Categories
খাবার ও রেসিপি

যেসব খাবার কাঁচা খাওয়াই উচিত

কিছু খাবার কাঁচা খেলেই অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায় ও স্বাস্থ্যের বাড়তি উপকার হয়। এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খেলে জীবাণু ঘটিত ক্ষতির আশংকাও তেমন নেই। এখানে কাঁচা খাওয়াই উচিত এমনকিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলো।

ব্রোকলি: ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতো, কিন্তু এর রঙ সবুজ। ব্রোকলিতে উচ্চ পরিমাণে সালফোরাফ্যান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যানসার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, প্রদাহ, বিষণ্নতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার ফুড অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোকলিকে রান্নার পরিবর্তে কাঁচা খেলে আমাদের শরীর সালফোরাফ্যানকে অধিক দ্রুত শোষণ করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোকলির মতো সবজিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করলে ভিটামিন সি’র মাত্রা কমে যায়। কাঁচা ব্রোকলি খাওয়ার কথা চিন্তাও করতে না পারলে স্টিমিং (সেদ্ধ) করে খেতে পারেন। অন্যান্য কুকিং মেথডের তুলনায় স্টিমিং পুষ্টির ওপর কম প্রভাব ফেলে।

পেঁয়াজ: পেঁয়াজে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে এতে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো উপাদান রয়েছে। খাবারটিতে উচ্চ ঘনত্বে কোয়ারসেটিন থাকে, যা ক্যানসারের বিস্তার ঠেকাতে পারে। লিভিং উইথ অ্যাশলের প্রতিষ্ঠাতা ও পুষ্টিবিদ অ্যাশলে ওয়াল্টার বলেন, ‘পেঁয়াজকে কাঁচা খেলে ক্যানসার-বিরোধী উপাদান সর্বোচ্চ হয়। রান্না করলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ফাইটোকেমিক্যালসের উপকারিতা কমে যায়।’ এছাড়া পেঁয়াজ হলো অ্যালিয়াম পরিবারের সবজি, যার মানে হলো এতে অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে- এটি হার্ট ও রক্তনালীর রোগ প্রতিরোধ করে। জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁয়াজকে ওভেনে তাপ দিলে এসব হৃদ-বান্ধব উপাদান ৩০ মিনিটের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায়।

রসুন: এটা ঠিক যে কাঁচা রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হয়, কিন্তু এটার স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে সবসময় কাঁচাই খেতে চাইবেন। পেঁয়াজের মতো রসুনেও হার্ট ও রক্তনালীর রোগপ্রতিরোধকারী অ্যান্টিপ্লাটিলেট এজেন্ট রয়েছে, কিন্তু এটাকেও তাপ দিলে কার্যকারিতা কমে যায়। ২০১৯ সালে জার্নাল অব ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রকাশিত গবেষণা মতে, রসুনকে রান্না করলে অ্যালিনেজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রসুনকে ২০ মিনিট ফোটালে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী কার্যক্রম কমে যায় ও একমিনিট মাইক্রোওয়েভ করলে ক্যানসার-বিনাশক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়।

ব্লুবেরি: ব্লুবেরি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে ফ্লেভানয়েড নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায়। ব্লুবেরিকে কাঁচা খেলে এর সকল উপকারিতা পাবেন। জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ব্লুবেরিকে বেকিং, কুকিং বা প্রুফিংয়ের মাধ্যমে প্রসেস করলে ফ্লেভানয়েড তথা পলিফেনলের মাত্রা কমে যায়। পলিফেনল রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হার্টে রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়, ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দেয়, হজমশক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

লাল ক্যাপসিকাম: যেসব খাবার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী তথা শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায় সেগুলোর একটি হলো লাল ক্যাপসিকাম। লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে একটি কমলার প্রায় তিনগুণ ভিটামিন সি পাবেন। কিন্তু এটাকেও রান্না করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যানুসারে, লাল ক্যাপসিকামে অন্যান্য ক্যাপসিকামের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

আরও পড়ুন

সকালের ৫ কাজ বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

এই মহামারীতে আমরা সবাই কিছু না কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরী এবং আরও সচল রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাসেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু করোনা ভাইরাসের এখনও কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে আপানার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক মূল্যবান হাতিযার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এটিও সত্য যে, একদিনে আপনি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারবেন না। এটি সময়ের সাথে সাথে তৈরি হবে। আর সেজন্য জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দিনের শুরু অর্থ্যাৎ সকাল হতেই একটি স্বাস্থ্যসম্মত রুটিন অনুসরণ করা উচিত যাতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে। কিভাবে দিনটি শুরু করবেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলবেন ৫ টি উপায় প্রকাশ করছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করুন
আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠতে অলসতা লাগে তাহলে বিছানা থেকেই কিছু যোগব্যায়াম করে নিতে পারেন। যেমন- শিশুদের ন্যায় অঙ্গবিক্ষেপ করা অর্থ্যাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পিছনে হাত নিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরে রাখা। এসব যোগব্যায়াম আপনার পেশিকে মজবুত এবং মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে। এরকম কিছুক্ষণ অঙ্গবিক্ষেপ করার পর সোজা হয়ে বসুন এবং মনকে শিথিল করার জন্য শ্বাস প্রশ্বাসের কিছু ব্যায়াম করুন। এভাবে রাতের ঘুমের পরে শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলুন।

প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার
তেল ব্যবহার করা একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক কৌশল। মুখে প্রায় ৪-৬ মিনিটের জন্য ঠান্ডা নারিকেল তেল ঢেলে রেখে দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলে যে লরিক অ্যাসিড রয়েছে সেটি মুখের ব্যাকটেরিয়ার ফ্যাটি স্তরটি ভেঙে ফেলে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রতিদিন কৌশলটি মেনে চলবেন। সকালে ঘুম ভাঙার ঠিক পরে খালি পেটে এটি করা উচিত।

নিজেকে হাইড্রেট রাখুন
আমরা সবাই জানি যে সুস্থ থাকার জন্য নিজেদেরকে হাইড্রেটেড রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই দুই গ্লাস পানি পান করুন। এমনকি আরও বেশি উপকারিতার জন্য আপনি ইচ্ছে করলে লেবুর পানি, মধুর পানি কিংবা কাঁচা হলুদের পানি পান করতে পারেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
সকালে ব্যায়াম করা অলসতা দূর করার অন্যতম সেরা উপায়। দিনের শুরুতে ৩০-৪০ মিনিট শরীরচর্চা করলে সারাদিন নিজেকে সতেজ রাখতে পারবেন। এতে আপনার শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে হাঁটা, জগিং, সাইক্লিংয়ের মতো শরীরচর্চা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং তারপরে শরীরের ধরন এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেকফাস্ট করুন
ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তাকে বলা হয় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। স্বাস্থ্যসম্মত

Categories
খাবার ও রেসিপি

উজ্জ্বলতা ফেরাবে চিনি

ত্বক ফর্সা করতে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন চিনি। স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। তাই রূপচর্চায় চিনির ধারেকাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না। চিনির স্ক্রাব বানাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনই খ্রিস্টাল ক্লিয়ার ত্বকও পাওয়া যায়। শীতে ঠোঁট ফাঁটছে কিংবা গোড়ালি? একটু চিনি গুঁড়া করে নিয়ে ওর মধ্যে লেবুর রস আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান। কয়েকদিনেই সব ভ্যানিশ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে

লেবুর রস, চিনি, মধু, কফির গুঁড়া, চালের গুড়া, বেসন, কাঁচা দুধ আর হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাতে, মুখে, গায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন করুন। সপ্তাহে তিনদিন করতেই পারেন। একমাসেই পাল্টে যাবে পুরনো চেহারা। ত্বকেও আসবে নতুন ছোঁয়া।

বডি স্ক্রাবার

পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড। যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি ও সুগার স্ক্রাব

গ্রিন টিয়ের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। আর তাই চিনি গুড়ো করে গ্রিন টি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ওর মধ্যে অলিভ অয়েল আর মধু মেশান। এবার এই মিশ্রণ ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের মরা কোষ উঠে আসবে।

ওটমিল সুগার স্ক্রাব

যাদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাদের জন্য এই স্ক্রাব খুবই ভালো। মুখের অতিরিক্ত অয়েলকে শুষে নিতে পারে এই স্ক্রাব। ওটস, চিনি আর মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে দু ফোঁটা অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পুরো শুকনা হয়। শুকনো হলেই ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের যত্নে

নারকেল তেল, চিনি আর কফি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন ফুট স্ক্রাবার। এই মিশ্রণটি বানিয়ে কৌটোতে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। পায়ের পাতায় ভালো করে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। দেখবেন ময়লা উঠে গিয়ে পা আগের থেকে অনেক বেশি নরম হয়েছে।

আরও পড়ুন

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখাতে গুড় না মধু

চিনি আমাদের শরীরের নানা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে দায়ী। ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি বড় কারণ। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তাদেরকে প্রথমেই চিনি বাদ দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। এর বদলে প্রাকৃতিক চিনি, গুড় কিংবা মধু খেতে বলা হয়।

মিষ্টি না খেয়ে কি থাকা যায়! তাই তো প্রতিদিনের চায়ের কাপে মধু বা গুড় মিশিয়ে খাচ্ছেন। মিষ্টি খাবার তৈরিতে ব্যবহার করছেন গুড়। কিন্তু এই দুই স্বাস্থ্যকর উপাদান অনিয়মিত গ্রহণ করে লাভ নেই, বরং তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কোনটা বেশি উপকারী এবং প্রতিদিন কতটুকু গ্রহণ করা যাবে তা জেনে রাখাও জরুরি। বিস্তারিত প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মধু এবং গুড় চিনির বদলে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগক্ষেত্রেই আমরা এতে কতটা ক্যালোরি আছে তা খেয়াল করতে ভুলে যাই। আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন তবে ক্যালোরি গণনা করা এবং ঝরানো দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গুড় কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?
গুড় আমাদের দেশীয় মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা সাদা চিনির পরিবর্তে গুড় বেছে নেন। গুড় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ১, বি ৬ এবং সি প্লাসের সমৃদ্ধ উৎস, এতে ভালো পরিমাণ ফাইবার থাকে যা টক্সিন অপসারণ করে এবং পাচনতন্ত্রকে সহজে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। দিনের শুরুতে এককাপ গরম পানি এবং গুড় দিয়ে শুরু করতে পারেন। এটি হজমশক্তি ভালো করে। গুড়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফেনলিক যৌগও রয়েছে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।

চিনির তুলনায় গুড় কতটা স্বাস্থ্যকর?
যেহেতু স্বাদ চিনির তুলনায় কিছুটা কম, তাই বেশিরভাগ লোক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে গুড় খেয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি সাধারণত এককাপ চা বা কফিতে এক চামচ চিনি খেয়ে থাকেন তবে গুড়ের স্বাদে অভ্যস্ত না হলে প্রয়োজনের তুলনায় আরও কিছু যোগ করতে হবে।

গুড়ের মধ্যে চিনির মতো ক্যালোরি থাকে। তাই গুড় বাড়িয়ে খেলে আপনি ক্যালোরি গ্রহণও বাড়িয়ে তুলছেন। গুড়ে সুক্রোজ রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। হতে পারে পুরোনো গুড়ে প্রিজারভেটিভ মেশানো। যা আবার আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক নয়।

ওজন কমানোর জন্য মধু ব্যবহার
চিনি এবং মধু উভয় মিষ্টি – প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া বলে মধুকে একটু বেশিই উপকারী মনে করা হয়। চিনিতে গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজের অনুপাত হলো ৫০-৫০, যেখানে মধুতে কেবল ৩০% গ্লুকোজ এবং ৪০% এর চেয়ে কম ফ্রুক্টোজ থাকে। এতে আরও বেশ কয়েকটি অন্যান্য চিনির অণু রয়েছে যা শরীর দ্বারা হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং সবসময় ফ্যাট হিসাবে সঞ্চিত হয় না। এর অর্থ এটি তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অসুস্থতা রোধকারী হিসাবে পরিচিত। এটি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেস খনিজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করতেও কাজ করে। হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে তার শরীরকে ডিটক্সাইফাই করে এবং বিপাকক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

খরচ কমাতে
আপনি যদি সংযমের নিয়মটি না মেনে চলেন তবে বড় ক্ষতি করছেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এক টেবিল চামচ মধুতে ৬০-৬৪ ক্যালোরি রয়েছে যা চিনির মতোই। চিনি বা গুড়ের চেয়ে একমাত্র মধু খেলে মিলবে বেশি উপকার কারণ এটি অন্যান্য সুবিধাযুক্ত।

উপসংহার
চিনির বদলে গুড় বা মধু খাওয়া একটি ভাল অভ্যাস-যতক্ষণ না

Categories
খাবার ও রেসিপি

কাচা ছোলা খাওয়ার ৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

আরও পড়ুন

উজ্জ্বলতা ফেরাবে চিনি

 

ত্বক ফর্সা করতে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন চিনি। স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। তাই রূপচর্চায় চিনির ধারেকাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না। চিনির স্ক্রাব বানাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনই খ্রিস্টাল ক্লিয়ার ত্বকও পাওয়া যায়। শীতে ঠোঁট ফাঁটছে কিংবা গোড়ালি? একটু চিনি গুঁড়া করে নিয়ে ওর মধ্যে লেবুর রস আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান। কয়েকদিনেই সব ভ্যানিশ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে

লেবুর রস, চিনি, মধু, কফির গুঁড়া, চালের গুড়া, বেসন, কাঁচা দুধ আর হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাতে, মুখে, গায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন করুন। সপ্তাহে তিনদিন করতেই পারেন। একমাসেই পাল্টে যাবে পুরনো চেহারা। ত্বকেও আসবে নতুন ছোঁয়া।

বডি স্ক্রাবার

পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড। যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি ও সুগার স্ক্রাব

গ্রিন টিয়ের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। আর তাই চিনি গুড়ো করে গ্রিন টি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ওর মধ্যে অলিভ অয়েল আর মধু মেশান। এবার এই মিশ্রণ ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের মরা কোষ উঠে আসবে।

ওটমিল সুগার স্ক্রাব

যাদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাদের জন্য এই স্ক্রাব খুবই ভালো। মুখের অতিরিক্ত অয়েলকে শুষে নিতে পারে এই স্ক্রাব। ওটস, চিনি আর মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে দু ফোঁটা অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পুরো শুকনা হয়। শুকনো হলেই ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের যত্নে

নারকেল তেল, চিনি আর কফি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন

Categories
খাবার ও রেসিপি

করোনা থেকে দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ৬ জুস

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটের একটি অংশ হওয়া উচিত ফল ও শাকসবজি। শরীরের যাবতীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি হলো সেরা উপায়।

করোনাভাইরাস শরীরের পাচনতন্ত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে, যা পেটের টিস্যুর ক্ষতি ও প্রদাহ তৈরি করে। তাজা ফল ও শাকসবজি শরীরের হজম ব্যবস্থা সহজেই শোষণ করতে পারে, যা করোনা থেকে সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

এক্ষেত্রে জুস বা শরবত দ্রুত রক্তপ্রবাহে শোষিত হয় বলে, এটি তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক শক্তি পাওয়ার দুর্দান্ত এক উপায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা থেকে সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে বিভিন্ন ধরনের জুস বা শরবত।

দিনে দু-তিনবার শাকসবজি ও ফলের জুস পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ও প্রদাহ কমাতে পারে। এখানে কোভিড-১৯ রোগীদের দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে এমন ৬টি জুস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

টমেটো-পুদিনার জুস: এই জুস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে সমৃদ্ধ এবং খাবার হজম সহায়তা করে। ঘরে টমেটো-পুদিনার জুস তৈরির জন্য ব্লেন্ডারে এক গ্লাস পানির সঙ্গে ৪টি টমেটো ও ৮-১০টি পুদিনা পাতা দিয়ে ভালোভাবে ব্লেড করুন। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে সামান্য লবণ, লেবু ও গোলমরিচ যোগ করতে পারেন।

গাজর, বিটরুট, আমলকী ও আদার জুস: শরীর থেকে টক্সিন দূর ও লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে আমলকী ও গাজর। আমলকীতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই জুস তৈরির জন্য ব্লেন্ডারে ২টি কাটা গাজর, ১টি বিট এবং সামান্য আদা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এর মধ্যে লেবুর রস মেশালেই তৈরি হয়ে হবে স্বাস্থ্যকর জুস।

মোসাম্বি, আনারস ও সবুজ আপেলের জুস: এটি ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমে সহায়তা করে। এই জুস তৈরির জন্য ২টি মোসাম্বি, ২৫০ গ্রাম আনারস এবং ১টি কাটা সবুজ আপেল ব্লেন্ড করুন। এতে সামান্য বিট লবণ দিতে পারেন।

কিউই, স্ট্রবেরি ও মাল্টার জুস: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে ভরপুর এই জুস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দুর্দান্ত। এটি শরীরের রক্তচাপ ঠিক রাখতে সহায়তা করে এবং অসুস্থতা থেকে দূরে রাখে। এই জুস তৈরি করতে ১ কাপ স্ট্রবেরি, খোসা ছাড়ানো ২টি কিউই ফল, ১টি মাল্টা, আধাকাপ পানি ও ১ চা-চাপ মধু ব্লেন্ডারে দিন।

হলুদ, আদা, লেবু ও মাল্টার জুস: এই সবগুলো উপাদানেই অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি তথা প্রদাহ বিরোধী গুণ রয়েছে। সবগুলো উপাদান একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে তৈরি করে নিন জুস।

শসা, পালং শাক, পাথুনি শাক, আদা ও লেবুর জুস: সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই শাকসবজি থাকা উচিত। এটি প্রদাহ হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায়। এই জুস তৈরির জন্য ২টি খোসা ছাড়ানো শসা, ১০০ গ্রাম পালং শাক, ৪টি পাথুনি ডাঁটা এবং ১ ইঞ্চি আদা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

 

আরও পড়ুন

চুল পড়া সমস্যার সমাধান হবে তেলেই

মানুষের শরীরের অন্যতম আকর্ষণ চুল। তবে কখনো কখনো চুল মানুষের অন্যতম চিন্তার কারণও হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৫ জনই চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন। এই চুল পড়ার কিছু প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। চুলের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আয়ুষ্কাল থাকে। চুল গজানোর পর সেটির আয়ুষ্কাল প্রায় ১,০০০ দিন হয়ে থাকে। এরপর স্বভাবতই চুলটি ঝরে পড়ে। ঝরার পাশাপাশি নতুন চুলও প্রতিনিয়ত গজাচ্ছে দেখে চুলের পরিমাণে ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে সঠিক যত্নের অভাবেও চুল পড়া বেড়ে যায় এবং এর ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ ক্রমাগত কমতে থাকে।

শরীরে পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি থাকা ইত্যাদি চুল পড়ার কিছু কারণ। আমাদের সবারই চুলে শ্যাম্পু করার প্রবণতা বেশি। শ্যাম্পু চুল পরিষ্কারের জন্যে অত্যন্ত উপযোগী। তবে চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করাই শ্রেয়। চুলের জন্য বেশ কিছু উপকারী উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত হলেও শ্যাম্পু থেকে আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রয়োজনীয় পুষ্টিটা পাচ্ছিনা, যা আমাদের চুলকে মজবুত করবে। যার ফলে চুল পড়ার সমাধানও হচ্ছেনা। অন্যদিকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করাটিও চুল ক্ষয়ের একটি অন্যতম কারণ। তাই চুল পড়া সমস্যার সমাধান করতে হলে নিতে হবে চুলের সঠিক যত্ন।

চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার সর্বপ্রথম এবং প্রাচীন পন্থা ছিল তেল। এই তেল দেওয়ার জন্য আগের দিনে নানি-দাদীরা আমাদের কতইনা বকতেন! আজ যুগান্তর পেরিয়ে গেলেও চুল পড়ার সমস্যার সমাধান আমরা সেই তেল থেকেই পাই। অনেকের কাছেই চুলের খাবার হিসেবে পরিচিত তেল। চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুনাগুণ পাওয়া যায় তেল থেকে। তবে পাশাপাশি সঠিক তেল নির্বাচন করাটিও খুব জরুরি। ছোটবেলা থেকেই আমরা চুলে নারকেল তেল দিয়ে অভ্যস্ত। চুলে যেমন নারকেলের পুষ্টি প্রয়োজন, ঠিক সমানভাবেই প্রয়োজন আরও কিছু ভেষজ উপাদানের।

নারকেল তেল, কালোজিরা ও মেথির মিশ্রণ: এটি চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কালোজিরা এবং মেথি কড়া রোদে শুকিয়ে একসঙ্গে গুঁড়া করে নিন। এরপর নারকেল তেলের সঙ্গে গুঁড়া করা মেথি ও কালোজিরা মিশিয়ে মিশ্রণটিকে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর একটি কাঁচের বোতলে রেখে দিন। এটি অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে। এই তেল সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন। কয়েক মাসের মধ্যেই উপকার পাওয়া যাবে।

তবে এতটা করার সময় না পেলে ব্যবহার করতে পারেন প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার অ্যান্টি হেয়ারফল অয়েল। এটি দেশের বাজারে এনেছে ম্যারিকো লিমিটেড বাংলাদেশ। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার-এ চুল পড়া কমাতে প্রমাণিত উপাদান নারকেল, মেথি, আমলকি ও অ্যালোভেরার সঠিক মিশ্রণ রয়েছে। এতে আরো আছে বায়ো-অ্যাক্টিভস, যা চুল পড়া কমাতে একদম গোড়া থেকে কাজ করে। এবং চুল পড়া কমায় মাত্র ৪৫ দিনে।

চুল পড়া রোধে শুধু তেল ব্যবহার করলেই হবে না, কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। যেমন ভেজা চুলে গরম তেল মালিশ আরামদায়ক মনে হলেও তা আসলে করা উচিত না। ভেজা চুল ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে থাকে। তাই ভেজা নয় বরং শুষ্ক চুলে তেল ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই মনে করেন মাথায় বেশি তেল দিলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। এটাও ভুল। মাথায় অল্প তেলই কাজ করে। বরং চুলে বেশি তেল দেওয়া মানে হলো বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। এতে চুল আগের চেয়ে রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে।

তেল দেওয়ার পরে চুল জোড়ে আচঁড়ে তা শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুলের গোঁড়া হয়ে

Categories
খাবার ও রেসিপি

বিশ্বের জনপ্রিয় সব খাবার

বিনোদনের জন্য কোনো দেশে ঘুরতে যাবেন হয়তো আপনি। বেড়ানো আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা একটা বড় লক্ষ্য, তবে নতুন দেশে গিয়ে সেখানকার সবচেয়ে মজার খাবারটা নিশ্চয়ই আপনি মিস করতে চাইবেন না। আবার অন্য দেশের জনপ্রিয় কিছু খাবার আপনিও হয়তো ঘরে তৈরি করতে ইচ্ছুক। খাদ্য বিশারদ আর পর্যটকদের বিবেচনায় বিশ্বের কয়েকটি দেশের সেরা কিছু খাবার নিয়ে আজকের আয়োজন।

* সুশি (জাপান): ভিনেগারযুক্ত ভাতের সঙ্গে সি ফুড, সবজি অনেক ক্ষেত্রে ফল যোগ করে তৈরি করা হয় সুশি। জাপানি ওসাবি গাছ, আদা, সয় সস মিশিয়ে তৈরি করলে সুশি বেশি সুস্বাদু হয়। সুশিতে কোন ধরনের মাছ যোগ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে এর স্বাদ। এ খাবার বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয় এখন।

* রেনডাং (ইন্দোনেশিয়া): অনেকের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার রেনডাং। নারিকেলের দুধ দিয়ে হালকা আঁচে রান্না করা গরুর মাংসকে রেনডাং বলে। রান্নার সময় হলুদ, রসুন, লেমনগ্রাস, আদা, মরিচ ও ইন্দোনেশিয়ান হার্ব গালানজাল ব্যবহার করা হয়। প্রায় কয়েক ঘণ্টা স্টিউ করার পর ডিশটার স্বাদ অন্য রকম হয়ে যায়।

* রামেন (জাপান): জাপানের একটি জনপ্রিয় ডিশের নাম রামেন। হুইট নুডলসের সঙ্গে সবজি ও মাংস থাকে রামেনে। মাংসের ঝোলটা কেমন হবে, তার ওপর নির্ভর করে রামেনের স্বাদ। জাপানের একেক অঞ্চলে তাই এর স্বাদ একেক রকম দেখা যায়।

* টম ইয়াম গুং (থাইল্যান্ড): চিংড়ির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর কিছু হার্ব ও মসলা দিয়ে তৈরি করা এক ধরনের টক ও ঝাল থাই স্যুপ। লেবু, কাফির লেবুর পাতা, গালানজাল, লাল মরিচ এসব যোগ করা হয় এই স্যুপে। এর স্বাদে ভিন্নতা আনতে নারকেলের দুধ ও ক্রিম মেশানো হয় অনেক সময়।

* কাবাব (টার্কি): মধ্যপ্রাচ্যে এমনকি আমাদের দেশেও খুব জনপ্রিয় এক খাবার কাবাব। এটি মূলত তুরস্কের খাবার। মাংসের মন্ড দিয়েই মূলত কাবাব তৈরি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সি ফুড, ফল ও সবজি দিয়েও তৈরি হয় কাবাব।

* পিকিং ডাক (চীন): এই ডিশের জন্য বিশেষভাবে যত্ন নেয়া হাঁসকে জন্মের ৬০ দিন পর কাটা হয়, যাতে তার চামড়া নরম থাকে। যিনি অর্ডার করবেন, তার সামনেই ডিশটি তিন ভাগে তৈরি করে দেয়া হয়। প্রথমে চিনি ও রসুনের সস দিয়ে সার্ভ করা হয়। পরের অংশ দেয়া হয় পেনকেক দিয়ে। আর শেষ অংশটা মাংসের ঝোল দিয়ে সার্ভ করা হয়। যারা হাঁস পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি খুব লোভনীয় এক ডিশ।

* পায়ালা (স্পেন): জনপ্রিয় এই খাবারটির উৎপত্তি স্পেনের ভ্যালেনশিয়াতে। মূলত খরগোশ অথবা মুরগি অথবা হাঁসের মাংস দিয়ে পায়ালা তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে চিংড়ি, শামুকের মতো সি ফুডও যোগ করা হয়। এই ডিশ তৈরির জন্য সবচেয়ে উত্তম চাল হলো বোম্বা রাইস বা ভ্যালেনশিয়া রাইস।

* গোলাশ (হাঙ্গেরি): মধ্য ইউরোপের জনপ্রিয় এক খাবার গোলাশ। নবম শতকে হাঙ্গেরিতে এই খাবারের প্রচলন শুরু হয়। গরু, গরুর বাচ্চা, ভেড়ার মাংস বা শূকরের মাংস দিয়ে এই ডিশ তৈরি করা হয়। ছোট ছোট করে মাংস কেটে লবণ দিয়ে মেখে রাখা হয়। এরপর পেঁয়াজ কুচি আর তেলে গরম করতে হয়। গুঁড়া মরিচ যোগ করে মাংসটা কম আঁচে গরম করার পর তার সঙ্গে গাজর, আলু, ধনেপাতা মেশানো হয়।

* লাসাগনা (ইতালি): ইতালিতে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল লাসাগনা নামের পাস্তা। এখন আবারো এই খাবার ফিরে এসেছে। এতে মাংস, পাস্তা, সবজি, টমেটো, সস আর প্রচুর চিজ দেয়া হয়। এখন লাসাগনা ইতালির সব বয়সী মানুষেরই পছন্দের খাবার।

* বিরিয়ানি (ভারত): শুধু ভারতেই নয় পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের প্রায় সব দেশেই বিরিয়ানি খুব জনপ্রিয় এক খাবার। সবচেয়ে সুস্বাদু বিরিয়ানি রান্না করার ক্ষেত্রে ভালোমানের বাসমতি চাল, ভালো মানের তেল, খাঁটি ঘি ব্যবহার করা উচিত। চিকেন বিরিয়ানি ও কাচ্চি বিরিয়ানি দুটোই খুব জনপ্রিয় কম বয়সী ভোজন রসিকদের কাছে।

আরও পড়ুন

বৃষ্টির পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো

এখন বর্ষা মৌসুম। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, বৃষ্টির পানি পান করা কতটা নিরাপদ? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: সবসময় এটি নিরাপদ নয়। তাহলে কখন নিরাপদ, কখন নয়- চলুন জেনে নেওয়া যাক।

বৃষ্টির পানি যখন অনিরাপদ

বৃষ্টির পানি পরিষ্কার হয়ে থাকলে, পান করায় ভুল কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বের অনেক সম্প্রদায় পানীয় জলের প্রাথমিক উৎস হিসেবে বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তাই বলে, বৃষ্টির সব ধরনের পানি পান করা যাবে না।

বৃষ্টি মাটিতে পড়ার আগে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসে, তাই এটি বাতাসের যে কোনো দূষক ধারণ করতে পারে। বায়ুমণ্ডলে ধুলোবালি এবং অনেক ক্ষতিকর পদার্থ থাকে যেগুলো বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে। বায়ুদূষণ বেশি এমন এলাকার বৃষ্টির পানি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাসায়নিক কারখানা রয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এমন এলাকায় বৃষ্টির পানি পান না করাটাই ভালো। একইভাবে গাছপালা বা বাড়িঘর ছোঁয়া বৃষ্টির পানিও পান করা উচিত নয়।

বৃষ্টির পানি যখন নিরাপদ

বৃষ্টির পানি শতভাগ পরিষ্কার- নিশ্চিত হলে তবেই পান করতে পারেন। এছাড়া অনেক সময় কলের পানির তুলনায় বৃষ্টির পানি কম দূষিত হতে পারে।

বৃষ্টির পানি নিরাপদ করবেন যেভাবে

বৃষ্টির পানির গুণমান উন্নত করতে দুটি কাজ করতে পারেন। বৃষ্টির পানি ফুটিয়ে নেওয়া বা পানি ফিল্টার করে পান করা। পানি ফুটানো হলে প্যাথোজেনগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ফিল্টারের ফলে ধূলিকণাসহ অন্যান্য দূষকগুলো দূর হয়ে যাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বৃষ্টির পানি কীভাবে সংগ্রহ করছেন তার ওপরও পানির মান নির্ভর করে। আকাশ থেকে সরাসরি বৃষ্টির পানি পরিষ্কার বালতি বা বাটিতে সংগ্রহ করতে পারেন। বৃষ্টির পানি কমপক্ষে এক ঘণ্টা বসতে দিন যাতে এর ভারী উপাদানগুলো নিচে জমা হয়।

বৃষ্টির পানিতে স্বাস্থ্য উপকারিতা

এ বিষয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করলে আপনি বেশ কিছু আর্টিকেল পেয়ে যাবেন। যেখানে বৃষ্টির পানি পানের নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এ জাতীয় বেশিরভাগ দাবির কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বৃষ্টির পরিষ্কার পানি পান স্বাস্থ্যকর হলেও, অন্যান্য পরিষ্কার পানির উৎসের তুলনায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উপকারী নয়।

অর্থাৎ বৃষ্টির পানি পানে হজমের উন্নতি, শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর হওয়াসহ