Categories
Uncategorized

আম খেলেও ওজন কমবে জানুন বিস্তারিত

রসালো ও মিষ্টি ফল আম। এর স্বাদে মুগ্ধ হয় ছোট-বড় সবাই। তবে বেশি খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এড়িয়ে যান ফলের রাজা আমকে। তাই তো ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের তালিকা থেকেও আম বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে জানলে অবাক হবেন, আম খেয়েও না-কি ওজন কমানো যায়- এমনই বলছে গবেষণা।

২০০৮ সালের এপ্রিলে নিউট্রশন রিসার্চ একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত ওজনে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তিরা বেশি পরিমাণে ফল খেয়েছেন; তাদের ওজন অন্যদের তুলনায় বেশি কমেছে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। তাহলে ৬ মাসে অতিরিক্ত আপনার ০.৩কেজি ওজন কমবে।

এজন্য অনেক চিকিৎসকই এই মৌসুমে আম খাওয়ার পরামর্শ দেন। আমে আছে কার্ব, প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, বি-৬ এবং ফোলেট। ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও অ্য়ান্টি-অক্সিডেন্ট।

আম খেলে কীভাবে ওজন কমবে? আম খেলে ওজন বাড়ে, এই কথা পুরোপুরি ভুল নয়। কারণ অসময়ে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বেশিরভাগ মানুষই খাওয়ার পর খান কিংবা ডিনারে বা লাঞ্চেও অনেক সময় আম খান।

পরিমাণ অনুযায়ী, একটা মাঝারি মাপের আমের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে পারে। তাই বেশি ক্যালোরি আপনার খাবারে যোগ হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে রাতে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবাবনা বেশি থাকে। তবে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকের পরিবর্তে আপনি যদি আম খান, তবে অবশ্যই আপনার ওজন কমতে পারে।

যেমন সকাল বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে আপেল বা কলার পরিবর্তে আপনি একটি আম খেতেই পারেন। এ ছাড়াও ব্যায়াম শুরু করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে একটি আম খান। এটি আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে। কারণ এতে ভিটামিন সি, বি-৬ ও কার্ব আছে। অন্যান্য ফলের মতোই আমও আপনার পেট অনেক্ষণ ভর্তি রাখবে।

আরও পড়ুন

সাড়া জাগাচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় ফলকে রোগবালাই ও রাসায়নিক মুক্ত রেখে স্বাদ ও ফলের আসল রং অক্ষুন্ন রাখতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি আম চাষে বিপ্লব ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে এই উপজেলায়। কীটনাশকের বিরুদ্ধে মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এই প্রযুক্তিতে ফল চাষ দিন দিন চাষির মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করছে। লালপুরে এক সময় কীটনাশক ছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনের চিন্তা করতে পারতেন না মৌসুমী ফল চাষীরা।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথাগত পরিবর্তন এসেছে ফল উৎপাদনে। উৎপাদিত ফল রফতানির চিন্তা মাথায় রেখে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে চিরাচরিত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে এখানকার চাষিরা বেছে নিচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। সকালে উপজেলা বিজয়পুর এলাকার কমরুজ্জামান লাভলুর আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে বাবুই পাখির বাসার মতো প্রতিটা আমের গাছে হলুদ ও সাদা রঙ্গের ব্যাগ ঝুলছে কাছে গিয়ে দেখা যায় ব্যাগের মধ্যে আম রয়েছে।

কথা হয় বাগান মালিক আম চাষি কামরুজ্জামান লাভলু সঙ্গে তিনি বলেন, বিষমুক্ত আম উৎপাদনের একমাত্র উপায় ফ্রুট ব্যাগিং। গত বছর ১০ বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে লাভবান হওয়ায় এবার প্রায় ১৬ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে (বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আম ঢেকে রাখা) ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন তিনি। বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা গাছে থাকা অবস্থায় ফলকে আবৃত করে রাখাটাই ফ্রুট ব্যাগিং। ফলের একটা নির্দিষ্ট আকারের সময় এই ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

ফল সংগ্রহ পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে। এই ব্যাগটি বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং ও আকারের হয়ে থাকে। তার মতে, কীটনাশক, পোকামাকড় ও বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে রক্ষা করতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এতে আম থাকে বিষমুক্ত। তবে এই পদ্ধতি একটু ব্যয়বহুল হলেও আম বিক্রির লাভ থেকে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। কারণ এই পদ্ধতির আমের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা একটু বেশি দামে হলেও বিষমুক্ত আম কিনতে চান। অনেক আম চাষিই এই পদ্ধতির দিকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। লালপুর ুউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর এই উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে।

বিষমুক্ত ফল উৎপাদনের এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। ফ্রুট ব্যাগিংকৃত

Categories
Uncategorized

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখাতে গুড় না মধু

চিনি আমাদের শরীরের নানা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে দায়ী। ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি বড় কারণ। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তাদেরকে প্রথমেই চিনি বাদ দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। এর বদলে প্রাকৃতিক চিনি, গুড় কিংবা মধু খেতে বলা হয়।

মিষ্টি না খেয়ে কি থাকা যায়! তাই তো প্রতিদিনের চায়ের কাপে মধু বা গুড় মিশিয়ে খাচ্ছেন। মিষ্টি খাবার তৈরিতে ব্যবহার করছেন গুড়। কিন্তু এই দুই স্বাস্থ্যকর উপাদান অনিয়মিত গ্রহণ করে লাভ নেই, বরং তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কোনটা বেশি উপকারী এবং প্রতিদিন কতটুকু গ্রহণ করা যাবে তা জেনে রাখাও জরুরি। বিস্তারিত প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মধু এবং গুড় চিনির বদলে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগক্ষেত্রেই আমরা এতে কতটা ক্যালোরি আছে তা খেয়াল করতে ভুলে যাই। আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন তবে ক্যালোরি গণনা করা এবং ঝরানো দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গুড় কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?
গুড় আমাদের দেশীয় মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা সাদা চিনির পরিবর্তে গুড় বেছে নেন। গুড় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ১, বি ৬ এবং সি প্লাসের সমৃদ্ধ উৎস, এতে ভালো পরিমাণ ফাইবার থাকে যা টক্সিন অপসারণ করে এবং পাচনতন্ত্রকে সহজে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। দিনের শুরুতে এককাপ গরম পানি এবং গুড় দিয়ে শুরু করতে পারেন। এটি হজমশক্তি ভালো করে। গুড়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফেনলিক যৌগও রয়েছে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

চিনির তুলনায় গুড় কতটা স্বাস্থ্যকর?
যেহেতু স্বাদ চিনির তুলনায় কিছুটা কম, তাই বেশিরভাগ লোক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে গুড় খেয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি সাধারণত এককাপ চা বা কফিতে এক চামচ চিনি খেয়ে থাকেন তবে গুড়ের স্বাদে অভ্যস্ত না হলে প্রয়োজনের তুলনায় আরও কিছু যোগ করতে হবে।

গুড়ের মধ্যে চিনির মতো ক্যালোরি থাকে। তাই গুড় বাড়িয়ে খেলে আপনি ক্যালোরি গ্রহণও বাড়িয়ে তুলছেন। গুড়ে সুক্রোজ রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। হতে পারে পুরোনো গুড়ে প্রিজারভেটিভ মেশানো। যা আবার আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক নয়।

ওজন কমানোর জন্য মধু ব্যবহার
চিনি এবং মধু উভয় মিষ্টি – প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া বলে মধুকে একটু বেশিই উপকারী মনে করা হয়। চিনিতে গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজের অনুপাত হলো ৫০-৫০, যেখানে মধুতে কেবল ৩০% গ্লুকোজ এবং ৪০% এর চেয়ে কম ফ্রুক্টোজ থাকে। এতে আরও বেশ কয়েকটি অন্যান্য চিনির অণু রয়েছে যা শরীর দ্বারা হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং সবসময় ফ্যাট হিসাবে সঞ্চিত হয় না। এর অর্থ এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অসুস্থতা রোধকারী হিসাবে পরিচিত। এটি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেস খনিজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতেও কাজ করে। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে তার শরীরকে ডিটক্সাইফাই করে এবং বিপাকক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

খরচ কমাতে
আপনি যদি সংযমের নিয়মটি না মেনে চলেন তবে বড় ক্ষতি করছেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এক টেবিল চামচ মধুতে ৬০-৬৪ ক্যালোরি রয়েছে যা চিনির মতোই। চিনি বা গুড়ের চেয়ে একমাত্র মধু খেলে মিলবে বেশি উপকার কারণ এটি অন্যান্য সুবিধাযুক্ত।

উপসংহার
চিনির বদলে গুড় বা মধু খাওয়া একটি ভাল অভ্যাস-যতক্ষণ না আপনি এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ না করেন। চিনি থেকে দূরে থাকার অভ্যাস আপনাকেই গড়ে তুলতে হবে। প্রাকৃতিক শর্করা বেছে নিতে পারেন। মিষ্টি ফলগুলো খেতে পারেন। স্টিভিয়া, দারুচিনি, খেজুর বা পাম চিনির মতো মশলাও চিনির বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

নারীদেরই নয়, পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হয়

 

নারীদের অন্যতম আর একটি ক্যানসার হলো স্তন ক্যানসার৷ সারা বিশ্বের নারীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত৷ বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার নারী নতুনভাবে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় ১৭ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করছে৷ যে কোনো বয়সের নারীই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন৷ তবে মাঝ বয়সী নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে৷ সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে৷

জার্মান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার নারীর স্তন ক্যানসার নির্ণয় করা হয়, যার মধ্যে মারা যায় ১৭ হাজার৷ নারীদের অন্যান্য ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসারেই হয় সবচেয়ে বেশি নারী৷ এতে মানুষ মারা গেলেও, এ ক্যানসার খুব মারাত্মক নয়৷ কারণ সময় মতো ধরা পড়লে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব৷

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ

স্তনের চামড়ায় ভাজ, লাল হওয়া বা কুচকে যাওয়া, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা বৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হওয়া– স্তনে এ ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার৷ তবে সব টিউমার বা পরিবর্তনই যে ক্যানসারে রূপ নেয়, তা কিন্তু নয়!

মেমোগ্রাফি

‘মেমোগ্রাফি’ এমন একটি পরীক্ষা যাতে স্তনে একেবারে ক্ষুদ্র গিট, চাকা বা মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি ধরা পড়ে৷ তাই সময়মতো মেমোগ্রাফি করানো প্রয়োজন৷ বিশেষকরে পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা নিয়মিত করাতে হবে৷ তাছাড়া প্রত্যেক নারীরই বছরে অন্তত একবার স্ত্রী বিশেষজ্ঞের কাছে স্তন ও জরায়ু পরীক্ষা করানো উচিত৷

নিজেই পরীক্ষা করুন

৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক নারীর নিজেরই নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত৷ এই পরীক্ষা করতে হবে ‘পিরিয়ড’ বা মাসিক হওয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ মাসে অন্তত একবার৷ স্তনের ওপর থেকে নীচে, নীচ থেকে ওপরে এবং এপাশ থেকে ওপাশ– নানাভাবে স্তন দুটি টিপে পরীক্ষা করতে হবে৷ বোঝার চেষ্টা করতে হবে স্তনের ভেতর শক্ত কিছু আছে কিনা৷ তবে স্তনে গিট, চাকা বা টিউমার আছে কিনা তা বোঝার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াই স্রেয়৷

ক্যানসারের জিন

স্তন ক্যানসার হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই৷ তবে কারও পরিবারে মা, খালা, ফুপু বা দাদি-নানীর স্তন ক্যানসার থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ এমনটা হলে সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন৷ অর্থাৎ খামখেয়ালি না করে নিয়মিত ডাক্তারি চেকআপ করানো আর পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার৷

হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মা মারা যান স্তন ক্যানসারে৷ সেই জিন রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনার শরীরে৷ আর সেজন্যই অ্যাঞ্জেলিনা স্তন ক্যানসারকে প্রতিরোধ করতে ‘মাস্টেকটমি’ বা স্তন ব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, অন্য মহিলাদের সচেতন করতে জানিয়েছেন তার নিজের অভিজ্ঞতার কথাও৷

জার্মানির অন্যতম ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. কার্ল হাইৎস ম্যুলার বলেন, ‘গবেষকরা সবসময়ই ব্রেস্ট ক্যানসারের নতুন নতুন জিন খুঁজে পাচ্ছেন৷ তাই এর চিকিৎসাও নির্ভর করে স্তনের টিউমারের ধরণের ওপর৷ মেমোগ্রাফি ব্রেস্ট ক্যানসার নির্ণয় করার জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা৷ তবে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন৷’

প্রকৃতি নারীদের স্তনযুগল উপহার দিয়েছে, যাতে তারা শিশুদের দুধ পান করাতে পারেন৷ তাই অনেকের কাছেই স্তন নারীত্বের প্রতীক৷ তবে এই নারীত্ব ধরে রাখতে প্রয়োজন সচেতনতার৷ জার্মান ক্যানসার সমিতির করা এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রতিদিন আধঘণ্টা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান না করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদি করলে শতকরা ২০

Categories
Uncategorized

নারীদেরই নয়, পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হয়

নারীদের অন্যতম আর একটি ক্যানসার হলো স্তন ক্যানসার৷ সারা বিশ্বের নারীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত৷ বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার নারী নতুনভাবে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় ১৭ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করছে৷ যে কোনো বয়সের নারীই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন৷ তবে মাঝ বয়সী নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে৷ সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে৷

জার্মান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার নারীর স্তন ক্যানসার নির্ণয় করা হয়, যার মধ্যে মারা যায় ১৭ হাজার৷ নারীদের অন্যান্য ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসারেই হয় সবচেয়ে বেশি নারী৷ এতে মানুষ মারা গেলেও, এ ক্যানসার খুব মারাত্মক নয়৷ কারণ সময় মতো ধরা পড়লে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব৷

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ

স্তনের চামড়ায় ভাজ, লাল হওয়া বা কুচকে যাওয়া, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা বৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হওয়া– স্তনে এ ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার৷ তবে সব টিউমার বা পরিবর্তনই যে ক্যানসারে রূপ নেয়, তা কিন্তু নয়!

মেমোগ্রাফি

‘মেমোগ্রাফি’ এমন একটি পরীক্ষা যাতে স্তনে একেবারে ক্ষুদ্র গিট, চাকা বা মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি ধরা পড়ে৷ তাই সময়মতো মেমোগ্রাফি করানো প্রয়োজন৷ বিশেষকরে পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা নিয়মিত করাতে হবে৷ তাছাড়া প্রত্যেক নারীরই বছরে অন্তত একবার স্ত্রী বিশেষজ্ঞের কাছে স্তন ও জরায়ু পরীক্ষা করানো উচিত৷

নিজেই পরীক্ষা করুন

৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক নারীর নিজেরই নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত৷ এই পরীক্ষা করতে হবে ‘পিরিয়ড’ বা মাসিক হওয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ মাসে অন্তত একবার৷ স্তনের ওপর থেকে নীচে, নীচ থেকে ওপরে এবং এপাশ থেকে ওপাশ– নানাভাবে স্তন দুটি টিপে পরীক্ষা করতে হবে৷ বোঝার চেষ্টা করতে হবে স্তনের ভেতর শক্ত কিছু আছে কিনা৷ তবে স্তনে গিট, চাকা বা টিউমার আছে কিনা তা বোঝার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াই স্রেয়৷

ক্যানসারের জিন

স্তন ক্যানসার হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই৷ তবে কারও পরিবারে মা, খালা, ফুপু বা দাদি-নানীর স্তন ক্যানসার থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ এমনটা হলে সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন৷ অর্থাৎ খামখেয়ালি না করে নিয়মিত ডাক্তারি চেকআপ করানো আর পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার৷

হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মা মারা যান স্তন ক্যানসারে৷ সেই জিন রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনার শরীরে৷ আর সেজন্যই অ্যাঞ্জেলিনা স্তন ক্যানসারকে প্রতিরোধ করতে ‘মাস্টেকটমি’ বা স্তন ব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, অন্য মহিলাদের সচেতন করতে জানিয়েছেন তার নিজের অভিজ্ঞতার কথাও৷

জার্মানির অন্যতম ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. কার্ল হাইৎস ম্যুলার বলেন, ‘গবেষকরা সবসময়ই ব্রেস্ট ক্যানসারের নতুন নতুন জিন খুঁজে পাচ্ছেন৷ তাই এর চিকিৎসাও নির্ভর করে স্তনের টিউমারের ধরণের ওপর৷ মেমোগ্রাফি ব্রেস্ট ক্যানসার নির্ণয় করার জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা৷ তবে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন৷’

প্রকৃতি নারীদের স্তনযুগল উপহার দিয়েছে, যাতে তারা শিশুদের দুধ পান করাতে পারেন৷ তাই অনেকের কাছেই স্তন নারীত্বের প্রতীক৷ তবে এই নারীত্ব ধরে রাখতে প্রয়োজন সচেতনতার৷ জার্মান ক্যানসার সমিতির করা এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রতিদিন আধঘণ্টা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান না করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদি করলে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ ক্যানসারের ঝুঁকি কমে৷

পুরুষরা মনে করেন যে, স্তন ক্যানসার কেবল নারীদেরই হয়৷ তাই তারা এ ব্যাপারে মোটেই সচেতন নন৷ পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হয়, যদিও তা তুলনামূলকভাবে নারীদের চেয়ে অনেক কম৷ তাই পুরুষদেরও নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করানো উচিত৷

আরও পড়ুন

যেসব খাবার কাঁচা খাওয়াই উচিত

কিছু খাবার কাঁচা খেলেই অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায় ও স্বাস্থ্যের বাড়তি উপকার হয়। এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খেলে জীবাণু ঘটিত ক্ষতির আশংকাও তেমন নেই। এখানে কাঁচা খাওয়াই উচিত এমনকিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলো।

ব্রোকলি: ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতো, কিন্তু এর রঙ সবুজ। ব্রোকলিতে উচ্চ পরিমাণে সালফোরাফ্যান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যানসার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, প্রদাহ, বিষণ্নতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোকলিকে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খেলে আমাদের শরীর সালফোরাফ্যানকে অধিক দ্রুত শোষণ করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোকলির মতো সবজিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করলে ভিটামিন সি’র মাত্রা কমে যায়। কাঁচা ব্রোকলি খাওয়ার কথা চিন্তাও করতে না পারলে স্টিমিং (সেদ্ধ) করে খেতে পারেন। অন্যান্য কুকিং মেথডের তুলনায় স্টিমিং পুষ্টির ওপর কম প্রভাব ফেলে।

পেঁয়াজ: পেঁয়াজে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে এতে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো উপাদান রয়েছে। খাবারটিতে উচ্চ ঘনত্বে কোয়ারসেটিন থাকে, যা ক্যানসারের বিস্তার ঠেকাতে পারে। লিভিং উইথ অ্যাশলের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ অ্যাশলে ওয়াল্টার বলেন, ‘পেঁয়াজকে কাঁচা খেলে ক্যানসার-বিরোধী উপাদান সর্বোচ্চ হয়। রান্না করলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ফাইটোকেমিক্যালসের উপকারিতা কমে যায়।’ এছাড়া পেঁয়াজ হলো অ্যালিয়াম পরিবারের সবজি, যার মানে হলো এতে অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে- এটি হার্ট ও রক্তনালীর রোগ প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজকে ওভেনে তাপ দিলে এসব হৃদ-বান্ধব উপাদান ৩০ মিনিটের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায়।

রসুন: এটা ঠিক যে কাঁচা রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়, কিন্তু এটার স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে সবসময় কাঁচাই খেতে চাইবেন। পেঁয়াজের মতো রসুনেও হার্ট ও রক্তনালীর রোগপ্রতিরোধকারী অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে, কিন্তু এটাকেও তাপ দিলে কার্যকারিতা কমে যায়। ২০১৯ সালে জার্নাল অব ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রকাশিত গবেষণা মতে, রসুনকে রান্না করলে অ্যালিনেজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রসুনকে ২০ মিনিট ফোটালে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রম কমে যায় ও একমিনিট মাইক্রোওয়েভ করলে ক্যানসার-বিনাশক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়।

ব্লুবেরি: ব্লুবেরি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে ফ্লেভানয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায়। ব্লুবেরিকে কাঁচা খেলে এর সকল উপকারিতা পাবেন। জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ব্লুবেরিকে বেকিং, কুকিং বা প্রুফিংয়ের মাধ্যমে প্রসেস করলে ফ্লেভানয়েড তথা পলিফেনলের মাত্রা কমে যায়। পলিফেনল রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হার্টে রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়, ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দেয়, হজমশক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

লাল ক্যাপসিকাম: যেসব খাবার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী তথা শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায় সেগুলোর একটি হলো লাল ক্যাপসিকাম। লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে

Categories
Uncategorized

যেসব খাবার কাঁচা খাওয়াই উচিত

কিছু খাবার কাঁচা খেলেই অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায় ও স্বাস্থ্যের বাড়তি উপকার হয়। এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খেলে জীবাণু ঘটিত ক্ষতির আশংকাও তেমন নেই। এখানে কাঁচা খাওয়াই উচিত এমনকিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলো।

ব্রোকলি: ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতো, কিন্তু এর রঙ সবুজ। ব্রোকলিতে উচ্চ পরিমাণে সালফোরাফ্যান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যানসার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, প্রদাহ, বিষণ্নতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোকলিকে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খেলে আমাদের শরীর সালফোরাফ্যানকে অধিক দ্রুত শোষণ করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোকলির মতো সবজিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করলে ভিটামিন সি’র মাত্রা কমে যায়। কাঁচা ব্রোকলি খাওয়ার কথা চিন্তাও করতে না পারলে স্টিমিং (সেদ্ধ) করে খেতে পারেন। অন্যান্য কুকিং মেথডের তুলনায় স্টিমিং পুষ্টির ওপর কম প্রভাব ফেলে।

পেঁয়াজ: পেঁয়াজে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে এতে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো উপাদান রয়েছে। খাবারটিতে উচ্চ ঘনত্বে কোয়ারসেটিন থাকে, যা ক্যানসারের বিস্তার ঠেকাতে পারে। লিভিং উইথ অ্যাশলের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ অ্যাশলে ওয়াল্টার বলেন, ‘পেঁয়াজকে কাঁচা খেলে ক্যানসার-বিরোধী উপাদান সর্বোচ্চ হয়। রান্না করলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ফাইটোকেমিক্যালসের উপকারিতা কমে যায়।’ এছাড়া পেঁয়াজ হলো অ্যালিয়াম পরিবারের সবজি, যার মানে হলো এতে অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে- এটি হার্ট ও রক্তনালীর রোগ প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজকে ওভেনে তাপ দিলে এসব হৃদ-বান্ধব উপাদান ৩০ মিনিটের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায়।

রসুন: এটা ঠিক যে কাঁচা রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়, কিন্তু এটার স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে সবসময় কাঁচাই খেতে চাইবেন। পেঁয়াজের মতো রসুনেও হার্ট ও রক্তনালীর রোগপ্রতিরোধকারী অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে, কিন্তু এটাকেও তাপ দিলে কার্যকারিতা কমে যায়। ২০১৯ সালে জার্নাল অব ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রকাশিত গবেষণা মতে, রসুনকে রান্না করলে অ্যালিনেজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রসুনকে ২০ মিনিট ফোটালে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রম কমে যায় ও একমিনিট মাইক্রোওয়েভ করলে ক্যানসার-বিনাশক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়।

ব্লুবেরি: ব্লুবেরি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে ফ্লেভানয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায়। ব্লুবেরিকে কাঁচা খেলে এর সকল উপকারিতা পাবেন। জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ব্লুবেরিকে বেকিং, কুকিং বা প্রুফিংয়ের মাধ্যমে প্রসেস করলে ফ্লেভানয়েড তথা পলিফেনলের মাত্রা কমে যায়। পলিফেনল রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হার্টে রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়, ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দেয়, হজমশক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

লাল ক্যাপসিকাম: যেসব খাবার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী তথা শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায় সেগুলোর একটি হলো লাল ক্যাপসিকাম। লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে একটি কমলার প্রায় তিনগুণ ভিটামিন সি পাবেন। কিন্তু এটাকেও রান্না করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যানুসারে, লাল ক্যাপসিকামে অন্যান্য ক্যাপসিকামের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

আরও পড়ুন

সকালের ৫ কাজ বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

এই মহামারীতে আমরা সবাই কিছু না কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরী এবং আরও সচল রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাসেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে আপানার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক মূল্যবান হাতিযার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এটিও সত্য যে, একদিনে আপনি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারবেন না। এটি সময়ের সাথে সাথে তৈরি হবে। আর সেজন্য জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দিনের শুরু অর্থ্যাৎ সকাল হতেই একটি স্বাস্থ্যসম্মত রুটিন অনুসরণ করা উচিত যাতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে। কিভাবে দিনটি শুরু করবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলবেন ৫ টি উপায় প্রকাশ করছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করুন
আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠতে অলসতা লাগে তাহলে বিছানা থেকেই কিছু যোগব্যায়াম করে নিতে পারেন। যেমন- শিশুদের ন্যায় অঙ্গবিক্ষেপ করা অর্থ্যাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পিছনে হাত নিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরে রাখা। এসব যোগব্যায়াম আপনার পেশিকে মজবুত এবং মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে। এরকম কিছুক্ষণ অঙ্গবিক্ষেপ করার পর সোজা হয়ে বসুন এবং মনকে শিথিল করার জন্য শ্বাস প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করুন। এভাবে রাতের ঘুমের পরে শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলুন।

প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার
তেল ব্যবহার করা একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক কৌশল। মুখে প্রায় ৪-৬ মিনিটের জন্য ঠান্ডা নারিকেল তেল ঢেলে রেখে দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলে যে লরিক অ্যাসিড রয়েছে সেটি মুখের ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাটি স্তরটি ভেঙে ফেলে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন কৌশলটি মেনে চলবেন। সকালে ঘুম ভাঙার ঠিক পরে খালি পেটে এটি করা উচিত।

নিজেকে হাইড্রেট রাখুন
আমরা সবাই জানি যে সুস্থ থাকার জন্য নিজেদেরকে হাইড্রেটেড রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই দুই গ্লাস পানি পান করুন। এমনকি আরও বেশি উপকারিতার জন্য আপনি ইচ্ছে করলে লেবুর পানি, মধুর পানি কিংবা কাঁচা হলুদের পানি পান করতে পারেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
সকালে ব্যায়াম করা অলসতা দূর করার অন্যতম সেরা উপায়। দিনের শুরুতে ৩০-৪০ মিনিট শরীরচর্চা করলে সারাদিন নিজেকে সতেজ রাখতে পারবেন। এতে আপনার শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে হাঁটা, জগিং, সাইক্লিংয়ের মতো শরীরচর্চা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং তারপরে শরীরের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেকফাস্ট করুন
ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তাকে বলা হয় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। স্বাস্থ্যসম্মত

Categories
Uncategorized

সকালের ৫ কাজ বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

এই মহামারীতে আমরা সবাই কিছু না কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরী এবং আরও সচল রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাসেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে আপানার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক মূল্যবান হাতিযার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এটিও সত্য যে, একদিনে আপনি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারবেন না। এটি সময়ের সাথে সাথে তৈরি হবে। আর সেজন্য জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দিনের শুরু অর্থ্যাৎ সকাল হতেই একটি স্বাস্থ্যসম্মত রুটিন অনুসরণ করা উচিত যাতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে। কিভাবে দিনটি শুরু করবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলবেন ৫ টি উপায় প্রকাশ করছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করুন
আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠতে অলসতা লাগে তাহলে বিছানা থেকেই কিছু যোগব্যায়াম করে নিতে পারেন। যেমন- শিশুদের ন্যায় অঙ্গবিক্ষেপ করা অর্থ্যাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পিছনে হাত নিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরে রাখা। এসব যোগব্যায়াম আপনার পেশিকে মজবুত এবং মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে। এরকম কিছুক্ষণ অঙ্গবিক্ষেপ করার পর সোজা হয়ে বসুন এবং মনকে শিথিল করার জন্য শ্বাস প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করুন। এভাবে রাতের ঘুমের পরে শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলুন।

প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার
তেল ব্যবহার করা একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক কৌশল। মুখে প্রায় ৪-৬ মিনিটের জন্য ঠান্ডা নারিকেল তেল ঢেলে রেখে দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলে যে লরিক অ্যাসিড রয়েছে সেটি মুখের ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাটি স্তরটি ভেঙে ফেলে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন কৌশলটি মেনে চলবেন। সকালে ঘুম ভাঙার ঠিক পরে খালি পেটে এটি করা উচিত।

নিজেকে হাইড্রেট রাখুন
আমরা সবাই জানি যে সুস্থ থাকার জন্য নিজেদেরকে হাইড্রেটেড রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই দুই গ্লাস পানি পান করুন। এমনকি আরও বেশি উপকারিতার জন্য আপনি ইচ্ছে করলে লেবুর পানি, মধুর পানি কিংবা কাঁচা হলুদের পানি পান করতে পারেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
সকালে ব্যায়াম করা অলসতা দূর করার অন্যতম সেরা উপায়। দিনের শুরুতে ৩০-৪০ মিনিট শরীরচর্চা করলে সারাদিন নিজেকে সতেজ রাখতে পারবেন। এতে আপনার শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে হাঁটা, জগিং, সাইক্লিংয়ের মতো শরীরচর্চা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং তারপরে শরীরের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেকফাস্ট করুন
ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তাকে বলা হয় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেকফাস্ট হিসেবে প্রোটিন, কার্বস, ফ্যাট এবং ফাইবার জাতীয় খাবার রাখুন। আপনার সকালের নাস্তার প্লেটে কিছু টাটকা ফল, শস্য এবং শাকসবজী জাতীয় খাবার রাখতে ভুলবেন না কিন্তু।

 

আরও পড়ুন

আপেল সাইডার ভিনেগারের উপকারিতা

আপেল সাইডার ভিনেগার আপেলের রস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এটি অত্যন্ত অম্লীয় এবং তীব্র গন্ধযুক্ত, অনেকটা পুরোনো ওয়াইনের মতো। পানীয়টি ভিটামিন সি এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে ঠান্ডার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আপেল সাইডার ভিনেগারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নানা উপায় রয়েছে। পানীয়টিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং প্রিবায়োটিক রয়েছে যা প্রতিরোধ ক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং দেহে ক্ষয়কারী রোগজীবাণুগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে সহায়তা করে। এটি ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকেসচল রাখে এবং প্রচলন বাড়ায়, যা শরীরের নানা সমস্যা দ্রুত বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহারের ৩টি উপায়-

সকালে আপেল সাইডার ভিনেগার পান
আপেল সাইডার ভিনেগার আপনার শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে। সকালে আপেল সাইডার ভিনেগার পান করলে তা অন্ত্রের উন্নতি করে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

মধু দিয়ে আপেল সাইডার ভিনেগার
মধুর সাথে আপেল সাইডার ভিনেগার হলো ঠান্ডার জন্য একটি জনপ্রিয় প্রতিকার। প্রতিকারটি শীতকালীন নানা রোগের চিকিৎসা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যুগে যুগে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আপনি সহজেই এটি তৈরি করতে পারবেন। এক গ্লাসে পাঁচ ভাগের এক ভাগ আপেল সাইডার ভিনেগার এবং বাকি চার ভাগ হালকা গরম পানি নিন। এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

আপেল সাইডার ভিনেগার পিল
আপনি যদি আপেল সাইডার ভিনেগারের স্বাদ পছন্দ না করেন, তবে আপেল সাইডার ভিনেগার পিল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। যদিও পিলগুলোতে একই পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে না, তবে একইরকম সুবিধা দিতে পারে।

খেয়াল রাখুন
খাওয়ার আগে সব সময় আপেল সাইডার ভিনেগার পাতলা

Categories
Uncategorized

আপেল সাইডার ভিনেগারের উপকারিতা

আপেল সাইডার ভিনেগার আপেলের রস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এটি অত্যন্ত অম্লীয় এবং তীব্র গন্ধযুক্ত, অনেকটা পুরোনো ওয়াইনের মতো। পানীয়টি ভিটামিন সি এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে ঠান্ডার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আপেল সাইডার ভিনেগারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নানা উপায় রয়েছে। পানীয়টিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং প্রিবায়োটিক রয়েছে যা প্রতিরোধ ক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং দেহে ক্ষয়কারী রোগজীবাণুগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে সহায়তা করে। এটি ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকেসচল রাখে এবং প্রচলন বাড়ায়, যা শরীরের নানা সমস্যা দ্রুত বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহারের ৩টি উপায়-

সকালে আপেল সাইডার ভিনেগার পান
আপেল সাইডার ভিনেগার আপনার শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে। সকালে আপেল সাইডার ভিনেগার পান করলে তা অন্ত্রের উন্নতি করে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

মধু দিয়ে আপেল সাইডার ভিনেগার
মধুর সাথে আপেল সাইডার ভিনেগার হলো ঠান্ডার জন্য একটি জনপ্রিয় প্রতিকার। প্রতিকারটি শীতকালীন নানা রোগের চিকিৎসা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যুগে যুগে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আপনি সহজেই এটি তৈরি করতে পারবেন। এক গ্লাসে পাঁচ ভাগের এক ভাগ আপেল সাইডার ভিনেগার এবং বাকি চার ভাগ হালকা গরম পানি নিন। এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

আপেল সাইডার ভিনেগার পিল
আপনি যদি আপেল সাইডার ভিনেগারের স্বাদ পছন্দ না করেন, তবে আপেল সাইডার ভিনেগার পিল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। যদিও পিলগুলোতে একই পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে না, তবে একইরকম সুবিধা দিতে পারে।

খেয়াল রাখুন
খাওয়ার আগে সব সময় আপেল সাইডার ভিনেগার পাতলা করে নিন। এটি সরাসরি গ্রহণ করলে তা আপনার খাদ্যনালী এবং অভ্যন্তরীণ খাদ্যের আস্তরণের ক্ষতি করতে পারে।

আরও পড়ুন

জিমের বিকল্প ঘুম

আকর্ষণীয় কে না হতে চায়! কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া কিংবা অনিয়মের চলাফেরার কারণে সেটা অনেক সময় হয়ে উঠে না বেড়ে যায় মেদ। তবে জিম সেন্টারে গিয়ে শরীরচর্চা কিংবা খাওয়া-দাওয়ায় রাশ না টানলেও ছোটখাটো বেশ কিছু ফ্যাক্টর থাকে, যা আপনাকে করে তুলতে পারে আকর্ষণীয়।

শরীর সুন্দর রাখতে হলে প্রথমেই যেটা দরকার, তা হলো পর্যাপ্ত ঘুম। হ্যাঁ, নিয়মিত ব্যায়াম ও ক্যালোরিতে কাটছাঁট করার পাশাপাশি দরকার যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম। তবে শুধু ঘুমোলেই হবে না, তার সঙ্গে মেনে চলতে হবে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নিয়ম। তবেই সামগ্রিকভাবে ফল পাবেন। আসুন জেনে নিই সেই নিয়মগুলো-

ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রথমেই দেখে নিন, আপনার ঘর অন্ধকার রয়েছে কি না। লাইট নেভানোর পাশাপাশি দেখে নিন ঘরের জানালাগুলোতে পর্দার অবস্থান যেন ঠিক থাকে। এসবের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। অন্ধকার ঘর শরীরে মেলাটনিন তৈরিতে সাহায্য করে। যা প্রভাবিত করে মেটাবলিক রেটকে। মেদ কমাতে সাহায্য করে।

বিছানায় যান তাড়াতাড়ি। গভীর ঘুম শরীরের ক্যালোরি বেশি পোড়াতে সাহায্য করে। যত বেশি গভীর ঘুম হবে, তত বেশি কমবে শরীরের মেদ। কারণ, গভীর ঘুমের সময় ব্রেন সবথেকে বেশি অ্যাকটিভ থাকে। যা শরীরের এনার্জি ব্যবহার করে বডি ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

শুতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আপনার ঘরের কুলার টেম্পারেচার। কারণ, শরীরে যে ব্রাউন ফ্যাট থাকে যা পরিচিত ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু হিসেবেও তা ঠান্ডা পরিবেশে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। যা ফ্যাট সেল গুলি পোড়াতে সাহায্য করে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিয়ে নিন গ্রিন টি। ক্যাফেইন থাকার কারণে গ্রিন টি মেটাবলিজম রেট বাড়ায়। ফলে দ্রুত ক্যালোরি বার্ন হয়।

সবশেষে যেটা না করলেই নয়, তা হলো বিছানায় গিয়ে নিজের প্রিয় ইলেকট্রিক ডিভাইস যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব বন্ধ করে দিন। কারণ এই জিনিসগুলোই আপনাকে ভালো ঘুম থেকে দূরে রাখে। ফোনের ব্লু লাইট শরীর থেকে

Categories
Uncategorized

ওজন নিয়ন্ত্রণে কলা

নানা কারণে মানুষের সুস্থ থাকা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সচেতন থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে অনেক ভালো থাকতে পারেন যে কেউ। সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সকালেই কলা খেতে। অ্যাসিডিটি হওয়ার ভয় থাকলে তার আগে এক মুঠো মুড়ি খান।

সকালে উঠে একগ্লাস উষ্ণ গরমপানি পান করুন। গরমপানি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান এক মুঠো মুড়ি। এরপর ১৫ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড কিছু এক্সসারসাইজ করে কলা ও আমন্ড খান। এতে শরীর থাকবে সুস্থ। থাকবে না গ্যাস অম্বলের ভয়।

কলায় রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী পটাসিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম। তা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ক্ষিদে দূরে রাখে। প্রতিদিনই কলা খাওয়া যায়। কিন্তু খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে: অনেকেই মনে করেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে অনেকেই কলা বাদ দিয়ে দেন।

আমরা যে আবহাওয়া থেকে থাকি, সেই আবহাওয়াতে সবচেয়ে পুষ্টিকর ফল হল কলা। রক্তচাপ ঠিক রাখা থেকে শুরু করে হার্টের সমস্যা সবই দূরে রাখে কলা। এছাড়াও পাকা হলুদ কলায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ব্রেকফাস্টে কলা : ব্রেকফাস্টে ডিম, টোস্ট কিংবা কর্নফ্লেক্সের সঙ্গে অনেকেই কলা খান। এতে যেমন পেট ভরা থাকে তেমন পুষ্টিও পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা অবশ্যই কলা খাবেন ব্রেকফাস্টে। হজমের সমস্যা থাকলেও কলা খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কলা সবসময় হেলদি ফ্যাটের সঙ্গে খেতে হবে। পিনাট বাটার, ইয়োগার্ট কিংবা পরিজের সঙ্গে কলা খান।

খালি পেটে কলা নয়: কলা খাওয়ার আগে একমুঠো শুকনো মুড়ি কিংবা দুটো ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুট অবশ্যই খান। কলাতে ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক সুগার থাকে।

আর যে কারণে খালি পেটে কলা খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে যায়। ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যখানে অনেক সময়ই বেশি গ্যাপ হয়ে যায়। সেই গ্যাপটা পূরণ করে দেয় কলা। কারণ কলায় থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে: পেট পরিষ্কার না হলে আরও নানা সমস্যা দেখা যায় শরীরে। যে কারণে সকালে উঠেই যাতে পেট পরিষ্কার হয় সেইদিকে খেয়াল রাখতেই হবে। যাদের আলসারের মতো সমস্যা রয়েছে, যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন তাদের নিয়ম করে কলা খেতে হবে।

তবে আপনি যদি সকালে একদম খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই বেরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে এবং ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

শরীরে পানির চাহিদা পূরণে কলা: আগের রাতে বেশি তেল মশলাদার খাবার খাওয়া হলে কিংবা একটু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল খাওয়া হয়ে গেলে পরেরদিনও তার একটা প্রভাব থেকে যায়।

কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আর কলা, মধু দিয়ে তৈরি স্মুদি স্নায়ুর উত্তেজনা কমায়। যে কারণে স্মুদি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সুস্থ থাকতে।

 

আরও পড়ুন

৮ ধরনের র‌্যাশ বলে দিবে করোনার লক্ষণ

শুষ্ক কাশি থেকে শুরু করে গন্ধের অনুভূতি হ্রাস পর্যন্ত, বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে যা করোনভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যায়। আর এবার লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডন এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টসের গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িও কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে ত্বকের ৮ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ রোগে ত্বকের র‌্যাশ বিষয়ক গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চর্ম বিশেষজ্ঞ ডা. ভেরোনিক বাটাইল বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ এর র‌্যাশ গ্যালারি তৈরি করেছি, যাতে চিকিৎসকরা এবং আগ্রহী যেকেউ এতে অ্যাকসেস করতে পারে। এটি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ র‌্যাশ শনাক্ত করতে তাদের সহায়তা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় পাওয়া গেছে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িগুলো জ্বর কিংবা কাশির তুলনায় করোনার আরো বেশি পূর্বাভাস হতে ওঠতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আমরা দেখতে পেয়েছি, প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন শিশুর করোনার কমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই র‌্যাশ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কোভিড-১৯ র‌্যাশগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে, র‌্যাশ খুব চুলকানির হলে নির্ধারিত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।’

র‌্যাশের ছবিগুলো ‘কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপ’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অ্যাপটি মার্চ মাসে বিজ্ঞানীদের কোভিড-১৯ এর লক্ষণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল।

গবেষকরা মতে, ৮ ধরনের র‌্যাশ কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ হতে পারে। কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপের তথ্যানুসারে, করোনাভাইরাসের প্রায় ৯ শতাংশ রোগী তাদের শরীর বা পায়ের আঙুলে র‌্যাশের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে র‌্যাশের ঘটনা ছিল দ্বিগুণ।

যে ৮ ধরনের র‌্যাশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে

১. কোভিড ডিজিটস: ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তনগুলো চিলব্রেন হিসেবে পরিচিত। কোভিড-১৯ রোগের আগে ত্বকের এ সমস্যাটি খুব বিরল ছিল। কারণ এটি কেবল হিমশীতল তাপমাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিংবা যাদের হাতের বা পায়ের আঙুলে রক্ত সঞ্চালন সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে দেখা যেত।

২. ঘাড় এবং বুকে একজিমা: এ ধরনের র‌্যাশ ঘাড় এবং বুকে দেখা দেয়। সাধারণত এটি গোলাপী রঙের হয় এবং এতে খুব চুলকানি হয়ে থাকে।

৩. ঠোঁটে ঘা: করোনার উপসর্গ হিসেবে ঠোঁটে ঘা হতে পারে। ঘা শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে উঠতে পারে। মুখের ভেতরে ব্যাথাও হতে পারে।

৪. পাপুলার এবং ভেসিকুলার: এই র‌্যাশ প্রথম লাল হিসেবে দেখা দেয় এবং শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। যেমন: কনুই এবং হাঁটুর পাশাপাশি হাত এবং পায়ের পেছনের অংশে। এটি খারাপ ঘামাচির মতো দেখাতে পারে।

. পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া: ত্বকে পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া সমস্যাটি মূলত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করা হয়, যদি বিষয়টি কখনো প্রমাণিত হয়নি। এটি সাধারণত তরুণ বয়সীদের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি একটি হেরাল্ড প্যাচ দিয়ে শুরু হয় এবং কিছুদিনের মধ্যে গলার নিচ থেকে এবং পায়ে ছোট ছোট প্যাচ দেখা দেয়।

৬. পুরপুরিক: এ ধরনের প্যাটার্ন সহজেই শনাক্ত করা যায়। কারণ এতে ত্বকে একাধিক গভীর লাল বা রক্তবর্ণ দাগ তৈরি হয়। এটি ক্ষতের মতো প্যাচগুলোর কারণ হতে পারে।

৭. আর্টিকেরিয়াল: আর্টিকেরিয়াল র‌্যাশ করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যেতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার দীর্ঘসময় পরও এই র‌্যাশ থেকে যেতে পারে। এতে ত্বক চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ও ভীষণ চুলকায়। এটি হঠাৎ করে শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।

৮. ভাইরাল এক্স্যান্থেম: ভাইরাল সংক্রমণে ত্বকের পরিচিত র‌্যাশ এটি। এতে লালচে দাগের অসংখ্য র‌্যাশ তৈরি হয়।

গবেষণার তথ্যমতে, এসব র‌্যাশ করোনার অন্যান্য উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগে বা পরে ত্বকে

Categories
Uncategorized

৮ ধরনের র‌্যাশ বলে দিবে করোনার লক্ষণ

শুষ্ক কাশি থেকে শুরু করে গন্ধের অনুভূতি হ্রাস পর্যন্ত, বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে যা করোনভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যায়। আর এবার লন্ডনের কিংস কলেজ লন্ডন এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টসের গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িও কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে ত্বকের ৮ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ রোগে ত্বকের র‌্যাশ বিষয়ক গবেষণার নেতৃত্বদানকারী চর্ম বিশেষজ্ঞ ডা. ভেরোনিক বাটাইল বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ এর র‌্যাশ গ্যালারি তৈরি করেছি, যাতে চিকিৎসকরা এবং আগ্রহী যেকেউ এতে অ্যাকসেস করতে পারে। এটি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ র‌্যাশ শনাক্ত করতে তাদের সহায়তা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় পাওয়া গেছে, ত্বকের র‌্যাশ বা ফুসকুড়িগুলো জ্বর কিংবা কাশির তুলনায় করোনার আরো বেশি পূর্বাভাস হতে ওঠতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আমরা দেখতে পেয়েছি, প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন শিশুর করোনার কমন কোনো উপসর্গ ছাড়াই র‌্যাশ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কোভিড-১৯ র‌্যাশগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে, র‌্যাশ খুব চুলকানির হলে নির্ধারিত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।’

র‌্যাশের ছবিগুলো ‘কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপ’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অ্যাপটি মার্চ মাসে বিজ্ঞানীদের কোভিড-১৯ এর লক্ষণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল।

গবেষকরা মতে, ৮ ধরনের র‌্যাশ কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ হতে পারে। কোভিড সিম্পটম স্ট্যাডি অ্যাপের তথ্যানুসারে, করোনাভাইরাসের প্রায় ৯ শতাংশ রোগী তাদের শরীর বা পায়ের আঙুলে র‌্যাশের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে র‌্যাশের ঘটনা ছিল দ্বিগুণ।

যে ৮ ধরনের র‌্যাশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে

১. কোভিড ডিজিটস: ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তনগুলো চিলব্রেন হিসেবে পরিচিত। কোভিড-১৯ রোগের আগে ত্বকের এ সমস্যাটি খুব বিরল ছিল। কারণ এটি কেবল হিমশীতল তাপমাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিংবা যাদের হাতের বা পায়ের আঙুলে রক্ত সঞ্চালন সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে দেখা যেত।

২. ঘাড় এবং বুকে একজিমা: এ ধরনের র‌্যাশ ঘাড় এবং বুকে দেখা দেয়। সাধারণত এটি গোলাপী রঙের হয় এবং এতে খুব চুলকানি হয়ে থাকে।

৩. ঠোঁটে ঘা: করোনার উপসর্গ হিসেবে ঠোঁটে ঘা হতে পারে। ঘা শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে উঠতে পারে। মুখের ভেতরে ব্যাথাও হতে পারে।

৪. পাপুলার এবং ভেসিকুলার: এই র‌্যাশ প্রথম লাল হিসেবে দেখা দেয় এবং শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। যেমন: কনুই এবং হাঁটুর পাশাপাশি হাত এবং পায়ের পেছনের অংশে। এটি খারাপ ঘামাচির মতো দেখাতে পারে।

. পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া: ত্বকে পিটাইরিয়াসিস রোজিয়া সমস্যাটি মূলত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করা হয়, যদি বিষয়টি কখনো প্রমাণিত হয়নি। এটি সাধারণত তরুণ বয়সীদের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি একটি হেরাল্ড প্যাচ দিয়ে শুরু হয় এবং কিছুদিনের মধ্যে গলার নিচ থেকে এবং পায়ে ছোট ছোট প্যাচ দেখা দেয়।

৬. পুরপুরিক: এ ধরনের প্যাটার্ন সহজেই শনাক্ত করা যায়। কারণ এতে ত্বকে একাধিক গভীর লাল বা রক্তবর্ণ দাগ তৈরি হয়। এটি ক্ষতের মতো প্যাচগুলোর কারণ হতে পারে।

৭. আর্টিকেরিয়াল: আর্টিকেরিয়াল র‌্যাশ করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যেতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার দীর্ঘসময় পরও এই র‌্যাশ থেকে যেতে পারে। এতে ত্বক চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ও ভীষণ চুলকায়। এটি হঠাৎ করে শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।

৮. ভাইরাল এক্স্যান্থেম: ভাইরাল সংক্রমণে ত্বকের পরিচিত র‌্যাশ এটি। এতে লালচে দাগের অসংখ্য র‌্যাশ তৈরি হয়।

গবেষণার তথ্যমতে, এসব র‌্যাশ করোনার অন্যান্য উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগে বা পরে ত্বকে দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো সংক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পরে হতে পারে।

ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্টসের প্রেসিডেন্ট ডা. তানিয়া ব্লিকার বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু র‌্যাশ এবং কোভিড-১৯ এর মধ্যে যোগসূত্র ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। করোনার বিস্তার রোধে এগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন

মেদ কমানোর কিছু পরিচিত খাবার

পেটের চর্বি খুবই অস্বস্তিকর ও বিভিন্ন রোগের কারণ। শরীরে মেদ জমলে চলাফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি সৌন্দর্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে পেটে মেদ জমলে ভালো পোশাক পরলেও সুন্দর দেখায় না। অতিরিক্ত তেল-মসলাজাতীয় খাবার খাওয়া ও খাবারে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে পেটে মেদ জমতে পারে।

পেটের মেদ ঝরানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন করা দরকার। খাদ্যাভাস আর নিয়মিত শরীর চর্চা একসঙ্গে মিলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি ক্যালরি ধ্বংস করবে। যদি কেউ সত্যিকার অর্থে পেটের মেদ ঝরাতে চান তাহলে অবশ্যই উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন স্বাদযুক্ত খাবার খাওয়া পরিত্যাগ করতে হবে।

কিছু খাবার আছে যেগুলো পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। যেমনঃ

টক দই

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের পেট কিছুটা ফুলে থাকে। প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ফলে এর প্রোবায়োটিকস উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়া হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া টক দেই কোমর ও পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুন্দর পেটের জন্য প্রতিদিন টক দেই খাওয়া বেশ উপকারী।

শস্যজাতীয় খাবার

পরিশোধিত শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার বদলে অপরিশোধিত শস্য থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যারা অপরিশোধিত শস্যের তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে যে কোনো পেটের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা কম।

কাঠবাদাম

ক্যালরি রোধ করতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। গবেষণায় দেখা গেছে, কোষে মেদ শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে কাঠবাদাম।

শসা

শরীরের মেদ কমাতে শসার কার্যকারীতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। শসায় আছে ক্যাফেইক অ্যাসিড যা শরীরে পানি জমা বা গ্যাসের কারণে হওয়া ফাঁপাভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই পেট কমাতে এই সবজি বেশ কার্যকর।

সবুজ শাকসবজি

মাংসপেশির গঠনে জরুরি উপাদান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে। শক্তি জোগাতেও ভালো কাজ করে। তাছাড়া সবজিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে যা ওজন কমাতে এবং পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

স্যামন মাছ

স্বাস্থ্য গুণে ভরপুর স্যামন মাছে রয়েছে কিছু উপকারী প্রোটিন যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে কিছুক্ষণ পরেই ক্ষুদা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া এর উপাদান পেটের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করবে স্যামন মাছ।

কলা

পেট ও কোমরের কাছে জমে থাকা বাড়তি পানি কমিয়ে পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে কলা। পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের অসামঞ্জস্যতার কারণে শরীরের মাঝামাঝি অংশে বাড়তি পানি জমে থাকে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরের কোষে অতিরিক্ত তরল ধরে রাখে। আর এই সমস্যা কমাতে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। যা এই ফল থেকে পাওয়া যায়।

পানি

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, শরীরের নানান ধরনের সমস্যা

Categories
Uncategorized

মেদ কমানোর কিছু পরিচিত খাবার

পেটের চর্বি খুবই অস্বস্তিকর ও বিভিন্ন রোগের কারণ। শরীরে মেদ জমলে চলাফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি সৌন্দর্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে পেটে মেদ জমলে ভালো পোশাক পরলেও সুন্দর দেখায় না। অতিরিক্ত তেল-মসলাজাতীয় খাবার খাওয়া ও খাবারে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে পেটে মেদ জমতে পারে।

পেটের মেদ ঝরানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভাসে কিছু পরিবর্তন করা দরকার। খাদ্যাভাস আর নিয়মিত শরীর চর্চা একসঙ্গে মিলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি ক্যালরি ধ্বংস করবে। যদি কেউ সত্যিকার অর্থে পেটের মেদ ঝরাতে চান তাহলে অবশ্যই উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন স্বাদযুক্ত খাবার খাওয়া পরিত্যাগ করতে হবে।

কিছু খাবার আছে যেগুলো পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। যেমনঃ

টক দই

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের পেট কিছুটা ফুলে থাকে। প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ফলে এর প্রোবায়োটিকস উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ব্যাক্টেরিয়া হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া টক দেই কোমর ও পেটের মেদ কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুন্দর পেটের জন্য প্রতিদিন টক দেই খাওয়া বেশ উপকারী।

শস্যজাতীয় খাবার

পরিশোধিত শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার বদলে অপরিশোধিত শস্য থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যারা অপরিশোধিত শস্যের তৈরি খাবার খেয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে যে কোনো পেটের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা কম।

কাঠবাদাম

ক্যালরি রোধ করতে সাহায্য করে কাঠবাদাম। গবেষণায় দেখা গেছে, কোষে মেদ শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করে কাঠবাদাম।

শসা

শরীরের মেদ কমাতে শসার কার্যকারীতা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। শসায় আছে ক্যাফেইক অ্যাসিড যা শরীরে পানি জমা বা গ্যাসের কারণে হওয়া ফাঁপাভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই পেট কমাতে এই সবজি বেশ কার্যকর।

সবুজ শাকসবজি

মাংসপেশির গঠনে জরুরি উপাদান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে। শক্তি জোগাতেও ভালো কাজ করে। তাছাড়া সবজিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে যা ওজন কমাতে এবং পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

স্যামন মাছ

স্বাস্থ্য গুণে ভরপুর স্যামন মাছে রয়েছে কিছু উপকারী প্রোটিন যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে সাহায্য করে। ফলে কিছুক্ষণ পরেই ক্ষুদা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া এর উপাদান পেটের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করবে স্যামন মাছ।

কলা

পেট ও কোমরের কাছে জমে থাকা বাড়তি পানি কমিয়ে পেটের আকার স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে কলা। পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের অসামঞ্জস্যতার কারণে শরীরের মাঝামাঝি অংশে বাড়তি পানি জমে থাকে। সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরের কোষে অতিরিক্ত তরল ধরে রাখে। আর এই সমস্যা কমাতে পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। যা এই ফল থেকে পাওয়া যায়।

পানি

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, শরীরের নানান ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রচুর পানি পানের ফলে হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। অপর্যাপ্ত পানি পানের ফলে পেটে ফাঁপা এক ধরনের অনুভূতি হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি প্রচুর রসালো ফল ও সবজিও খাওয়া উচিত।