Categories
খাবার ও রেসিপি

যেসব খাবার কাঁচা খাওয়াই উচিত

কিছু খাবার কাঁচা খেলেই অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায় ও স্বাস্থ্যের বাড়তি উপকার হয়। এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খেলে জীবাণু ঘটিত ক্ষতির আশংকাও তেমন নেই। এখানে কাঁচা খাওয়াই উচিত এমনকিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলো।

ব্রোকলি: ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতো, কিন্তু এর রঙ সবুজ। ব্রোকলিতে উচ্চ পরিমাণে সালফোরাফ্যান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যানসার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, প্রদাহ, বিষণ্নতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোকলিকে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খেলে আমাদের শরীর সালফোরাফ্যানকে অধিক দ্রুত শোষণ করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোকলির মতো সবজিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করলে ভিটামিন সি’র মাত্রা কমে যায়। কাঁচা ব্রোকলি খাওয়ার কথা চিন্তাও করতে না পারলে স্টিমিং (সেদ্ধ) করে খেতে পারেন। অন্যান্য কুকিং মেথডের তুলনায় স্টিমিং পুষ্টির ওপর কম প্রভাব ফেলে।

পেঁয়াজ: পেঁয়াজে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে এতে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো উপাদান রয়েছে। খাবারটিতে উচ্চ ঘনত্বে কোয়ারসেটিন থাকে, যা ক্যানসারের বিস্তার ঠেকাতে পারে। লিভিং উইথ অ্যাশলের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ অ্যাশলে ওয়াল্টার বলেন, ‘পেঁয়াজকে কাঁচা খেলে ক্যানসার-বিরোধী উপাদান সর্বোচ্চ হয়। রান্না করলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ফাইটোকেমিক্যালসের উপকারিতা কমে যায়।’ এছাড়া পেঁয়াজ হলো অ্যালিয়াম পরিবারের সবজি, যার মানে হলো এতে অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে- এটি হার্ট ও রক্তনালীর রোগ প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজকে ওভেনে তাপ দিলে এসব হৃদ-বান্ধব উপাদান ৩০ মিনিটের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায়।

রসুন: এটা ঠিক যে কাঁচা রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়, কিন্তু এটার স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে সবসময় কাঁচাই খেতে চাইবেন। পেঁয়াজের মতো রসুনেও হার্ট ও রক্তনালীর রোগপ্রতিরোধকারী অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে, কিন্তু এটাকেও তাপ দিলে কার্যকারিতা কমে যায়। ২০১৯ সালে জার্নাল অব ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রকাশিত গবেষণা মতে, রসুনকে রান্না করলে অ্যালিনেজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রসুনকে ২০ মিনিট ফোটালে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রম কমে যায় ও একমিনিট মাইক্রোওয়েভ করলে ক্যানসার-বিনাশক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়।

ব্লুবেরি: ব্লুবেরি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে ফ্লেভানয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায়। ব্লুবেরিকে কাঁচা খেলে এর সকল উপকারিতা পাবেন। জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ব্লুবেরিকে বেকিং, কুকিং বা প্রুফিংয়ের মাধ্যমে প্রসেস করলে ফ্লেভানয়েড তথা পলিফেনলের মাত্রা কমে যায়। পলিফেনল রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হার্টে রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়, ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দেয়, হজমশক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

লাল ক্যাপসিকাম: যেসব খাবার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী তথা শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায় সেগুলোর একটি হলো লাল ক্যাপসিকাম। লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে একটি কমলার প্রায় তিনগুণ ভিটামিন সি পাবেন। কিন্তু এটাকেও রান্না করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যানুসারে, লাল ক্যাপসিকামে অন্যান্য ক্যাপসিকামের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

আরও পড়ুন

সকালের ৫ কাজ বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

এই মহামারীতে আমরা সবাই কিছু না কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরী এবং আরও সচল রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাসেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে আপানার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক মূল্যবান হাতিযার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এটিও সত্য যে, একদিনে আপনি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারবেন না। এটি সময়ের সাথে সাথে তৈরি হবে। আর সেজন্য জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দিনের শুরু অর্থ্যাৎ সকাল হতেই একটি স্বাস্থ্যসম্মত রুটিন অনুসরণ করা উচিত যাতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে। কিভাবে দিনটি শুরু করবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলবেন ৫ টি উপায় প্রকাশ করছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করুন
আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠতে অলসতা লাগে তাহলে বিছানা থেকেই কিছু যোগব্যায়াম করে নিতে পারেন। যেমন- শিশুদের ন্যায় অঙ্গবিক্ষেপ করা অর্থ্যাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পিছনে হাত নিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরে রাখা। এসব যোগব্যায়াম আপনার পেশিকে মজবুত এবং মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে। এরকম কিছুক্ষণ অঙ্গবিক্ষেপ করার পর সোজা হয়ে বসুন এবং মনকে শিথিল করার জন্য শ্বাস প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করুন। এভাবে রাতের ঘুমের পরে শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলুন।

প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার
তেল ব্যবহার করা একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক কৌশল। মুখে প্রায় ৪-৬ মিনিটের জন্য ঠান্ডা নারিকেল তেল ঢেলে রেখে দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলে যে লরিক অ্যাসিড রয়েছে সেটি মুখের ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাটি স্তরটি ভেঙে ফেলে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন কৌশলটি মেনে চলবেন। সকালে ঘুম ভাঙার ঠিক পরে খালি পেটে এটি করা উচিত।

নিজেকে হাইড্রেট রাখুন
আমরা সবাই জানি যে সুস্থ থাকার জন্য নিজেদেরকে হাইড্রেটেড রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই দুই গ্লাস পানি পান করুন। এমনকি আরও বেশি উপকারিতার জন্য আপনি ইচ্ছে করলে লেবুর পানি, মধুর পানি কিংবা কাঁচা হলুদের পানি পান করতে পারেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
সকালে ব্যায়াম করা অলসতা দূর করার অন্যতম সেরা উপায়। দিনের শুরুতে ৩০-৪০ মিনিট শরীরচর্চা করলে সারাদিন নিজেকে সতেজ রাখতে পারবেন। এতে আপনার শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে হাঁটা, জগিং, সাইক্লিংয়ের মতো শরীরচর্চা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং তারপরে শরীরের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেকফাস্ট করুন
ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তাকে বলা হয় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। স্বাস্থ্যসম্মত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *