেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও তারকা হোটেলে ক্যাপসিক্যামের চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যায়। জেলার মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের উপযোগী। তাই জেলায় আবাদের পরিসর বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ক্যাপসিক্যাম সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষক যদি প্রতিকেজি একশত টাকা দরেও বিক্রি করতে পারেন, তাহলে এক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *