Categories
জীবনশৈলী

জিমের বিকল্প ঘুম

আকর্ষণীয় কে না হতে চায়! কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া কিংবা অনিয়মের চলাফেরার কারণে সেটা অনেক সময় হয়ে উঠে না বেড়ে যায় মেদ। তবে জিম সেন্টারে গিয়ে শরীরচর্চা কিংবা খাওয়া-দাওয়ায় রাশ না টানলেও ছোটখাটো বেশ কিছু ফ্যাক্টর থাকে, যা আপনাকে করে তুলতে পারে আকর্ষণীয়।

শরীর সুন্দর রাখতে হলে প্রথমেই যেটা দরকার, তা হলো পর্যাপ্ত ঘুম। হ্যাঁ, নিয়মিত ব্যায়াম ও ক্যালোরিতে কাটছাঁট করার পাশাপাশি দরকার যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম। তবে শুধু ঘুমোলেই হবে না, তার সঙ্গে মেনে চলতে হবে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নিয়ম। তবেই সামগ্রিকভাবে ফল পাবেন। আসুন জেনে নিই সেই নিয়মগুলো-

ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রথমেই দেখে নিন, আপনার ঘর অন্ধকার রয়েছে কি না। লাইট নেভানোর পাশাপাশি দেখে নিন ঘরের জানালাগুলোতে পর্দার অবস্থান যেন ঠিক থাকে। এসবের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। অন্ধকার ঘর শরীরে মেলাটনিন তৈরিতে সাহায্য করে। যা প্রভাবিত করে মেটাবলিক রেটকে। মেদ কমাতে সাহায্য করে।

বিছানায় যান তাড়াতাড়ি। গভীর ঘুম শরীরের ক্যালোরি বেশি পোড়াতে সাহায্য করে। যত বেশি গভীর ঘুম হবে, তত বেশি কমবে শরীরের মেদ। কারণ, গভীর ঘুমের সময় ব্রেন সবথেকে বেশি অ্যাকটিভ থাকে। যা শরীরের এনার্জি ব্যবহার করে বডি ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

শুতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আপনার ঘরের কুলার টেম্পারেচার। কারণ, শরীরে যে ব্রাউন ফ্যাট থাকে যা পরিচিত ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু হিসেবেও তা ঠান্ডা পরিবেশে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। যা ফ্যাট সেল গুলি পোড়াতে সাহায্য করে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিয়ে নিন গ্রিন টি। ক্যাফেইন থাকার কারণে গ্রিন টি মেটাবলিজম রেট বাড়ায়। ফলে দ্রুত ক্যালোরি বার্ন হয়।

সবশেষে যেটা না করলেই নয়, তা হলো বিছানায় গিয়ে নিজের প্রিয় ইলেকট্রিক ডিভাইস যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব বন্ধ করে দিন। কারণ এই জিনিসগুলোই আপনাকে ভালো ঘুম থেকে দূরে রাখে। ফোনের ব্লু লাইট শরীর থেকে মেলাটনিন হরমোন নিঃসরণে বাধার সৃষ্টি করে। ব্যাঘাত ঘটে ঘুমের। তাই নিজের প্রতি যত্ন নিন। পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া, শরীর চর্চার পাশাপাশি নজর দিন নিজের ঘুমের দিকেও।

আরও পড়ুন

ওজন নিয়ন্ত্রণে কলা

নানা কারণে মানুষের সুস্থ থাকা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সচেতন থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে অনেক ভালো থাকতে পারেন যে কেউ। সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সকালেই কলা খেতে। অ্যাসিডিটি হওয়ার ভয় থাকলে তার আগে এক মুঠো মুড়ি খান।

সকালে উঠে একগ্লাস উষ্ণ গরমপানি পান করুন। গরমপানি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান এক মুঠো মুড়ি। এরপর ১৫ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড কিছু এক্সসারসাইজ করে কলা ও আমন্ড খান। এতে শরীর থাকবে সুস্থ। থাকবে না গ্যাস অম্বলের ভয়।

কলায় রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী পটাসিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম। তা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ক্ষিদে দূরে রাখে। প্রতিদিনই কলা খাওয়া যায়। কিন্তু খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে: অনেকেই মনে করেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে অনেকেই কলা বাদ দিয়ে দেন।

আমরা যে আবহাওয়া থেকে থাকি, সেই আবহাওয়াতে সবচেয়ে পুষ্টিকর ফল হল কলা। রক্তচাপ ঠিক রাখা থেকে শুরু করে হার্টের সমস্যা সবই দূরে রাখে কলা। এছাড়াও পাকা হলুদ কলায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ব্রেকফাস্টে কলা : ব্রেকফাস্টে ডিম, টোস্ট কিংবা কর্নফ্লেক্সের সঙ্গে অনেকেই কলা খান। এতে যেমন পেট ভরা থাকে তেমন পুষ্টিও পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা অবশ্যই কলা খাবেন ব্রেকফাস্টে। হজমের সমস্যা থাকলেও কলা খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কলা সবসময় হেলদি ফ্যাটের সঙ্গে খেতে হবে। পিনাট বাটার, ইয়োগার্ট কিংবা পরিজের সঙ্গে কলা খান।

খালি পেটে কলা নয়: কলা খাওয়ার আগে একমুঠো শুকনো মুড়ি কিংবা দুটো ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুট অবশ্যই খান। কলাতে ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক সুগার থাকে।

আর যে কারণে খালি পেটে কলা খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে যায়। ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যখানে অনেক সময়ই বেশি গ্যাপ হয়ে যায়। সেই গ্যাপটা পূরণ করে দেয় কলা। কারণ কলায় থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে: পেট পরিষ্কার না হলে আরও নানা সমস্যা দেখা যায় শরীরে। যে কারণে সকালে উঠেই যাতে পেট পরিষ্কার হয় সেইদিকে খেয়াল রাখতেই হবে। যাদের আলসারের মতো সমস্যা রয়েছে, যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন তাদের নিয়ম করে কলা খেতে হবে।

তবে আপনি যদি সকালে একদম খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই বেরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে এবং ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

শরীরে পানির চাহিদা পূরণে কলা: আগের রাতে বেশি তেল মশলাদার খাবার খাওয়া হলে কিংবা একটু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল খাওয়া হয়ে গেলে পরেরদিনও তার একটা প্রভাব থেকে যায়।

কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আর কলা,

Categories
খাবার ও রেসিপি

যেসব খাবার কাঁচা খাওয়াই উচিত

কিছু খাবার কাঁচা খেলেই অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায় ও স্বাস্থ্যের বাড়তি উপকার হয়। এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খেলে জীবাণু ঘটিত ক্ষতির আশংকাও তেমন নেই। এখানে কাঁচা খাওয়াই উচিত এমনকিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলো।

ব্রোকলি: ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতো, কিন্তু এর রঙ সবুজ। ব্রোকলিতে উচ্চ পরিমাণে সালফোরাফ্যান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যানসার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, প্রদাহ, বিষণ্নতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোকলিকে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খেলে আমাদের শরীর সালফোরাফ্যানকে অধিক দ্রুত শোষণ করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোকলির মতো সবজিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করলে ভিটামিন সি’র মাত্রা কমে যায়। কাঁচা ব্রোকলি খাওয়ার কথা চিন্তাও করতে না পারলে স্টিমিং (সেদ্ধ) করে খেতে পারেন। অন্যান্য কুকিং মেথডের তুলনায় স্টিমিং পুষ্টির ওপর কম প্রভাব ফেলে।

পেঁয়াজ: পেঁয়াজে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে এতে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো উপাদান রয়েছে। খাবারটিতে উচ্চ ঘনত্বে কোয়ারসেটিন থাকে, যা ক্যানসারের বিস্তার ঠেকাতে পারে। লিভিং উইথ অ্যাশলের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ অ্যাশলে ওয়াল্টার বলেন, ‘পেঁয়াজকে কাঁচা খেলে ক্যানসার-বিরোধী উপাদান সর্বোচ্চ হয়। রান্না করলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ফাইটোকেমিক্যালসের উপকারিতা কমে যায়।’ এছাড়া পেঁয়াজ হলো অ্যালিয়াম পরিবারের সবজি, যার মানে হলো এতে অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে- এটি হার্ট ও রক্তনালীর রোগ প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজকে ওভেনে তাপ দিলে এসব হৃদ-বান্ধব উপাদান ৩০ মিনিটের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায়।

রসুন: এটা ঠিক যে কাঁচা রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়, কিন্তু এটার স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে সবসময় কাঁচাই খেতে চাইবেন। পেঁয়াজের মতো রসুনেও হার্ট ও রক্তনালীর রোগপ্রতিরোধকারী অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে, কিন্তু এটাকেও তাপ দিলে কার্যকারিতা কমে যায়। ২০১৯ সালে জার্নাল অব ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রকাশিত গবেষণা মতে, রসুনকে রান্না করলে অ্যালিনেজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রসুনকে ২০ মিনিট ফোটালে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রম কমে যায় ও একমিনিট মাইক্রোওয়েভ করলে ক্যানসার-বিনাশক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়।

ব্লুবেরি: ব্লুবেরি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে ফ্লেভানয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায়। ব্লুবেরিকে কাঁচা খেলে এর সকল উপকারিতা পাবেন। জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ব্লুবেরিকে বেকিং, কুকিং বা প্রুফিংয়ের মাধ্যমে প্রসেস করলে ফ্লেভানয়েড তথা পলিফেনলের মাত্রা কমে যায়। পলিফেনল রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হার্টে রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়, ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দেয়, হজমশক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

লাল ক্যাপসিকাম: যেসব খাবার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী তথা শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায় সেগুলোর একটি হলো লাল ক্যাপসিকাম। লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে একটি কমলার প্রায় তিনগুণ ভিটামিন সি পাবেন। কিন্তু এটাকেও রান্না করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যানুসারে, লাল ক্যাপসিকামে অন্যান্য ক্যাপসিকামের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

আরও পড়ুন

সকালের ৫ কাজ বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

এই মহামারীতে আমরা সবাই কিছু না কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরী এবং আরও সচল রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাসেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে আপানার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক মূল্যবান হাতিযার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এটিও সত্য যে, একদিনে আপনি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারবেন না। এটি সময়ের সাথে সাথে তৈরি হবে। আর সেজন্য জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দিনের শুরু অর্থ্যাৎ সকাল হতেই একটি স্বাস্থ্যসম্মত রুটিন অনুসরণ করা উচিত যাতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে। কিভাবে দিনটি শুরু করবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলবেন ৫ টি উপায় প্রকাশ করছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করুন
আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠতে অলসতা লাগে তাহলে বিছানা থেকেই কিছু যোগব্যায়াম করে নিতে পারেন। যেমন- শিশুদের ন্যায় অঙ্গবিক্ষেপ করা অর্থ্যাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পিছনে হাত নিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরে রাখা। এসব যোগব্যায়াম আপনার পেশিকে মজবুত এবং মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে। এরকম কিছুক্ষণ অঙ্গবিক্ষেপ করার পর সোজা হয়ে বসুন এবং মনকে শিথিল করার জন্য শ্বাস প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করুন। এভাবে রাতের ঘুমের পরে শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলুন।

প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার
তেল ব্যবহার করা একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক কৌশল। মুখে প্রায় ৪-৬ মিনিটের জন্য ঠান্ডা নারিকেল তেল ঢেলে রেখে দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলে যে লরিক অ্যাসিড রয়েছে সেটি মুখের ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাটি স্তরটি ভেঙে ফেলে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন কৌশলটি মেনে চলবেন। সকালে ঘুম ভাঙার ঠিক পরে খালি পেটে এটি করা উচিত।

নিজেকে হাইড্রেট রাখুন
আমরা সবাই জানি যে সুস্থ থাকার জন্য নিজেদেরকে হাইড্রেটেড রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই দুই গ্লাস পানি পান করুন। এমনকি আরও বেশি উপকারিতার জন্য আপনি ইচ্ছে করলে লেবুর পানি, মধুর পানি কিংবা কাঁচা হলুদের পানি পান করতে পারেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
সকালে ব্যায়াম করা অলসতা দূর করার অন্যতম সেরা উপায়। দিনের শুরুতে ৩০-৪০ মিনিট শরীরচর্চা করলে সারাদিন নিজেকে সতেজ রাখতে পারবেন। এতে আপনার শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে হাঁটা, জগিং, সাইক্লিংয়ের মতো শরীরচর্চা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং তারপরে শরীরের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেকফাস্ট করুন
ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তাকে বলা হয় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। স্বাস্থ্যসম্মত

Categories
খাবার ও রেসিপি

উজ্জ্বলতা ফেরাবে চিনি

ত্বক ফর্সা করতে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন চিনি। স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। তাই রূপচর্চায় চিনির ধারেকাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না। চিনির স্ক্রাব বানাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনই খ্রিস্টাল ক্লিয়ার ত্বকও পাওয়া যায়। শীতে ঠোঁট ফাঁটছে কিংবা গোড়ালি? একটু চিনি গুঁড়া করে নিয়ে ওর মধ্যে লেবুর রস আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান। কয়েকদিনেই সব ভ্যানিশ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে

লেবুর রস, চিনি, মধু, কফির গুঁড়া, চালের গুড়া, বেসন, কাঁচা দুধ আর হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাতে, মুখে, গায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন করুন। সপ্তাহে তিনদিন করতেই পারেন। একমাসেই পাল্টে যাবে পুরনো চেহারা। ত্বকেও আসবে নতুন ছোঁয়া।

বডি স্ক্রাবার

পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড। যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি ও সুগার স্ক্রাব

গ্রিন টিয়ের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। আর তাই চিনি গুড়ো করে গ্রিন টি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ওর মধ্যে অলিভ অয়েল আর মধু মেশান। এবার এই মিশ্রণ ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের মরা কোষ উঠে আসবে।

ওটমিল সুগার স্ক্রাব

যাদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাদের জন্য এই স্ক্রাব খুবই ভালো। মুখের অতিরিক্ত অয়েলকে শুষে নিতে পারে এই স্ক্রাব। ওটস, চিনি আর মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে দু ফোঁটা অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পুরো শুকনা হয়। শুকনো হলেই ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের যত্নে

নারকেল তেল, চিনি আর কফি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন ফুট স্ক্রাবার। এই মিশ্রণটি বানিয়ে কৌটোতে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। পায়ের পাতায় ভালো করে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। দেখবেন ময়লা উঠে গিয়ে পা আগের থেকে অনেক বেশি নরম হয়েছে।

আরও পড়ুন

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখাতে গুড় না মধু

চিনি আমাদের শরীরের নানা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে দায়ী। ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি বড় কারণ। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তাদেরকে প্রথমেই চিনি বাদ দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। এর বদলে প্রাকৃতিক চিনি, গুড় কিংবা মধু খেতে বলা হয়।

মিষ্টি না খেয়ে কি থাকা যায়! তাই তো প্রতিদিনের চায়ের কাপে মধু বা গুড় মিশিয়ে খাচ্ছেন। মিষ্টি খাবার তৈরিতে ব্যবহার করছেন গুড়। কিন্তু এই দুই স্বাস্থ্যকর উপাদান অনিয়মিত গ্রহণ করে লাভ নেই, বরং তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কোনটা বেশি উপকারী এবং প্রতিদিন কতটুকু গ্রহণ করা যাবে তা জেনে রাখাও জরুরি। বিস্তারিত প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মধু এবং গুড় চিনির বদলে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগক্ষেত্রেই আমরা এতে কতটা ক্যালোরি আছে তা খেয়াল করতে ভুলে যাই। আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন তবে ক্যালোরি গণনা করা এবং ঝরানো দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গুড় কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?
গুড় আমাদের দেশীয় মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা সাদা চিনির পরিবর্তে গুড় বেছে নেন। গুড় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ১, বি ৬ এবং সি প্লাসের সমৃদ্ধ উৎস, এতে ভালো পরিমাণ ফাইবার থাকে যা টক্সিন অপসারণ করে এবং পাচনতন্ত্রকে সহজে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। দিনের শুরুতে এককাপ গরম পানি এবং গুড় দিয়ে শুরু করতে পারেন। এটি হজমশক্তি ভালো করে। গুড়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফেনলিক যৌগও রয়েছে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

চিনির তুলনায় গুড় কতটা স্বাস্থ্যকর?
যেহেতু স্বাদ চিনির তুলনায় কিছুটা কম, তাই বেশিরভাগ লোক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে গুড় খেয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি সাধারণত এককাপ চা বা কফিতে এক চামচ চিনি খেয়ে থাকেন তবে গুড়ের স্বাদে অভ্যস্ত না হলে প্রয়োজনের তুলনায় আরও কিছু যোগ করতে হবে।

গুড়ের মধ্যে চিনির মতো ক্যালোরি থাকে। তাই গুড় বাড়িয়ে খেলে আপনি ক্যালোরি গ্রহণও বাড়িয়ে তুলছেন। গুড়ে সুক্রোজ রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। হতে পারে পুরোনো গুড়ে প্রিজারভেটিভ মেশানো। যা আবার আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক নয়।

ওজন কমানোর জন্য মধু ব্যবহার
চিনি এবং মধু উভয় মিষ্টি – প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া বলে মধুকে একটু বেশিই উপকারী মনে করা হয়। চিনিতে গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজের অনুপাত হলো ৫০-৫০, যেখানে মধুতে কেবল ৩০% গ্লুকোজ এবং ৪০% এর চেয়ে কম ফ্রুক্টোজ থাকে। এতে আরও বেশ কয়েকটি অন্যান্য চিনির অণু রয়েছে যা শরীর দ্বারা হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং সবসময় ফ্যাট হিসাবে সঞ্চিত হয় না। এর অর্থ এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অসুস্থতা রোধকারী হিসাবে পরিচিত। এটি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেস খনিজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতেও কাজ করে। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে তার শরীরকে ডিটক্সাইফাই করে এবং বিপাকক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

খরচ কমাতে
আপনি যদি সংযমের নিয়মটি না মেনে চলেন তবে বড় ক্ষতি করছেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এক টেবিল চামচ মধুতে ৬০-৬৪ ক্যালোরি রয়েছে যা চিনির মতোই। চিনি বা গুড়ের চেয়ে একমাত্র মধু খেলে মিলবে বেশি উপকার কারণ এটি অন্যান্য সুবিধাযুক্ত।

উপসংহার
চিনির বদলে গুড় বা মধু খাওয়া একটি ভাল অভ্যাস-যতক্ষণ না

Categories
খাবার ও রেসিপি

কাচা ছোলা খাওয়ার ৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

আরও পড়ুন

উজ্জ্বলতা ফেরাবে চিনি

 

ত্বক ফর্সা করতে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন চিনি। স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। তাই রূপচর্চায় চিনির ধারেকাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না। চিনির স্ক্রাব বানাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনই খ্রিস্টাল ক্লিয়ার ত্বকও পাওয়া যায়। শীতে ঠোঁট ফাঁটছে কিংবা গোড়ালি? একটু চিনি গুঁড়া করে নিয়ে ওর মধ্যে লেবুর রস আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান। কয়েকদিনেই সব ভ্যানিশ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে

লেবুর রস, চিনি, মধু, কফির গুঁড়া, চালের গুড়া, বেসন, কাঁচা দুধ আর হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাতে, মুখে, গায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন করুন। সপ্তাহে তিনদিন করতেই পারেন। একমাসেই পাল্টে যাবে পুরনো চেহারা। ত্বকেও আসবে নতুন ছোঁয়া।

বডি স্ক্রাবার

পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড। যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি ও সুগার স্ক্রাব

গ্রিন টিয়ের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। আর তাই চিনি গুড়ো করে গ্রিন টি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ওর মধ্যে অলিভ অয়েল আর মধু মেশান। এবার এই মিশ্রণ ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের মরা কোষ উঠে আসবে।

ওটমিল সুগার স্ক্রাব

যাদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাদের জন্য এই স্ক্রাব খুবই ভালো। মুখের অতিরিক্ত অয়েলকে শুষে নিতে পারে এই স্ক্রাব। ওটস, চিনি আর মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে দু ফোঁটা অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পুরো শুকনা হয়। শুকনো হলেই ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের যত্নে

নারকেল তেল, চিনি আর কফি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন

Categories
জানা-অজানা

ভালোবাসার মানুষের প্রতারণা বুঝার উপায়

ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেমিক বা প্রেমিকা সবসময় ভালো দিকটাই দেখিয়ে থাকেন। সম্পর্কে জড়ানোর পর সর্বদা নিজের খারাপ দিকটা লুকিয়ে রাখেন। সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই তো ফোনে বা ম্যাসেঞ্জারে কথা হয়। আর দেখা হওয়ার সময় তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এই সময়ে কি করে বিচার করবেন জীবন সঙ্গী করতে চাওয়া মানুষটিকে।

বিচার করার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, মানুষটি আপনার সঙ্গে সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে এটা জানা কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। সঙ্গী হিসেবে অবশ্যই একজন ভালো মানুষকে পছন্দ করতে হয়। অনেকে একাধিক সম্পর্ক চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি যখন গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে বিষয়টি জানার পর খুব আঘাত লাগে হৃদয়ে। অনেকে তা সহ্য করতে না পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটান। তাই জীবন সঙ্গীকে জানতে-বুঝতে সে সত্য বলছে কিনা জেনে নেওয়ার

উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-
কথা রক্ষা না করা : আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আপনাকে জানানো হল সে আপনার সঙ্গে অংশ নিতে পারবে না। বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। কখনো কখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজও দেখান। একটা সময় জানতে পারলেন ঐ সময়টায় তার কোনো কাজই ছিল না। এমনটা দেখলে তার সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কেন মিথ্যা বলল সেটাও জানার প্রয়োজন নেই।

অন্য বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা : ভালোবাসার মানুষটি অন্য কারও সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে বা বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে এটা কেউই মেনে নিতে পারবে না। মুখে হাজারবার অসুবিধা নেই বললেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই রাগ করেন সকলে। এক্ষেত্রে অনেকে ভালোবাসার মানুষ রাগ করবেন ভেবে মিথ্যা বলে থাকেন। পরবর্তীতে এ নিয়েই সমস্যার শুরু হয়। এতে বিশ্বাস ভেঙে যায়। একাধিকবার এমনটা করলে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বা ম্যাসেজ : অনেকেই আছেন ভালোবাসার মানুষটির পাশে থেকেই অন্য কারও সঙ্গে চ্যাটিং বা ফোনে কথা বলেন। আবার তাদের বলেন যে বিষয়টি যেন কাউকে না বলেন। এটা খুবই খারাপ। এতে করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আপনি যাকে ভালোবাসেন আর তার অপছন্দের কাজ করেন সেটা কি উচিত হবে আপনার। এতে অন্যজন আঘাত পান। যা কথা বলার, ম্যাসেজ করার ভালোবাসার মানুষটির সামনেই করুন।

বন্ধু বা বান্ধবীর ভালোবাসার মানুষ বেশি আকর্ষণীয় : এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের ভালোবাসার মানুষটির থেকে অন্যের ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি পছন্দ করেন। বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কখনো ভুল করেও মুখ ফুটে বলা যাবে না। কেননা, বিষয়টি নিজের ভালোবাসার মানুষ জানতে পারলে বা বুঝতে পারলে খুবই কষ্ট পাবেন তিনি। তাই এখনই এই অভ্যাস বন্ধ করুন। আপনার কোনো বন্ধু-বান্ধবীর মধ্যে এমন স্বভাব থাকলে তাকে সতর্ক করুন এবং সঠিক পথে আসার পরামর্শ দিন। এমন মানুষের জন্য বৈবাহিক জীবনে ভয়ানক অশান্তি সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

কাচা ছোলা খাওয়ার ৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।

Categories
জীবনশৈলী

সাড়া জাগাচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় ফলকে রোগবালাই ও রাসায়নিক মুক্ত রেখে স্বাদ ও ফলের আসল রং অক্ষুন্ন রাখতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি আম চাষে বিপ্লব ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে এই উপজেলায়। কীটনাশকের বিরুদ্ধে মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এই প্রযুক্তিতে ফল চাষ দিন দিন চাষির মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করছে। লালপুরে এক সময় কীটনাশক ছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনের চিন্তা করতে পারতেন না মৌসুমী ফল চাষীরা।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথাগত পরিবর্তন এসেছে ফল উৎপাদনে। উৎপাদিত ফল রফতানির চিন্তা মাথায় রেখে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে চিরাচরিত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে এখানকার চাষিরা বেছে নিচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। সকালে উপজেলা বিজয়পুর এলাকার কমরুজ্জামান লাভলুর আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে বাবুই পাখির বাসার মতো প্রতিটা আমের গাছে হলুদ ও সাদা রঙ্গের ব্যাগ ঝুলছে কাছে গিয়ে দেখা যায় ব্যাগের মধ্যে আম রয়েছে।

কথা হয় বাগান মালিক আম চাষি কামরুজ্জামান লাভলু সঙ্গে তিনি বলেন, বিষমুক্ত আম উৎপাদনের একমাত্র উপায় ফ্রুট ব্যাগিং। গত বছর ১০ বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে লাভবান হওয়ায় এবার প্রায় ১৬ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে (বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আম ঢেকে রাখা) ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন তিনি। বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা গাছে থাকা অবস্থায় ফলকে আবৃত করে রাখাটাই ফ্রুট ব্যাগিং। ফলের একটা নির্দিষ্ট আকারের সময় এই ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

ফল সংগ্রহ পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে। এই ব্যাগটি বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং ও আকারের হয়ে থাকে। তার মতে, কীটনাশক, পোকামাকড় ও বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে রক্ষা করতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এতে আম থাকে বিষমুক্ত। তবে এই পদ্ধতি একটু ব্যয়বহুল হলেও আম বিক্রির লাভ থেকে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। কারণ এই পদ্ধতির আমের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা একটু বেশি দামে হলেও বিষমুক্ত আম কিনতে চান। অনেক আম চাষিই এই পদ্ধতির দিকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। লালপুর ুউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর এই উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে।

বিষমুক্ত ফল উৎপাদনের এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। ফ্রুট ব্যাগিংকৃত আমের চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কারণ এই আম কীটনাশকমুক্ত, পোকামাকড়, বিরূপ আবহাওয়া ও বাইরের ক্ষতিকর কোনো প্রভাবই এই ব্যাগের মধ্যে ঢুকতে পারে না। এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাতে সভা করা হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতির উপকরণের মূল্য কম ও সহজলভ্য হলে আগামীতে এই পদ্ধতিতে আমের চাষ আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ভালোবাসার মানুষের প্রতারণা বুঝার উপায়

ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেমিক বা প্রেমিকা সবসময় ভালো দিকটাই দেখিয়ে থাকেন। সম্পর্কে জড়ানোর পর সর্বদা নিজের খারাপ দিকটা লুকিয়ে রাখেন। সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই তো ফোনে বা ম্যাসেঞ্জারে কথা হয়। আর দেখা হওয়ার সময় তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এই সময়ে কি করে বিচার করবেন জীবন সঙ্গী করতে চাওয়া মানুষটিকে।

বিচার করার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, মানুষটি আপনার সঙ্গে সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে এটা জানা কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। সঙ্গী হিসেবে অবশ্যই একজন ভালো মানুষকে পছন্দ করতে হয়। অনেকে একাধিক সম্পর্ক চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি যখন গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে বিষয়টি জানার পর খুব আঘাত লাগে হৃদয়ে। অনেকে তা সহ্য করতে না পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটান। তাই জীবন সঙ্গীকে জানতে-বুঝতে সে সত্য বলছে কিনা জেনে নেওয়ার

উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-
কথা রক্ষা না করা : আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আপনাকে জানানো হল সে আপনার সঙ্গে অংশ নিতে পারবে না। বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। কখনো কখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজও দেখান। একটা সময় জানতে পারলেন ঐ সময়টায় তার কোনো কাজই ছিল না। এমনটা দেখলে তার সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কেন মিথ্যা বলল সেটাও জানার প্রয়োজন নেই।

অন্য বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা : ভালোবাসার মানুষটি অন্য কারও সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে বা বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে এটা কেউই মেনে নিতে পারবে না। মুখে হাজারবার অসুবিধা নেই বললেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই রাগ করেন সকলে। এক্ষেত্রে অনেকে ভালোবাসার মানুষ রাগ করবেন ভেবে মিথ্যা বলে থাকেন। পরবর্তীতে এ নিয়েই সমস্যার শুরু হয়। এতে বিশ্বাস ভেঙে যায়। একাধিকবার এমনটা করলে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বা ম্যাসেজ : অনেকেই আছেন ভালোবাসার মানুষটির পাশে থেকেই অন্য কারও সঙ্গে চ্যাটিং বা ফোনে কথা বলেন। আবার তাদের বলেন যে বিষয়টি যেন কাউকে না বলেন। এটা খুবই খারাপ। এতে করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আপনি যাকে ভালোবাসেন আর তার অপছন্দের কাজ করেন সেটা কি উচিত হবে আপনার। এতে অন্যজন আঘাত পান। যা কথা বলার, ম্যাসেজ করার ভালোবাসার মানুষটির সামনেই করুন।

বন্ধু বা বান্ধবীর ভালোবাসার মানুষ বেশি আকর্ষণীয় : এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের ভালোবাসার মানুষটির থেকে অন্যের ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি পছন্দ করেন। বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কখনো

Categories
জানা-অজানা

জলপাই পাতার রসে আছে ৪টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই ৪টি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে।

জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছেঃ

১. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করেঃ

যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে।

২. ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করেঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

৩. অ্যান্টি এজিং উপাদান আছেঃ

যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

৪. ক্ষত ভালো করেঃ

২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ছোট কোন কাটা ছেঁড়া ও ফুসকুড়ির মধ্যে জলপাই পাতার নির্যাস দিলে দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

সতর্কতাঃ

সাধারণত জলপাই পাতার রস নিরাপদ এবং কোন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়না। তবে যারা প্রেগনেন্ট ও ব্রেস্ট ফিডিং করান তারা জলপাই পাতার রস গ্রহণ করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

আরও পড়ুন

আম খেলেও ওজন কমবে জানুন বিস্তারিত

রসালো ও মিষ্টি ফল আম। এর স্বাদে মুগ্ধ হয় ছোট-বড় সবাই। তবে বেশি খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এড়িয়ে যান ফলের রাজা আমকে। তাই তো ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের তালিকা থেকেও আম বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে জানলে অবাক হবেন, আম খেয়েও না-কি ওজন কমানো যায়- এমনই বলছে গবেষণা।

২০০৮ সালের এপ্রিলে নিউট্রশন রিসার্চ একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত ওজনে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তিরা বেশি পরিমাণে ফল খেয়েছেন; তাদের ওজন অন্যদের তুলনায় বেশি কমেছে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। তাহলে ৬ মাসে অতিরিক্ত আপনার ০.৩কেজি ওজন কমবে।

এজন্য অনেক চিকিৎসকই এই মৌসুমে আম খাওয়ার পরামর্শ দেন। আমে আছে কার্ব, প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, বি-৬ এবং ফোলেট। ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও অ্য়ান্টি-অক্সিডেন্ট।

আম খেলে কীভাবে ওজন কমবে? আম খেলে ওজন বাড়ে, এই কথা পুরোপুরি ভুল নয়। কারণ অসময়ে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বেশিরভাগ মানুষই খাওয়ার পর খান কিংবা ডিনারে বা লাঞ্চেও অনেক সময় আম খান।

পরিমাণ অনুযায়ী, একটা মাঝারি মাপের আমের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে পারে। তাই বেশি ক্যালোরি আপনার খাবারে যোগ হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে রাতে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবাবনা বেশি থাকে। তবে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকের পরিবর্তে আপনি যদি আম খান, তবে অবশ্যই আপনার ওজন কমতে পারে।

যেমন সকাল বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে আপেল বা কলার পরিবর্তে আপনি একটি আম খেতেই পারেন। এ ছাড়াও ব্যায়াম শুরু করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে একটি আম খান। এটি আপনার

Categories
জানা-অজানা

হৃদরোগের ১২টি পূর্বাভাস

হৃদরোগ সচরাচর হুট করে হয় না। দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলই এর জন্য দায়ী। আর কিছু উপসর্গ যদি আগেই ধরা পড়ে, তবে সতর্ক হতে সময় পাবেন যথেষ্ট। হৃদরোগের তেমনি কিছু আগাম পূর্বাভাস জানা যাক এবার।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

ঘুমের মাঝে হুটহাট দম আটকে আসে অনেকের। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকার অভ্যাসের সঙ্গে এমন ঘটনার সম্পর্ক আছে। এতে কিছু সময়ের জন্য মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায় না। একেই বলে স্লিপ অ্যাপনিয়া। এতে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যা দেখা দেয় ও ধীরে ধীরে রোগীর হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হতে থাকে। সময়মতো ধরা পড়লে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিরাময়যোগ্য।

হলুদ-কমলা র‌্যাশ

অতিমাত্রায় ট্রাইগ্লিসারিড (টিজি) বেড়ে গেলে আঙুলের গোড়া, পায়ের বুড়ো আঙুল বা আশপাশে বেশ ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। হলুদ-কমলা রঙের ফুসকুড়ি বেড়ে গেলেই বুঝতে হবে আপনি হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন।

দুর্বল মুঠো

বেশি বয়স না হতেই অনেকের হাতের গ্রিপ তথা মুষ্টিবদ্ধ করার শক্তি কমে আসে। এর সঙ্গে আপনার হৃৎপিণ্ডের ক্ষমতার সরাসরি যোগাযোগ আছে। কোনো কিছু জোরসে আঁকড়ে ধরতে যদি টানা অনেকদিন সমস্যা বোধ করেন, তবে হার্টের পরীক্ষা করানোটা জরুরি।

নখের নিচে

কোনো আঘাত পাওয়া ছাড়াই যদি নখের নিচে কালো ছোট ছোট গোলাকার দাগ দেখতে পান তবে সতর্ক হতে হবে। এটাকে বলে এন্ডোকারডাইটিস। হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের কারণেই নখে রক্ত জমাট বেঁধে এমনটা হয়। আবার ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলেও এমনটা হতে পারে। দুটো একসঙ্গে থাকলে ওই ব্যক্তির হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

 

ঘন ঘন চক্কর

একবার দু’বার হতেই পারে। কিন্তু প্রায়ই যদি মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে কিংবা চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন তবে ধরে নিন আপনার হৃৎপিণ্ডটা ঠিকঠাক রক্ত পাম্প করতে পারছে না। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে মাংসপেশীতেও রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। তখন দেখা যাবে হুট করে শরীরের কিছু অঙ্গে ভারসাম্যও রাখতে পারছেন না।

যৌন সমস্যা

হৃদরোগের সঙ্গে এ সমস্যাও জড়িয়ে আছে ভালো করে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের কারণে ধমনী সরু হয়ে এলেও দেখা দেয় যৌন দুর্বলতা কিংবা শারীরিক সম্পর্কে অনীহা।

ত্বকের রঙ

হাতের আঙুল ও বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল যদি নীলচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে সেখানে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাচ্ছে না। রক্তনালীর ব্লকের কারণেই এমনটা হয়। আবার ত্বকের মধ্যে এক ধরনের ফ্যাকাসে গোলাপি আভা দেখা দেওয়ার মানেও হলো কোলেস্টেরলের প্লাকগুলো ভেঙে গিয়ে ছোট ছোট রক্তনালীগুলোকে আটকে দিচ্ছে।

মাড়ি দিয়ে রক্ত

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে গাম ব্লিডিং। গবেষকরা এখনও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার সঙ্গে হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পাননি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতার সঙ্গে গাম ব্লিডিংও থাকতে দেখা গেছে। এর সঙ্গে আবার স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেশি দেখা গেছে।

ত্বকে কালশিটে ছোপ

বিশেষ করে গলার কাছে, বগলে কিংবা শরীরের কিছু ভাঁজে গাঢ় বাদামি ছোপ দাগ থাকে অনেকের। ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ না করলেও এমনটা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হতে পারে হৃৎযন্ত্রও। শরীরে এমন ছোপ বেশি দেখা গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সেরে ফেলুন।

 

শ্বাস নিতে হাঁসফাঁস

কোনো একটা মাঝারি গোছের কাজ করার পরই শ্বাস নেওয়ার জন্য বুকটা ধড়ফড় শুরু করে তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পা-ফোলা

বেশি সময় বসে থাকা বা গর্ভাবস্থায় এমনটা হয়। আর এটাও মূলত হৃৎপিণ্ডের শক্তি কমে যাওয়ার ফল। যার কারণে পায়ের নিচে তরল জমতে থাকে। এর মানে হলো পায়ের তলানিতে কোনো না কোনো ব্লক তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিচ থেকে রক্ত নিচ থেকে আবার উপরে উঠতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

ঘন ঘন অবসাদ

ঠিকমতো ঘুম না হলে এমনটা হতেই পারে। তবে এর বাইরেও যদি ক্লান্তিতে সারা শরীর ছেয়ে আসে তবে সতর্ক হয়ে যান হৃৎপিণ্ডের ব্যাপারে। দেখুন, এর পাশাপাশি কাশির সমস্যাটাও আছে কিনা। কারণ অবসাদের জন্য আবার আমাদের রক্তাল্পতা ও বিষণ্নতাও দায়ী।

আরও পড়ুন

জলপাই পাতার রসে আছে অসাধারণ ৪টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই ৪টি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে।

জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছেঃ

১. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করেঃ

যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে।

২. ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করেঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

৩. অ্যান্টি এজিং উপাদান আছেঃ

যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

৪. ক্ষত ভালো করেঃ

২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ

Categories
প্রকৃতি

পাবনায় ক্যাপসিক্যামের আবাদ বাড়ছে

পাবনায় বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যামের বাণিজ্যিক আবাদে সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। বাজারে চাহিদা থাকায় মিলছে ভালো দামও। তাই জেলায় দিন দিন বাড়ছে ক্যাপসিক্যামের আবাদ।

পাবনার সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। উচ্চশিক্ষিত এই কৃষক প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি দুই বছর চার বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করছেন ক্যাপসিক্যামের। প্রথম দিকে অভিজ্ঞতা না থাকায় ফলন ভালো না হলেও দমে যাননি তিনি। ইন্টারনেট থেকে আবাদের বিষয়ে জেনেছেন। সরেজমিন গাজীপুরে গিয়ে আবাদ দেখে এসে ভুলত্রুটি শুধরে নিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমের শুরুতে মিলেছে ভালো ফলন।

গত বছর ক্যামসিক্যাম ক্ষেতে আগাছার কারণে ফলন ভালো হয়নি নজরুলের। খরচও বেশি হয়। সেই ঝামেলা এড়াতে এবার জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে পলিথিন বিছিয়ে চারা রোপণ করেন। তাতে কাজ হয়েছে। নজরুলের হিসাবে, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে এককেজি ফলন পেলেও তার লাভের অঙ্ক চার লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলা কৃষিবিভাগের তথ্যমতে, পাবনা জেলায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যামের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টরপ্রতি ৪০ মেট্রিক টন ফলন পাবেন কৃষকরা।

নজরুল ইসলাম বলেন, তার ক্ষেতের ক্যামসিক্যাম ঢাকার বাজারে পাঠাচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও পাঠাচ্ছেন। ঢাকার রেস্টুরেন্টে এর ভালো চাহিদা। স্থানীয়রা বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। পাবনায় এই সবজি তেমন কেউ আবাদ করে না। তবে আস্তে আস্তে আবাদ বাড়ছে।

নজরুলের এমন সাফল্যে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের গ্রামের চাষিরা। মকবুল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম জানান, অল্প জমিতে বেশি আবাদ করা যায়। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। বেশি খরচ নেই, পরিচর্যাও বেশি করতে হয় না। এ কারণে সবার মাঝে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তারা আরও জানান, দেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও তারকা হোটেলে ক্যাপসিক্যামের চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যায়। জেলার মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের উপযোগী। তাই জেলায় আবাদের পরিসর বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ক্যাপসিক্যাম সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষক যদি প্রতিকেজি একশত টাকা দরেও বিক্রি করতে পারেন, তাহলে এক একর জমি থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। তিনি আশা করেন, পাবনার কৃষকরা এই সবজি চাষ করে লাভবান হবেন।

ক্যাপসিক্যামের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থাকবে বলে জানান উপপরিচালক আব্দুল কাদের।

Categories
প্রকৃতি

ব্রি ধান-৭৪: উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ ধান

কৃষিতে এখন প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে কমছে কৃষকের সময় ও ব্যয়। তবুও বছর বছর ধানের উৎপাদন, বিক্রয়, চাষাবাদের খরচ আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নাজেহাল কৃষক। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের লাভের মুখ দেখাতে কৃষি সম্পর্কিত দপ্তর, দেশি-বিদেশি এনজিওরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর থেকে লালমনিরহাটের স্থানীয় এনজিও নজীর, কৃষি দপ্তর আর হার্ভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪’র আবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

স্থানীয় কৃষিদপ্তর বলছে, গেলো বছর জেলার মোট ধান উৎপাদনের ২% এই জাতের ধান চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর ধানি জমির মধ্যে ৩ হাজার ৮শ ২০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৭৪’র চাষ হয়েছে। যা জেলার মোট ধান উৎপাদনের ৯ %।

এই ধান চাষে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাত আর হাইব্রিড জাতের ধান বীজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে লালমনিরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪। দ্রুত উৎপাদন ও উচ্চ ফলনশীল এ জাতের ধান চাষে যেমন সার কীটনাশক কম লাগে, তেমনি উৎপাদিত ধান থেকেই সংরক্ষণ করা যায় বীজ। আর আগাম কাটামারা হওয়ায় নানাভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ফলে ব্রি ধান-৭৪ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বেড়ে চলছে।

ধান গবেষনা কেন্দ্রের উদ্ভাবিত স্বল্প মেয়াদী জাত এই ব্রি ধান-৭৪। ভিটামিন ও জিংক সমৃদ্ধ অধিক ফলনশীল এই ধান উৎপাদনে সময় লাগে ১শ ৪০ থেকে ৪৫ দিন। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল চাষ করা যায়। আর এই ধানে ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাতও কম।

অন্য ধানের তুলনায় ব্রি ধান-৭৪’র উৎপাদনে খরচ কম, দামও বেশি। এছাড়াও উৎপাদিত ধান থেকে বীজ সংরক্ষণ করা যায়।

কালিগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের কৃষক দুলু মিয়া বলেন, অন্যান্য ধান চাষে অনেক ঝুঁকি, কিন্তু ব্রি ধান-৭৪’র চাষে ব্লাস্ট, মাজরাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমন নেই বললেই চলে।

কৃষক ফজিলা বানু বলেন, অন্য ধান চাষে লেবার খরচ বেশি হয়।

মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের জমিগুলো আলু ও তামাক চাষ করার পরে পড়ে থাকে। সেই জমিতে অন্য ফসল চাষ করা যায়না। কিন্তু আমরা খুব কম সময় আর কম খরচে ব্রি ধান-৭৪’র চাষ করছি। এই ধানের বীজ আমরা নিজেরাই সংরক্ষণ করছি। পরের বছর নিজেদের বীজ দিয়েই চাষ করতে পারছি।

এই ধানের উদ্ভাবক দলের প্রধান ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এবং হার্ভেস্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. খায়রুল বাশার বলেন, মানুষের শরীরে যে পরিমান জিংকের প্রয়োজন তার প্রায় ৭০ভাগ পাওয়া সম্ভব ব্রি ধান-৭৪ থেকে।

নজীরের নির্বাহী পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক সরকার বলেন, মঙ্গাপিড়ীত এই জনপদের মানুষ উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪’র ভাত খেয়ে স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের শক্তি ও মেধা বিকাশে কাজ করবে এই ধান। এসব কারণেই আমরা এই ধান চাষে আগ্রহ তৈরি করছি।

আরও পড়ুন

পাবনায় ক্যাপসিক্যামের আবাদ বাড়ছে

পাবনায় বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যামের বাণিজ্যিক আবাদে সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। বাজারে চাহিদা থাকায় মিলছে ভালো দামও। তাই জেলায় দিন দিন বাড়ছে ক্যাপসিক্যামের আবাদ।

পাবনার সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। উচ্চশিক্ষিত এই কৃষক প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি দুই বছর চার বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করছেন ক্যাপসিক্যামের। প্রথম দিকে অভিজ্ঞতা না থাকায় ফলন ভালো না হলেও দমে যাননি তিনি। ইন্টারনেট থেকে আবাদের বিষয়ে জেনেছেন। সরেজমিন গাজীপুরে গিয়ে আবাদ দেখে এসে ভুলত্রুটি শুধরে নিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমের শুরুতে মিলেছে ভালো ফলন।

গত বছর ক্যামসিক্যাম ক্ষেতে আগাছার কারণে ফলন ভালো হয়নি নজরুলের। খরচও বেশি হয়। সেই ঝামেলা এড়াতে এবার জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে পলিথিন বিছিয়ে চারা রোপণ করেন। তাতে কাজ হয়েছে। নজরুলের হিসাবে, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে এককেজি ফলন পেলেও তার লাভের অঙ্ক চার লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলা কৃষিবিভাগের তথ্যমতে, পাবনা জেলায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যামের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টরপ্রতি ৪০ মেট্রিক টন ফলন পাবেন কৃষকরা।

নজরুল ইসলাম বলেন, তার ক্ষেতের ক্যামসিক্যাম ঢাকার বাজারে পাঠাচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টেও পাঠাচ্ছেন। ঢাকার রেস্টুরেন্টে এর ভালো চাহিদা। স্থানীয়রা বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। পাবনায় এই সবজি তেমন কেউ আবাদ করে না। তবে আস্তে আস্তে আবাদ বাড়ছে।

নজরুলের এমন সাফল্যে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের গ্রামের চাষিরা। মকবুল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম জানান, অল্প জমিতে বেশি আবাদ করা যায়। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। বেশি খরচ নেই, পরিচর্যাও বেশি করতে হয় না। এ কারণে সবার মাঝে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

তারা আরও জানান, দেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও তারকা হোটেলে ক্যাপসিক্যামের চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা ক্ষেত থেকে কিনে নিয়ে যায়। জেলার মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের উপযোগী। তাই জেলায় আবাদের পরিসর বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ক্যাপসিক্যাম সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষক যদি প্রতিকেজি একশত টাকা দরেও বিক্রি করতে পারেন, তাহলে এক