Categories
Uncategorized

৮ ধরনের র‌্যাশ বলে দিবে করোনার লক্ষণ

শুষ্ক কাশি থেকে শুরু করে গন্ধের অনুভূতি হ্রাস পর্যন্ত, বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে যা করোনভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যায়। আর এবার লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডন এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টসের গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িও কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে ত্বকের ৮ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ রোগে ত্বকের র‌্যাশ বিষয়ক গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চর্ম বিশেষজ্ঞ ডা. ভেরোনিক বাটাইল বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ এর র‌্যাশ গ্যালারি তৈরি করেছি, যাতে চিকিৎসকরা এবং আগ্রহী যেকেউ এতে অ্যাকসেস করতে পারে। এটি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ র‌্যাশ শনাক্ত করতে তাদের সহায়তা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় পাওয়া গেছে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িগুলো জ্বর কিংবা কাশির তুলনায় করোনার আরো বেশি পূর্বাভাস হতে ওঠতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আমরা দেখতে পেয়েছি, প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন শিশুর করোনার কমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই র‌্যাশ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কোভিড-১৯ র‌্যাশগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে, র‌্যাশ খুব চুলকানির হলে নির্ধারিত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।’

র‌্যাশের ছবিগুলো ‘কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপ’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অ্যাপটি মার্চ মাসে বিজ্ঞানীদের কোভিড-১৯ এর লক্ষণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল।

গবেষকরা মতে, ৮ ধরনের র‌্যাশ কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ হতে পারে। কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপের তথ্যানুসারে, করোনাভাইরাসের প্রায় ৯ শতাংশ রোগী তাদের শরীর বা পায়ের আঙুলে র‌্যাশের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে র‌্যাশের ঘটনা ছিল দ্বিগুণ।

যে ৮ ধরনের র‌্যাশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে

১. কোভিড ডিজিটস: ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তনগুলো চিলব্রেন হিসেবে পরিচিত। কোভিড-১৯ রোগের আগে ত্বকের এ সমস্যাটি খুব বিরল ছিল। কারণ এটি কেবল হিমশীতল তাপমাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিংবা যাদের হাতের বা পায়ের আঙুলে রক্ত সঞ্চালন সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে দেখা যেত।

২. ঘাড় এবং বুকে একজিমা: এ ধরনের র‌্যাশ ঘাড় এবং বুকে দেখা দেয়। সাধারণত এটি গোলাপী রঙের হয় এবং এতে খুব চুলকানি হয়ে থাকে।

৩. ঠোঁটে ঘা: করোনার উপসর্গ হিসেবে ঠোঁটে ঘা হতে পারে। ঘা শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে উঠতে পারে। মুখের ভেতরে ব্যাথাও হতে পারে।

৪. পাপুলার এবং ভেসিকুলার: এই র‌্যাশ প্রথম লাল হিসেবে দেখা দেয় এবং শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। যেমন: কনুই এবং হাঁটুর পাশাপাশি হাত এবং পায়ের পেছনের অংশে। এটি খারাপ ঘামাচির মতো দেখাতে পারে।

. পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া: ত্বকে পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া সমস্যাটি মূলত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করা হয়, যদি বিষয়টি কখনো প্রমাণিত হয়নি। এটি সাধারণত তরুণ বয়সীদের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি একটি হেরাল্ড প্যাচ দিয়ে শুরু হয় এবং কিছুদিনের মধ্যে গলার নিচ থেকে এবং পায়ে ছোট ছোট প্যাচ দেখা দেয়।

৬. পুরপুরিক: এ ধরনের প্যাটার্ন সহজেই শনাক্ত করা যায়। কারণ এতে ত্বকে একাধিক গভীর লাল বা রক্তবর্ণ দাগ তৈরি হয়। এটি ক্ষতের মতো প্যাচগুলোর কারণ হতে পারে।

৭. আর্টিকেরিয়াল: আর্টিকেরিয়াল র‌্যাশ করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যেতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার দীর্ঘসময় পরও এই র‌্যাশ থেকে যেতে পারে। এতে ত্বক চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ও ভীষণ চুলকায়। এটি হঠাৎ করে শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।

৮. ভাইরাল এক্স্যান্থেম: ভাইরাল সংক্রমণে ত্বকের পরিচিত র‌্যাশ এটি। এতে লালচে দাগের অসংখ্য র‌্যাশ তৈরি হয়।

গবেষণার তথ্যমতে, এসব র‌্যাশ করোনার অন্যান্য উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগে বা পরে ত্বকে দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো সংক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পরে হতে পারে।

ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টসের প্রেসিডেন্ট ডা. তানিয়া ব্লিকার বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু র‌্যাশ এবং কোভিড-১৯ এর মধ্যে যোগসূত্র ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। করোনার বিস্তার রোধে এগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন

মেদ কমানোর কিছু পরিচিত খাবার

পেটের চর্বি খুবই অস্বস্তিকর ও বিভিন্ন রোগের কারণ। শরীরে মেদ জমলে চলাফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি সৌন্দর্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে পেটে মেদ জমলে ভালো পোশাক পরলেও সুন্দর দেখায় না। অতিরিক্ত তেল-মসলাজাতীয় খাবার খাওয়া ও খাবারে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে পেটে মেদ জমতে পারে।

পেটের মেদ ঝরানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন করা দরকার। খাদ্যাভাস আর নিয়মিত শরীর চর্চা একসঙ্গে মিলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি ক্যালরি ধ্বংস করবে। যদি কেউ সত্যিকার অর্থে পেটের মেদ ঝরাতে চান তাহলে অবশ্যই উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন স্বাদযুক্ত খাবার খাওয়া পরিত্যাগ করতে হবে।

কিছু খাবার আছে যেগুলো পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। যেমনঃ

টক দই

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের পেট কিছুটা ফুলে থাকে। প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ফলে এর প্রোবায়োটিকস উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়া হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া টক দেই কোমর ও পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুন্দর পেটের জন্য প্রতিদিন টক দেই খাওয়া বেশ উপকারী।

শস্যজাতীয় খাবার

পরিশোধিত শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার বদলে অপরিশোধিত শস্য থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যারা অপরিশোধিত শস্যের তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে যে কোনো পেটের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা কম।

কাঠবাদাম

ক্যালরি রোধ করতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। গবেষণায় দেখা গেছে, কোষে মেদ শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে কাঠবাদাম।

শসা

শরীরের মেদ কমাতে শসার কার্যকারীতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। শসায় আছে ক্যাফেইক অ্যাসিড যা শরীরে পানি জমা বা গ্যাসের কারণে হওয়া ফাঁপাভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই পেট কমাতে এই সবজি বেশ কার্যকর।

সবুজ শাকসবজি

মাংসপেশির গঠনে জরুরি উপাদান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে। শক্তি জোগাতেও ভালো কাজ করে। তাছাড়া সবজিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে যা ওজন কমাতে এবং পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

স্যামন মাছ

স্বাস্থ্য গুণে ভরপুর স্যামন মাছে রয়েছে কিছু উপকারী প্রোটিন যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে কিছুক্ষণ পরেই ক্ষুদা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া এর উপাদান পেটের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করবে স্যামন মাছ।

কলা

পেট ও কোমরের কাছে জমে থাকা বাড়তি পানি কমিয়ে পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে কলা। পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের অসামঞ্জস্যতার কারণে শরীরের মাঝামাঝি অংশে বাড়তি পানি জমে থাকে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরের কোষে অতিরিক্ত তরল ধরে রাখে। আর এই সমস্যা কমাতে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। যা এই ফল থেকে পাওয়া যায়।

পানি

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, শরীরের নানান ধরনের সমস্যা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *