Categories
Uncategorized

মেদ কমানোর কিছু পরিচিত খাবার

পেটের চর্বি খুবই অস্বস্তিকর ও বিভিন্ন রোগের কারণ। শরীরে মেদ জমলে চলাফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি সৌন্দর্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে পেটে মেদ জমলে ভালো পোশাক পরলেও সুন্দর দেখায় না। অতিরিক্ত তেল-মসলাজাতীয় খাবার খাওয়া ও খাবারে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে পেটে মেদ জমতে পারে।

পেটের মেদ ঝরানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন করা দরকার। খাদ্যাভাস আর নিয়মিত শরীর চর্চা একসঙ্গে মিলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি ক্যালরি ধ্বংস করবে। যদি কেউ সত্যিকার অর্থে পেটের মেদ ঝরাতে চান তাহলে অবশ্যই উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন স্বাদযুক্ত খাবার খাওয়া পরিত্যাগ করতে হবে।

কিছু খাবার আছে যেগুলো পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। যেমনঃ

টক দই

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের পেট কিছুটা ফুলে থাকে। প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ফলে এর প্রোবায়োটিকস উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়া হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া টক দেই কোমর ও পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুন্দর পেটের জন্য প্রতিদিন টক দেই খাওয়া বেশ উপকারী।

শস্যজাতীয় খাবার

পরিশোধিত শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার বদলে অপরিশোধিত শস্য থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যারা অপরিশোধিত শস্যের তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে যে কোনো পেটের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা কম।

কাঠবাদাম

ক্যালরি রোধ করতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। গবেষণায় দেখা গেছে, কোষে মেদ শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে কাঠবাদাম।

শসা

শরীরের মেদ কমাতে শসার কার্যকারীতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। শসায় আছে ক্যাফেইক অ্যাসিড যা শরীরে পানি জমা বা গ্যাসের কারণে হওয়া ফাঁপাভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই পেট কমাতে এই সবজি বেশ কার্যকর।

সবুজ শাকসবজি

মাংসপেশির গঠনে জরুরি উপাদান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে। শক্তি জোগাতেও ভালো কাজ করে। তাছাড়া সবজিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে যা ওজন কমাতে এবং পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

স্যামন মাছ

স্বাস্থ্য গুণে ভরপুর স্যামন মাছে রয়েছে কিছু উপকারী প্রোটিন যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে কিছুক্ষণ পরেই ক্ষুদা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া এর উপাদান পেটের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করবে স্যামন মাছ।

কলা

পেট ও কোমরের কাছে জমে থাকা বাড়তি পানি কমিয়ে পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে কলা। পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের অসামঞ্জস্যতার কারণে শরীরের মাঝামাঝি অংশে বাড়তি পানি জমে থাকে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরের কোষে অতিরিক্ত তরল ধরে রাখে। আর এই সমস্যা কমাতে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। যা এই ফল থেকে পাওয়া যায়।

পানি

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, শরীরের নানান ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রচুর পানি পানের ফলে হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। অপর্যাপ্ত পানি পানের ফলে পেটে ফাঁপা এক ধরনের অনুভূতি হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি প্রচুর রসালো ফল ও সবজিও খাওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *