Categories
জানা-অজানা

ভালোবাসার মানুষের প্রতারণা বুঝার উপায়

ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেমিক বা প্রেমিকা সবসময় ভালো দিকটাই দেখিয়ে থাকেন। সম্পর্কে জড়ানোর পর সর্বদা নিজের খারাপ দিকটা লুকিয়ে রাখেন। সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই তো ফোনে বা ম্যাসেঞ্জারে কথা হয়। আর দেখা হওয়ার সময় তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এই সময়ে কি করে বিচার করবেন জীবন সঙ্গী করতে চাওয়া মানুষটিকে।

বিচার করার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, মানুষটি আপনার সঙ্গে সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে এটা জানা কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। সঙ্গী হিসেবে অবশ্যই একজন ভালো মানুষকে পছন্দ করতে হয়। অনেকে একাধিক সম্পর্ক চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি যখন গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে বিষয়টি জানার পর খুব আঘাত লাগে হৃদয়ে। অনেকে তা সহ্য করতে না পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটান। তাই জীবন সঙ্গীকে জানতে-বুঝতে সে সত্য বলছে কিনা জেনে নেওয়ার

উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-
কথা রক্ষা না করা : আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আপনাকে জানানো হল সে আপনার সঙ্গে অংশ নিতে পারবে না। বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। কখনো কখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজও দেখান। একটা সময় জানতে পারলেন ঐ সময়টায় তার কোনো কাজই ছিল না। এমনটা দেখলে তার সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কেন মিথ্যা বলল সেটাও জানার প্রয়োজন নেই।

অন্য বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা : ভালোবাসার মানুষটি অন্য কারও সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে বা বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে এটা কেউই মেনে নিতে পারবে না। মুখে হাজারবার অসুবিধা নেই বললেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই রাগ করেন সকলে। এক্ষেত্রে অনেকে ভালোবাসার মানুষ রাগ করবেন ভেবে মিথ্যা বলে থাকেন। পরবর্তীতে এ নিয়েই সমস্যার শুরু হয়। এতে বিশ্বাস ভেঙে যায়। একাধিকবার এমনটা করলে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বা ম্যাসেজ : অনেকেই আছেন ভালোবাসার মানুষটির পাশে থেকেই অন্য কারও সঙ্গে চ্যাটিং বা ফোনে কথা বলেন। আবার তাদের বলেন যে বিষয়টি যেন কাউকে না বলেন। এটা খুবই খারাপ। এতে করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আপনি যাকে ভালোবাসেন আর তার অপছন্দের কাজ করেন সেটা কি উচিত হবে আপনার। এতে অন্যজন আঘাত পান। যা কথা বলার, ম্যাসেজ করার ভালোবাসার মানুষটির সামনেই করুন।

বন্ধু বা বান্ধবীর ভালোবাসার মানুষ বেশি আকর্ষণীয় : এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের ভালোবাসার মানুষটির থেকে অন্যের ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি পছন্দ করেন। বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কখনো ভুল করেও মুখ ফুটে বলা যাবে না। কেননা, বিষয়টি নিজের ভালোবাসার মানুষ জানতে পারলে বা বুঝতে পারলে খুবই কষ্ট পাবেন তিনি। তাই এখনই এই অভ্যাস বন্ধ করুন। আপনার কোনো বন্ধু-বান্ধবীর মধ্যে এমন স্বভাব থাকলে তাকে সতর্ক করুন এবং সঠিক পথে আসার পরামর্শ দিন। এমন মানুষের জন্য বৈবাহিক জীবনে ভয়ানক অশান্তি সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

কাচা ছোলা খাওয়ার ৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।

Categories
জানা-অজানা

জলপাই পাতার রসে আছে ৪টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই ৪টি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে।

জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছেঃ

১. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করেঃ

যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে।

২. ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করেঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

৩. অ্যান্টি এজিং উপাদান আছেঃ

যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

৪. ক্ষত ভালো করেঃ

২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ছোট কোন কাটা ছেঁড়া ও ফুসকুড়ির মধ্যে জলপাই পাতার নির্যাস দিলে দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

সতর্কতাঃ

সাধারণত জলপাই পাতার রস নিরাপদ এবং কোন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়না। তবে যারা প্রেগনেন্ট ও ব্রেস্ট ফিডিং করান তারা জলপাই পাতার রস গ্রহণ করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

আরও পড়ুন

আম খেলেও ওজন কমবে জানুন বিস্তারিত

রসালো ও মিষ্টি ফল আম। এর স্বাদে মুগ্ধ হয় ছোট-বড় সবাই। তবে বেশি খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এড়িয়ে যান ফলের রাজা আমকে। তাই তো ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের তালিকা থেকেও আম বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে জানলে অবাক হবেন, আম খেয়েও না-কি ওজন কমানো যায়- এমনই বলছে গবেষণা।

২০০৮ সালের এপ্রিলে নিউট্রশন রিসার্চ একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত ওজনে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তিরা বেশি পরিমাণে ফল খেয়েছেন; তাদের ওজন অন্যদের তুলনায় বেশি কমেছে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। তাহলে ৬ মাসে অতিরিক্ত আপনার ০.৩কেজি ওজন কমবে।

এজন্য অনেক চিকিৎসকই এই মৌসুমে আম খাওয়ার পরামর্শ দেন। আমে আছে কার্ব, প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, বি-৬ এবং ফোলেট। ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও অ্য়ান্টি-অক্সিডেন্ট।

আম খেলে কীভাবে ওজন কমবে? আম খেলে ওজন বাড়ে, এই কথা পুরোপুরি ভুল নয়। কারণ অসময়ে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বেশিরভাগ মানুষই খাওয়ার পর খান কিংবা ডিনারে বা লাঞ্চেও অনেক সময় আম খান।

পরিমাণ অনুযায়ী, একটা মাঝারি মাপের আমের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে পারে। তাই বেশি ক্যালোরি আপনার খাবারে যোগ হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে রাতে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবাবনা বেশি থাকে। তবে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকের পরিবর্তে আপনি যদি আম খান, তবে অবশ্যই আপনার ওজন কমতে পারে।

যেমন সকাল বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে আপেল বা কলার পরিবর্তে আপনি একটি আম খেতেই পারেন। এ ছাড়াও ব্যায়াম শুরু করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে একটি আম খান। এটি আপনার

Categories
জানা-অজানা

হৃদরোগের ১২টি পূর্বাভাস

হৃদরোগ সচরাচর হুট করে হয় না। দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলই এর জন্য দায়ী। আর কিছু উপসর্গ যদি আগেই ধরা পড়ে, তবে সতর্ক হতে সময় পাবেন যথেষ্ট। হৃদরোগের তেমনি কিছু আগাম পূর্বাভাস জানা যাক এবার।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

ঘুমের মাঝে হুটহাট দম আটকে আসে অনেকের। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকার অভ্যাসের সঙ্গে এমন ঘটনার সম্পর্ক আছে। এতে কিছু সময়ের জন্য মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায় না। একেই বলে স্লিপ অ্যাপনিয়া। এতে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যা দেখা দেয় ও ধীরে ধীরে রোগীর হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হতে থাকে। সময়মতো ধরা পড়লে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিরাময়যোগ্য।

হলুদ-কমলা র‌্যাশ

অতিমাত্রায় ট্রাইগ্লিসারিড (টিজি) বেড়ে গেলে আঙুলের গোড়া, পায়ের বুড়ো আঙুল বা আশপাশে বেশ ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। হলুদ-কমলা রঙের ফুসকুড়ি বেড়ে গেলেই বুঝতে হবে আপনি হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন।

দুর্বল মুঠো

বেশি বয়স না হতেই অনেকের হাতের গ্রিপ তথা মুষ্টিবদ্ধ করার শক্তি কমে আসে। এর সঙ্গে আপনার হৃৎপিণ্ডের ক্ষমতার সরাসরি যোগাযোগ আছে। কোনো কিছু জোরসে আঁকড়ে ধরতে যদি টানা অনেকদিন সমস্যা বোধ করেন, তবে হার্টের পরীক্ষা করানোটা জরুরি।

নখের নিচে

কোনো আঘাত পাওয়া ছাড়াই যদি নখের নিচে কালো ছোট ছোট গোলাকার দাগ দেখতে পান তবে সতর্ক হতে হবে। এটাকে বলে এন্ডোকারডাইটিস। হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের কারণেই নখে রক্ত জমাট বেঁধে এমনটা হয়। আবার ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলেও এমনটা হতে পারে। দুটো একসঙ্গে থাকলে ওই ব্যক্তির হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

 

ঘন ঘন চক্কর

একবার দু’বার হতেই পারে। কিন্তু প্রায়ই যদি মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে কিংবা চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন তবে ধরে নিন আপনার হৃৎপিণ্ডটা ঠিকঠাক রক্ত পাম্প করতে পারছে না। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে মাংসপেশীতেও রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। তখন দেখা যাবে হুট করে শরীরের কিছু অঙ্গে ভারসাম্যও রাখতে পারছেন না।

যৌন সমস্যা

হৃদরোগের সঙ্গে এ সমস্যাও জড়িয়ে আছে ভালো করে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের কারণে ধমনী সরু হয়ে এলেও দেখা দেয় যৌন দুর্বলতা কিংবা শারীরিক সম্পর্কে অনীহা।

ত্বকের রঙ

হাতের আঙুল ও বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল যদি নীলচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে সেখানে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাচ্ছে না। রক্তনালীর ব্লকের কারণেই এমনটা হয়। আবার ত্বকের মধ্যে এক ধরনের ফ্যাকাসে গোলাপি আভা দেখা দেওয়ার মানেও হলো কোলেস্টেরলের প্লাকগুলো ভেঙে গিয়ে ছোট ছোট রক্তনালীগুলোকে আটকে দিচ্ছে।

মাড়ি দিয়ে রক্ত

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে গাম ব্লিডিং। গবেষকরা এখনও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার সঙ্গে হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পাননি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতার সঙ্গে গাম ব্লিডিংও থাকতে দেখা গেছে। এর সঙ্গে আবার স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেশি দেখা গেছে।

ত্বকে কালশিটে ছোপ

বিশেষ করে গলার কাছে, বগলে কিংবা শরীরের কিছু ভাঁজে গাঢ় বাদামি ছোপ দাগ থাকে অনেকের। ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ না করলেও এমনটা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হতে পারে হৃৎযন্ত্রও। শরীরে এমন ছোপ বেশি দেখা গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সেরে ফেলুন।

 

শ্বাস নিতে হাঁসফাঁস

কোনো একটা মাঝারি গোছের কাজ করার পরই শ্বাস নেওয়ার জন্য বুকটা ধড়ফড় শুরু করে তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পা-ফোলা

বেশি সময় বসে থাকা বা গর্ভাবস্থায় এমনটা হয়। আর এটাও মূলত হৃৎপিণ্ডের শক্তি কমে যাওয়ার ফল। যার কারণে পায়ের নিচে তরল জমতে থাকে। এর মানে হলো পায়ের তলানিতে কোনো না কোনো ব্লক তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিচ থেকে রক্ত নিচ থেকে আবার উপরে উঠতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

ঘন ঘন অবসাদ

ঠিকমতো ঘুম না হলে এমনটা হতেই পারে। তবে এর বাইরেও যদি ক্লান্তিতে সারা শরীর ছেয়ে আসে তবে সতর্ক হয়ে যান হৃৎপিণ্ডের ব্যাপারে। দেখুন, এর পাশাপাশি কাশির সমস্যাটাও আছে কিনা। কারণ অবসাদের জন্য আবার আমাদের রক্তাল্পতা ও বিষণ্নতাও দায়ী।

আরও পড়ুন

জলপাই পাতার রসে আছে অসাধারণ ৪টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই ৪টি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে।

জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছেঃ

১. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করেঃ

যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে।

২. ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করেঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

৩. অ্যান্টি এজিং উপাদান আছেঃ

যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

৪. ক্ষত ভালো করেঃ

২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ

Categories
জানা-অজানা

চুল পড়া সমস্যার সমাধান হবে তেলেই

মানুষের শরীরের অন্যতম আকর্ষণ চুল। তবে কখনো কখনো চুল মানুষের অন্যতম চিন্তার কারণও হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৫ জনই চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন। এই চুল পড়ার কিছু প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। চুলের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আয়ুষ্কাল থাকে। চুল গজানোর পর সেটির আয়ুষ্কাল প্রায় ১,০০০ দিন হয়ে থাকে। এরপর স্বভাবতই চুলটি ঝরে পড়ে। ঝরার পাশাপাশি নতুন চুলও প্রতিনিয়ত গজাচ্ছে দেখে চুলের পরিমাণে ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে সঠিক যত্নের অভাবেও চুল পড়া বেড়ে যায় এবং এর ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ ক্রমাগত কমতে থাকে।

শরীরে পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি থাকা ইত্যাদি চুল পড়ার কিছু কারণ। আমাদের সবারই চুলে শ্যাম্পু করার প্রবণতা বেশি। শ্যাম্পু চুল পরিষ্কারের জন্যে অত্যন্ত উপযোগী। তবে চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করাই শ্রেয়। চুলের জন্য বেশ কিছু উপকারী উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত হলেও শ্যাম্পু থেকে আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রয়োজনীয় পুষ্টিটা পাচ্ছিনা, যা আমাদের চুলকে মজবুত করবে। যার ফলে চুল পড়ার সমাধানও হচ্ছেনা। অন্যদিকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করাটিও চুল ক্ষয়ের একটি অন্যতম কারণ। তাই চুল পড়া সমস্যার সমাধান করতে হলে নিতে হবে চুলের সঠিক যত্ন।

চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার সর্বপ্রথম এবং প্রাচীন পন্থা ছিল তেল। এই তেল দেওয়ার জন্য আগের দিনে নানি-দাদীরা আমাদের কতইনা বকতেন! আজ যুগান্তর পেরিয়ে গেলেও চুল পড়ার সমস্যার সমাধান আমরা সেই তেল থেকেই পাই। অনেকের কাছেই চুলের খাবার হিসেবে পরিচিত তেল। চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুনাগুণ পাওয়া যায় তেল থেকে। তবে পাশাপাশি সঠিক তেল নির্বাচন করাটিও খুব জরুরি। ছোটবেলা থেকেই আমরা চুলে নারকেল তেল দিয়ে অভ্যস্ত। চুলে যেমন নারকেলের পুষ্টি প্রয়োজন, ঠিক সমানভাবেই প্রয়োজন আরও কিছু ভেষজ উপাদানের।

নারকেল তেল, কালোজিরা ও মেথির মিশ্রণ: এটি চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কালোজিরা এবং মেথি কড়া রোদে শুকিয়ে একসঙ্গে গুঁড়া করে নিন। এরপর নারকেল তেলের সঙ্গে গুঁড়া করা মেথি ও কালোজিরা মিশিয়ে মিশ্রণটিকে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর একটি কাঁচের বোতলে রেখে দিন। এটি অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে। এই তেল সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন। কয়েক মাসের মধ্যেই উপকার পাওয়া যাবে।

তবে এতটা করার সময় না পেলে ব্যবহার করতে পারেন প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার অ্যান্টি হেয়ারফল অয়েল। এটি দেশের বাজারে এনেছে ম্যারিকো লিমিটেড বাংলাদেশ। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার-এ চুল পড়া কমাতে প্রমাণিত উপাদান নারকেল, মেথি, আমলকি ও অ্যালোভেরার সঠিক মিশ্রণ রয়েছে। এতে আরো আছে বায়ো-অ্যাক্টিভস, যা চুল পড়া কমাতে একদম গোড়া থেকে কাজ করে। এবং চুল পড়া কমায় মাত্র ৪৫ দিনে।

চুল পড়া রোধে শুধু তেল ব্যবহার করলেই হবে না, কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। যেমন ভেজা চুলে গরম তেল মালিশ আরামদায়ক মনে হলেও তা আসলে করা উচিত না। ভেজা চুল ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে থাকে। তাই ভেজা নয় বরং শুষ্ক চুলে তেল ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই মনে করেন মাথায় বেশি তেল দিলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। এটাও ভুল। মাথায় অল্প তেলই কাজ করে। বরং চুলে বেশি তেল দেওয়া মানে হলো বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। এতে চুল আগের চেয়ে রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে।

তেল দেওয়ার পরে চুল জোড়ে আচঁড়ে তা শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুলের গোঁড়া হয়ে পড়ে দুর্বল। তাই তেল দেওয়ার পরে শক্ত করে চুল বাঁধা এড়িয়ে চলুন। এছাড়া অনেকেই মনে করেন সারা রাত তেল দিয়ে রাখলে চুল বেশি মজবুত ও সুন্দর করে। এটাও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দীর্ঘক্ষণ চুলে তেল দিয়ে রাখলে মাথার ত্বকে বেশি ময়লা আটকাতে সাহায্য করে। এতে করে চুলের প্রাকৃতিক তেল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই, সারারাত চুলে তেল রাখার অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিতে হবে।

আরও পড়ুন

ব্রি ধান-৭৪: উচ্চমাত্রার জিংক সমৃদ্ধ ধান

কৃষিতে এখন প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে কমছে কৃষকের সময় ও ব্যয়। তবুও বছর বছর ধানের উৎপাদন, বিক্রয়, চাষাবাদের খরচ আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নাজেহাল কৃষক। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের লাভের মুখ দেখাতে কৃষি সম্পর্কিত দপ্তর, দেশি-বিদেশি এনজিওরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর থেকে লালমনিরহাটের স্থানীয় এনজিও নজীর, কৃষি দপ্তর আর হার্ভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪’র আবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

স্থানীয় কৃষিদপ্তর বলছে, গেলো বছর জেলার মোট ধান উৎপাদনের ২% এই জাতের ধান চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর ধানি জমির মধ্যে ৩ হাজার ৮শ ২০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৭৪’র চাষ হয়েছে। যা জেলার মোট ধান উৎপাদনের ৯ %।

এই ধান চাষে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাত আর হাইব্রিড জাতের ধান বীজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে লালমনিরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-৭৪। দ্রুত উৎপাদন ও উচ্চ ফলনশীল এ জাতের ধান চাষে যেমন সার কীটনাশক কম লাগে, তেমনি উৎপাদিত ধান থেকেই সংরক্ষণ করা যায় বীজ। আর আগাম কাটামারা হওয়ায় নানাভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ফলে ব্রি ধান-৭৪ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বেড়ে চলছে।

ধান গবেষনা কেন্দ্রের উদ্ভাবিত স্বল্প মেয়াদী জাত এই ব্রি ধান-৭৪। ভিটামিন ও জিংক সমৃদ্ধ অধিক ফলনশীল এই ধান উৎপাদনে সময় লাগে ১শ ৪০ থেকে ৪৫ দিন। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল চাষ করা যায়। আর এই ধানে ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাতও কম।

অন্য ধানের তুলনায় ব্রি ধান-৭৪’র উৎপাদনে খরচ কম, দামও বেশি। এছাড়াও উৎপাদিত ধান থেকে বীজ সংরক্ষণ করা যায়।

কালিগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের কৃষক দুলু মিয়া বলেন, অন্যান্য ধান চাষে অনেক ঝুঁকি, কিন্তু ব্রি ধান-৭৪’র চাষে ব্লাস্ট, মাজরাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমন নেই বললেই চলে।

কৃষক ফজিলা বানু বলেন, অন্য ধান চাষে লেবার খরচ বেশি হয়।

মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের জমিগুলো আলু ও তামাক চাষ করার পরে পড়ে থাকে। সেই জমিতে অন্য ফসল চাষ করা যায়না। কিন্তু আমরা খুব কম সময় আর কম খরচে ব্রি ধান-৭৪’র চাষ করছি। এই ধানের বীজ আমরা নিজেরাই সংরক্ষণ করছি। পরের বছর নিজেদের বীজ দিয়েই চাষ করতে পারছি।

এই ধানের উদ্ভাবক দলের প্রধান ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এবং হার্ভেস্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. খায়রুল বাশার বলেন, মানুষের শরীরে যে পরিমান জিংকের প্রয়োজন তার প্রায় ৭০ভাগ পাওয়া সম্ভব ব্রি ধান-৭৪ থেকে।

নজীরের নির্বাহী পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক সরকার বলেন

Categories
জানা-অজানা

বৃষ্টির পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো

এখন বর্ষা মৌসুম। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, বৃষ্টির পানি পান করা কতটা নিরাপদ? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: সবসময় এটি নিরাপদ নয়। তাহলে কখন নিরাপদ, কখন নয়- চলুন জেনে নেওয়া যাক।

বৃষ্টির পানি যখন অনিরাপদ

বৃষ্টির পানি পরিষ্কার হয়ে থাকলে, পান করায় ভুল কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বের অনেক সম্প্রদায় পানীয় জলের প্রাথমিক উৎস হিসেবে বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তাই বলে, বৃষ্টির সব ধরনের পানি পান করা যাবে না।

বৃষ্টি মাটিতে পড়ার আগে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসে, তাই এটি বাতাসের যে কোনো দূষক ধারণ করতে পারে। বায়ুমণ্ডলে ধুলোবালি এবং অনেক ক্ষতিকর পদার্থ থাকে যেগুলো বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে। বায়ুদূষণ বেশি এমন এলাকার বৃষ্টির পানি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাসায়নিক কারখানা রয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এমন এলাকায় বৃষ্টির পানি পান না করাটাই ভালো। একইভাবে গাছপালা বা বাড়িঘর ছোঁয়া বৃষ্টির পানিও পান করা উচিত নয়।

বৃষ্টির পানি যখন নিরাপদ

বৃষ্টির পানি শতভাগ পরিষ্কার- নিশ্চিত হলে তবেই পান করতে পারেন। এছাড়া অনেক সময় কলের পানির তুলনায় বৃষ্টির পানি কম দূষিত হতে পারে।

বৃষ্টির পানি নিরাপদ করবেন যেভাবে

বৃষ্টির পানির গুণমান উন্নত করতে দুটি কাজ করতে পারেন। বৃষ্টির পানি ফুটিয়ে নেওয়া বা পানি ফিল্টার করে পান করা। পানি ফুটানো হলে প্যাথোজেনগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ফিল্টারের ফলে ধূলিকণাসহ অন্যান্য দূষকগুলো দূর হয়ে যাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বৃষ্টির পানি কীভাবে সংগ্রহ করছেন তার ওপরও পানির মান নির্ভর করে। আকাশ থেকে সরাসরি বৃষ্টির পানি পরিষ্কার বালতি বা বাটিতে সংগ্রহ করতে পারেন। বৃষ্টির পানি কমপক্ষে এক ঘণ্টা বসতে দিন যাতে এর ভারী উপাদানগুলো নিচে জমা হয়।

বৃষ্টির পানিতে স্বাস্থ্য উপকারিতা

এ বিষয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করলে আপনি বেশ কিছু আর্টিকেল পেয়ে যাবেন। যেখানে বৃষ্টির পানি পানের নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এ জাতীয় বেশিরভাগ দাবির কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বৃষ্টির পরিষ্কার পানি পান স্বাস্থ্যকর হলেও, অন্যান্য পরিষ্কার পানির উৎসের তুলনায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উপকারী নয়।

অর্থাৎ বৃষ্টির পানি পানে হজমের উন্নতি, শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর হওয়াসহ অন্যান্য যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হচ্ছে, এগুলো যে কোনো উৎসের বিশুদ্ধ পানি পানের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

মূল কথা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করাটা সহজ একটি সমাধান মনে হলেও, এটি সর্বদা নিরাপদ নাও হতে পারে। এতে বিদ্যমান নানা ধরনের দূষক আপনাকে অসুস্থ করতে পারে। আকাশ থেকে সরাসরি যে বৃষ্টি পড়েছে শুধু সেই বৃষ্টির পানি পান করার জন্য সংগ্রহ করা উচিত।

 

আরও পড়ুন

করোনা থেকে দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ৬ জুস

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটের একটি অংশ হওয়া উচিত ফল ও শাকসবজি। শরীরের যাবতীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি হলো সেরা উপায়।

করোনাভাইরাস শরীরের পাচনতন্ত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে, যা পেটের টিস্যুর ক্ষতি ও প্রদাহ তৈরি করে। তাজা ফল ও শাকসবজি শরীরের হজম ব্যবস্থা সহজেই শোষণ করতে পারে, যা করোনা থেকে সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

এক্ষেত্রে জুস বা শরবত দ্রুত রক্তপ্রবাহে শোষিত হয় বলে, এটি তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক শক্তি পাওয়ার দুর্দান্ত এক উপায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা থেকে সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে বিভিন্ন ধরনের জুস বা শরবত।

দিনে দু-তিনবার শাকসবজি ও ফলের জুস পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ও প্রদাহ কমাতে পারে। এখানে কোভিড-১৯ রোগীদের দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে এমন ৬টি জুস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

টমেটো-পুদিনার জুস: এই জুস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে সমৃদ্ধ এবং খাবার হজম সহায়তা করে। ঘরে টমেটো-পুদিনার জুস তৈরির জন্য ব্লেন্ডারে এক গ্লাস পানির সঙ্গে ৪টি টমেটো ও ৮-১০টি পুদিনা পাতা দিয়ে ভালোভাবে ব্লেড করুন। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে সামান্য লবণ, লেবু ও গোলমরিচ যোগ করতে পারেন।

গাজর, বিটরুট, আমলকী ও আদার জুস: শরীর থেকে টক্সিন দূর ও লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে আমলকী ও গাজর। আমলকীতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই জুস তৈরির জন্য ব্লেন্ডারে ২টি কাটা গাজর, ১টি বিট এবং সামান্য আদা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এর মধ্যে লেবুর রস মেশালেই তৈরি হয়ে হবে স্বাস্থ্যকর জুস।

মোসাম্বি, আনারস ও সবুজ আপেলের জুস: এটি ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমে সহায়তা করে। এই জুস তৈরির জন্য ২টি মোসাম্বি, ২৫০ গ্রাম আনারস এবং ১টি কাটা সবুজ আপেল ব্লেন্ড করুন। এতে সামান্য বিট লবণ দিতে পারেন।

কিউই, স্ট্রবেরি ও মাল্টার জুস: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে ভরপুর এই জুস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দুর্দান্ত। এটি শরীরের রক্তচাপ ঠিক রাখতে সহায়তা করে এবং অসুস্থতা থেকে দূরে রাখে। এই জুস তৈরি করতে ১ কাপ স্ট্রবেরি, খোসা ছাড়ানো ২টি কিউই ফল, ১টি মাল্টা, আধাকাপ পানি ও ১ চা-চাপ মধু ব্লেন্ডারে দিন।

হলুদ, আদা, লেবু ও মাল্টার জুস: এই সবগুলো উপাদানেই অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি তথা প্রদাহ বিরোধী গুণ রয়েছে। সবগুলো উপাদান একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে তৈরি করে নিন জুস।

শসা, পালং শাক, পাথুনি শাক, আদা ও লেবুর জুস: সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের

Categories
জানা-অজানা

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যা খাওয়াবেন

বেশিরভাগ শিশুই খাওয়ার ব্যাপারে উদাসীন। তাদেরকে জোর করে খাওয়াতে হয়। আর পুষ্টিকর খাবার না পেলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও ধীর গতিতে হয়। তাই আপনার শিশুকে কোন ধরনের খাবার নিয়মিত দিলে সে দ্রুত বেড়ে উঠবে, তা জেনে নেয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে শিশুর শরীরের গ্রোথ হরমোন নির্গত হয়, এর ফলে তার বৃদ্ধি হয় দ্রুত। শিশুদের যেসব খাবার নিয়মিত খাওয়াবেন-

ডিম: প্রচুর প্রোটিন থাকে ডিমে, যা শরীরের মাংসপেশী ও কোষ গড়ে উঠতে সহায়তা করে। ডিমে যে ভিটামিন ডি থাকে,তা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে ভূমিকা রাখে। এতে শিশুর হাড় গড়ে উঠে ও বৃদ্ধি হয়।

দই: প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্য সব পুষ্টি উপাদান থাকে দইয়ে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক্স পাকস্থলী ভালো রাখে ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে।

সবজির বীজ: সয়া সবজির বীজ, শিমের বীজ সহ বিভিন্ন সবজির বীজে প্রচুর প্রোটিন থাকে, যা হাড় তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস এসব বীজ। তাই শিশুকে স্বাস্থ্যকর বীজ খাওয়ান।

খাদ্য শস্য: বিভিন্ন খাদ্য শস্যে অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম, সেলিনিয়াম, জিংক, আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা শিশুর শরীর গঠনে খুব সহায়ক।

শুকনো ফল: শুকনো ফলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। এতে আঁশ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে অনেক, যা শিশুর শরীর বৃদ্ধি করতে পারে।

শাকসবজি: সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি, কে, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। তাই শাকসবজি হাড় মজবুত করে ও শরীর সুস্থ রাখে। তাই শিশুকে শাক সবজি খাওয়ান নিয়মিত।

গাজর: গাজর খুব পুষ্টিকর এক সবজি। এতে ভিটামিন বি, সি, কে, বায়োটিন, নিয়াসিন, মলিবডেনাম, ফসফরাস ও আঁশ থাকে প্রচুর। এসব উপাদান শরীর সুস্থ রাখে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

মুরগীর মাংস: মুরগীর মাংসে প্রচুর প্রোটিন থাকে। এতে অ্যামাইনো এসিড ও টরিনের মতো উপকারি উপাদান থাকে, যা হাড় তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই শিশুকে মুরগীর মাংস দিতে ভুলবেন না।

আরও পড়ুন

বিশ্বের জনপ্রিয় সব খাবার

বিনোদনের জন্য কোনো দেশে ঘুরতে যাবেন হয়তো আপনি। বেড়ানো আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা একটা বড় লক্ষ্য, তবে নতুন দেশে গিয়ে সেখানকার সবচেয়ে মজার খাবারটা নিশ্চয়ই আপনি মিস করতে চাইবেন না। আবার অন্য দেশের জনপ্রিয় কিছু খাবার আপনিও হয়তো ঘরে তৈরি করতে ইচ্ছুক। খাদ্য বিশারদ আর পর্যটকদের বিবেচনায় বিশ্বের কয়েকটি দেশের সেরা কিছু খাবার নিয়ে আজকের আয়োজন।

* সুশি (জাপান): ভিনেগারযুক্ত ভাতের সঙ্গে সি ফুড, সবজি অনেক ক্ষেত্রে ফল যোগ করে তৈরি করা হয় সুশি। জাপানি ওসাবি গাছ, আদা, সয় সস মিশিয়ে তৈরি করলে সুশি বেশি সুস্বাদু হয়। সুশিতে কোন ধরনের মাছ যোগ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে এর স্বাদ। এ খাবার বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয় এখন।

* রেনডাং (ইন্দোনেশিয়া): অনেকের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার রেনডাং। নারিকেলের দুধ দিয়ে হালকা আঁচে রান্না করা গরুর মাংসকে রেনডাং বলে। রান্নার সময় হলুদ, রসুন, লেমনগ্রাস, আদা, মরিচ ও ইন্দোনেশিয়ান হার্ব গালানজাল ব্যবহার করা হয়। প্রায় কয়েক ঘণ্টা স্টিউ করার পর ডিশটার স্বাদ অন্য রকম হয়ে যায়।

* রামেন (জাপান): জাপানের একটি জনপ্রিয় ডিশের নাম রামেন। হুইট নুডলসের সঙ্গে সবজি ও মাংস থাকে রামেনে। মাংসের ঝোলটা কেমন হবে, তার ওপর নির্ভর করে রামেনের স্বাদ। জাপানের একেক অঞ্চলে তাই এর স্বাদ একেক রকম দেখা যায়।

* টম ইয়াম গুং (থাইল্যান্ড): চিংড়ির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর কিছু হার্ব ও মসলা দিয়ে তৈরি করা এক ধরনের টক ও ঝাল থাই স্যুপ। লেবু, কাফির লেবুর পাতা, গালানজাল, লাল মরিচ এসব যোগ করা হয় এই স্যুপে। এর স্বাদে ভিন্নতা আনতে নারকেলের দুধ ও ক্রিম মেশানো হয় অনেক সময়।

* কাবাব (টার্কি): মধ্যপ্রাচ্যে এমনকি আমাদের দেশেও খুব জনপ্রিয় এক খাবার কাবাব। এটি মূলত তুরস্কের খাবার। মাংসের মন্ড দিয়েই মূলত কাবাব তৈরি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সি ফুড, ফল ও সবজি দিয়েও তৈরি হয় কাবাব।

* পিকিং ডাক (চীন): এই ডিশের জন্য বিশেষভাবে যত্ন নেয়া হাঁসকে জন্মের ৬০ দিন পর কাটা হয়, যাতে তার চামড়া নরম থাকে। যিনি অর্ডার করবেন, তার সামনেই ডিশটি তিন ভাগে তৈরি করে দেয়া হয়। প্রথমে চিনি ও রসুনের সস দিয়ে সার্ভ করা হয়। পরের অংশ দেয়া হয় পেনকেক দিয়ে। আর শেষ অংশটা মাংসের ঝোল দিয়ে সার্ভ করা হয়। যারা হাঁস পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি খুব লোভনীয় এক ডিশ।

* পায়ালা (স্পেন): জনপ্রিয় এই খাবারটির উৎপত্তি স্পেনের ভ্যালেনশিয়াতে। মূলত খরগোশ অথবা মুরগি অথবা হাঁসের মাংস দিয়ে পায়ালা তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে চিংড়ি, শামুকের মতো সি ফুডও যোগ করা হয়। এই ডিশ তৈরির জন্য সবচেয়ে উত্তম চাল হলো বোম্বা রাইস বা ভ্যালেনশিয়া রাইস।

* গোলাশ (হাঙ্গেরি): মধ্য ইউরোপের জনপ্রিয় এক খাবার গোলাশ। নবম শতকে হাঙ্গেরিতে এই খাবারের প্রচলন শুরু হয়। গরু, গরুর বাচ্চা, ভেড়ার মাংস বা শূকরের মাংস দিয়ে এই ডিশ তৈরি করা হয়। ছোট ছোট করে মাংস কেটে লবণ দিয়ে মেখে রাখা হয়। এরপর পেঁয়াজ কুচি আর তেলে গরম করতে হয়। গুঁড়া মরিচ যোগ করে মাংসটা কম আঁচে গরম করার পর তার সঙ্গে গাজর, আলু, ধনেপাতা মেশানো হয়।

* লাসাগনা (ইতালি): ইতালিতে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল লাসাগনা নামের পাস্তা। এখন আবারো এই খাবার ফিরে এসেছে। এতে মাংস, পাস্তা, সবজি, টমেটো, সস আর প্রচুর চিজ দেয়া হয়। এখন লাসাগনা ইতালির সব বয়সী মানুষেরই পছন্দের খাবার।

* বিরিয়ানি (ভারত): শুধু ভারতেই নয় পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের প্রায় সব

Categories
জানা-অজানা

ক্যান্সার প্রতিরোধে করলা

করলা খেতে ভীষণ তিতা অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর। ইংরেজিতে এ জন্য তরকারিটির নাম বিটার মেলন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অপছন্দনীয় এই সবজিটিই দূর করতে পারে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। বাংলাদেশের বারডেম হাসপাতালের গবেষণায়ও ইতিপূর্বে ডায়াবেটিস রোগে করলার ভূমিকার কথা বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

এ ছাড়া করলা দূর করে নানা ধরনের মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা। যদিও এর তেতো স্বাদের কারণে কারও মুখে রোচে না, কিন্তু শুধু স্বাদের কথা ভেবে স্বাস্থ্যে উপকারিতা ও মিঠাগুণের কথা একেবারে ভুলে বসলেও হবে না।

দ্য নেভাডা সেন্টার অব অল্টারনেটিভ অ্যান্ড অ্যান্টি এইজিং মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ড. ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার ও তার সহযোগীরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, করলা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তিনি তার নতুন গবেষণায় দেখতে পান, করলার রস পানিতে মাত্র ৫ শতাংশ মিশ্রিত হয়, যা প্রমাণ করে এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে।

করলার প্রায় ৯০-৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে। দ্য ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর একটি গবেষণায় দেখা যায়, করলা অগ্ন্যাশয়ের টিউমার প্রায় ৬৪ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম।

এ ছাড়া ড. শ্যালেনবার্গার তার গবেষণায় দেখতে পান, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, অ্যাজমা, ত্বকের ইনফেকশন, ডায়াবেটিস এবং পাকস্থলীর নানা সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে শুধু এই একটি সবজি ‘করলা’। খুব কম ক্যালরিসমৃদ্ধ করলায় রয়েছে পটাশিয়াম, বেটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, হাই ডায়াটেরি ফাইবার, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ ও সি, ফোলায়েট, জিঙ্ক এবং ফসফরাস।

আরও পড়ুন

কিটো ডায়েটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

২০০৬ সাল; আমি তখন স্কুলে পড়ি। হঠাৎ পত্রিকার পাতায় একটি খবরে চোখে আটকে গেল। ২১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এক মডেল Anorexia Nervosa নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তখন জানতে পারি, এটি একটি eating disorder.

এই সংবাদে আমাকে যে ব্যাপারটা অবাক করে তা হলো, এই মডেল জিরো ফিগার ধরে রাখতে খাবার পর বমি করে ফেলে দিতেন। এ ঘটনার পর সব মডেলদের জন্য জিরো ফিগারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আমার ধারণা ছিল, এটি হয়তো পাশ্চাত্যদেশের রোগ। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য নয়।

পরে আমি পুষ্টিবিজ্ঞানে পড়ার সুবাদে এই বিরল রোগ নিয়ে বিস্তারিত পড়ার সুযোগ পাই। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ক’দিন আগে আমাদের দেশে সামিন নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয় এই Anorexia Nervosa রোগে।

এখন আসি এই রোগটি আসলে কী? এটি হলো বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর ডায়েটে যেমন কিটো, ফাস্টিং ইত্যাদির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।এটি এমন একটি eating disorder যা রোগীকে ডায়েটের মাধ্যমে কম ওজন ধরে রাখতে মানসিকভাবে কঠিন করে তোলে। তখন এরা প্রয়োজনীয় খাবারটুকু খেতেও ভয় পায়। তারা ভাবে যদি ওজন বেড়ে যায়! আবার খাবার খেয়ে এদের বমি করার প্রবণতা দেখা দেয়।এ রোগীদের মধ্যে ওজন কমানোর জন্য অত্যাধিক ব্যায়াম করতে দেখা যায়। নেশাগ্রস্ত হবারও আশঙ্কা বাড়ে। এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়।

রোগটি বেশি দেখা যায় সৌন্দর্যপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে, মডেলদের মধ্যে আবার যারা বডি শেমিং নিয়ে বুলিং এর শিকার যেমনটি কিশোর সামিন। এছাড়াও যে কোনো বয়সে যে কারো এমন হতে পারে। Anorexia Nervosa আক্রান্ত ব্যক্তির নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমন:রশূন্যতা, হৃদরোগ, ভিটামিনের অভাবজনিত রোগসমূহ, নিদ্রাহীনতা, মেয়েদের পিরিয়ড ইরেগুলার, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়া, কিডনি জটিলতা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। এতো সব জটিলতা দেখা দেবার পর সর্বশেষ পরিণতি হয় মৃত্যু।

Anorexia Nervosa রোগটির চিকিৎসা তুলনামূলক অন্যসব রোগের থেকে ভিন্ন ও জটিল। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না যে তারা কোন রোগে আক্রান্ত।এই রোগীরা যেহেতু খুব কম খাবার গ্রহণ করে তাই এদের খাবারের তালিকা খুব টেকনিক্যালি মেইনটেইন করতে হবে।রোগীর অবস্থা বেশি আশঙ্কা জনক হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

Categories
জানা-অজানা

করোনায় মস্তিষ্কের ক্ষতি, সুস্থ হতে যা করবেন

করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুর ঘটনা কম নয়। আবার আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হলেও এটি বিভিন্নভাবে শরীরের ক্ষতি করে যায়। করোনা পরবর্তী বিভিন্ন সমস্যা দূর হতে লেগে যায় অনেকটা সময়। এটি যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে, তা নয়। বরং মস্তিষ্কের ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মস্তিষ্কের বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগতে দেখা যায় অনেককে।

অনেকের মধ্যে দেখা দিচ্ছে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগের দুর্বলতা বা ক্লান্তির মতো হালকা লক্ষণ। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে তাদের আরও বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই লক্ষণগুলো হতে পারে- মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, বিষণ্ণতা, খিঁচুনি, ফোকাসে অক্ষমতা, স্ট্রোক, আচরণে পরিবর্তন, গন্ধ এবং স্বাদ হ্রাস, চেতনা হ্রাস, ইত্যাদি।

কী কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

করোনাভাইরাস ঠিক কী কারণে আমাদের আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রভাবিত করে, তার সঠিক কারণ এখনও জানতে পারেননি চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তবে এ নিয়ে গবেষকদের কিছু ধারণা রয়েছে। তাদের মতে, গুরুতর ক্ষেত্রে ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড) প্রবেশ করতে পারে এবং সংক্রমণের কারণ হতে পারে। গবেষণার সময় তারা মেরুদণ্ডের তরলে ভাইরাসের জিনগত উপাদান খুঁজে পেয়েছে। এর আরেকটি কারণ হতে পারে অতিমাত্রায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করলে প্রদাহ হতে পারে যা টিস্যু এবং অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কারণে শারীরিক পরিবর্তন যেমন খুব জ্বর, অক্সিজেনের মাত্রা কম বা অর্গ্যান ফেলিওরও ব্রেন কমপ্লিকেশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জেনে নিন করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা থেকে মুক্তির কিছু উপায়-

 

ব্রেন চ্যালেঞ্জিং কাজ করুন

পেশী শক্তিশালী করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চা করে থাকি। ঠিক সেভাবেই মস্তিষ্কের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য তাকে কিছু মস্তিষ্ক-উদ্দীপক কাজে ব্যস্ত রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেন চ্যালেঞ্জিং কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে আমাদের মস্তিষ্ক নতুন কোষ গড়ে তুলতে পারে। সেইসঙ্গে উন্নত হতে পারে কনসেনট্রেশন লেভেল।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ করে তোলে। সেসব খাবারের মধ্যে রয়েছে সবুজ শাকসবজি, ফ্যাটি ফিশ, বেরি জাতীয় খাবার। এ ধরনের খাবারমস্তিষ্কের রক্তনালী ঠিক রাখে এবং সেরিব্রোভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

 

মেডিটেশন করুন

মেডিটেশনের অভ্যাস করুন। এসময় আপনাকে প্রশান্তি দিয়ে পারে ধর্মীয় প্রার্থনাও। মনকে শান্ত করা এবং একাগ্রতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হলো এগুলো। ধ্যান কিংবা প্রার্থনা মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শারীরিকভাবেও দ্রুত সুস্থ করে তোলে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তচাপ কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে এই অভ্যাস।

প্রশান্তিদায়ক ঘুমের ব্যবস্থা

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অনেকটাই জড়িয়ে আছে ঘুম। তাই করোনা থেকে সেরে ওঠার পর প্রতি রাতে নিশ্চিন্ত ঘুমের অভ্যাস করুন। প্রতিদিন রুটিন মেনে ঘুমাতে যান এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। ছুটির দিনগুলোতেও একই রুটিন মেনে চলুন। পর্যাপ্ত ঘুম নানাভাবে শরীরের উপকার করে। এটি আমাদের প্রতিদিনের কাজ, চিন্তা-ভাবনা, মেজাজ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করে।

আরও পড়ুন

নখের যত্ন করার উপায় জেনে নিন
হাতের নখের দিকে সময়ে সময়ে নজর দেওয়া হলেও পায়ের নখ যেন পায়ের মতোই অবহেলায় রয়ে যায়।
বিশেষত যাদের নিত্যদিন বাইরে চলাচল করা প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে পায়ের নখের যত্ন নেওয়া বেশি জরুরী। বাইরে থেকে ফিরেই পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার সাথে নজর দিতে হবে পায়ের নখের দিকেও। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনগুলোতে নখে কাদা লেগে যায়।

ধুলাবালি নখের ভেতর প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন পায়ের নখ অপরিষ্কার রাখা হলে নখে জীবাণু জমে ফাঙ্গাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে নখ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে রাখা প্রয়োজন পায়ের নখের যত্নে কী করতে হবে।

১. পায়ের নখ ছোট রাখতে হবে। নেইলকাটার মেশিন দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন নখ কাটতে হবে। যদি নখ বড় হতে থাকে, তাহলে এর ভিতরে জীবাণু জমে নখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও হাঁটতে গিয়ে নখে আঘাত পেলে নখ নষ্ট হয়ে যায় বা মরে যায়। নখ ছোট থাকলে নখে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

২. প্রতিদিন জুতা বা ফ্লোর থেকে নখে ময়লা জমতে পারে। তাই প্রতিদিন গোসলের সময় ও ঘুমানোর পূর্বে নখ হালকাভাবে হলেও পরিষ্কার করতে হবে। একটি ছোট ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে, যা নখের স্বল্প গভীরের ময়লা পরিষ্কার করতে পারবে, এতে জীবাণু জমবে না ও নখে ইনফেকশন হবেনা।

৩. নখ কাটার সময় আঙ্গুলের সাথে মিল রেখে কাটতে হবে, আঙুলের মাংসের নিচে যেন না আসে এবং নখের কোণাগুলো গোল আকৃতি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে নখ শক্ত থাকবে এবং কোনাগুলো ধারালো হবে না।

৪. নখ কাটার পরে নখের ধার কমাতে এমারি বোর্ড ব্যবহার করা হয়। এটি দিয়ে পায়ের নখ ঘষার সময় সামনের দিকে কোনার অংশ থেকে নমনীয়ভাবে ঘষতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এটি বেশি পুরনো ও ধারহীন যেন না হয়। এতে নখের আকার নষ্ট হয়ে যাবে।

৫. পায়ে পানি লাগলে বা পা ধোয়ার পর দ্রুত শুকাতে হবে। কারণ ভেজা থাকলে নখ নরম হয়ে যায়। এতে সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে।

৬. পা পরিষ্কারের পরে লোশন জাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও পা শুষ্ক হয়ে আসলে বা নখে ব্যথাভাব হলে লোশন ম্যাসাজ করতে হবে।

৭ জুতার সাথে মোজা ব্যবহার করা হলে, বাসায় এসে মোজা ধুয়ে দিতে হবে। একই মোজা পরপর পরা উচিত নয়। এতে মোজায় জমে থাকা জীবাণু বারবার নখে জমতে থাকবে। নিয়মিত মোজা ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকলে দুই-তিনটা মোজা রাখতে হবে।

৮. মাসে ২-৩ বার সময় করে একটি বড় পাত্রে বা বালতিতে গরম পানি নিয়ে কিছুক্ষণ পা চুবিয়ে বসে থাকতে পারেন। সাথে সামান্য শ্যাম্পু বা পরিষ্কারক লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে জমে থাকা ময়লা

Categories
জানা-অজানা

আমড়ার উপকারিতা জানুন

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে দেশি ফল আমড়া। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল অনেকের কাছেই প্রিয়। আকারে ছোট হলেও নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ঠাসা আমড়া। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যে কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে সহজেই। আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের চাহিদা ‍পূরণ করে আমড়া। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতেও সাহায্য করে এটি। কাঁচা আমড়ার পাশাপাশি এর আচার, মোরব্বা কিংবা চাটনি তৈরি করেও খাওয়া যায়।

আমড়ার পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় ১ দশমিক ১ গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম শ্বেতসার, শূন্য দশমিক ১০ গ্রাম স্নেহ জাতীয় পদার্থ এবং ৮০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন আছে। এছাড়াও আছে ০.২৮ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৪ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৩.৯ মিলিগ্রাম লৌহ। আমড়ার খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালোরি। খনিজ পদার্থ বা মিনারেলসের পরিমাণ ০.৬ গ্রাম। এই ফলে প্রায় ৯০%-ই পানি, ৪-৫% কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য প্রোটিন থাকে। জেনে নিন আমড়া কী উপকার করে-

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর করে

আমাদের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা অনেক। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিলে তা হাড়ের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, পাশাপাশি দাঁতের সমস্যা, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগের কারণ হতে পারে। নিয়মিত আমড়া খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়।

ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে

সুস্থ ও সুন্দর ত্বক সবারই প্রত্যাশা। তবে ত্বকের কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে অনেকের। বিশেষ করে ব্রণের সমস্যা থাকে প্রায় সবারই। ত্বক থেকে ব্রণ দূর করতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে আমড়া। এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে। পাশাপাশি দূর করে ব্রণও।

রক্তস্বল্পতা দূর করে

রক্তস্বল্পতা এড়াতে কিংবা এই সমস্যা দূর করতে নিয়মিত আমড়া খান। কারণ আমড়ায় আছে প্রচুর আয়রন যা রক্তস্বল্পতা রোধে সাহায্য করে। এটি আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

হজমের সমস্যা দূর করে

বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে অনেকে সমস্যায় ভুগে থাকেন। নিয়মিত আমড়া খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এই ফলে আছে বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার, এটি পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা থেকে বাঁচতে নিয়মিত আমড়া খান।

রুচি বৃদ্ধি করে

যেকোনো অসুস্থতায় খাবারের রুচি অনেকটাই চলে যায়। সেক্ষেত্রে রোগীকে আমড়া খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এটি মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। আমড়া খেলে অরুচি অনেকটাই কেটে যায় এবং খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

আরও পড়ুন

করোনায় মস্তিষ্কের ক্ষতি, সুস্থ হতে যা করবেন
করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুর ঘটনা কম নয়। আবার আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হলেও এটি বিভিন্নভাবে শরীরের ক্ষতি করে যায়। করোনা পরবর্তী বিভিন্ন সমস্যা দূর হতে লেগে যায় অনেকটা সময়। এটি যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে, তা নয়। বরং মস্তিষ্কের ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মস্তিষ্কের বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগতে দেখা যায় অনেককে।

অনেকের মধ্যে দেখা দিচ্ছে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগের দুর্বলতা বা ক্লান্তির মতো হালকা লক্ষণ। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে তাদের আরও বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই লক্ষণগুলো হতে পারে- মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, বিষণ্ণতা, খিঁচুনি, ফোকাসে অক্ষমতা, স্ট্রোক, আচরণে পরিবর্তন, গন্ধ এবং স্বাদ হ্রাস, চেতনা হ্রাস, ইত্যাদি।

কী কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

করোনাভাইরাস ঠিক কী কারণে আমাদের আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রভাবিত করে, তার সঠিক কারণ এখনও জানতে পারেননি চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তবে এ নিয়ে গবেষকদের কিছু ধারণা রয়েছে। তাদের মতে, গুরুতর ক্ষেত্রে ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড) প্রবেশ করতে পারে এবং সংক্রমণের কারণ হতে পারে। গবেষণার সময় তারা মেরুদণ্ডের তরলে ভাইরাসের জিনগত উপাদান খুঁজে পেয়েছে। এর আরেকটি কারণ হতে পারে অতিমাত্রায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করলে প্রদাহ হতে পারে যা টিস্যু এবং অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কারণে শারীরিক পরিবর্তন যেমন খুব জ্বর, অক্সিজেনের মাত্রা কম বা অর্গ্যান ফেলিওরও ব্রেন কমপ্লিকেশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জেনে নিন করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা থেকে মুক্তির কিছু উপায়-

 

ব্রেন চ্যালেঞ্জিং কাজ করুন

পেশী শক্তিশালী করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চা করে থাকি। ঠিক সেভাবেই মস্তিষ্কের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য তাকে কিছু মস্তিষ্ক-উদ্দীপক কাজে ব্যস্ত রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেন চ্যালেঞ্জিং কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে আমাদের মস্তিষ্ক নতুন কোষ গড়ে তুলতে পারে। সেইসঙ্গে উন্নত হতে পারে কনসেনট্রেশন লেভেল।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ করে তোলে। সেসব খাবারের মধ্যে রয়েছে সবুজ শাকসবজি, ফ্যাটি ফিশ, বেরি জাতীয় খাবার। এ ধরনের খাবারমস্তিষ্কের রক্তনালী ঠিক রাখে এবং সেরিব্রোভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

 

মেডিটেশন করুন

মেডিটেশনের অভ্যাস করুন।

Categories
জানা-অজানা

রূপ, লাবণ্য ও তারুণ্যকে ধরে রাখতে যা করণীয়

এই পৃথিবীতে কম বেশি সবাই সৌন্দর্যের পূজারী। তবে ফর্সা মানেই যে সুন্দর তা কিন্তু নয়। একজন শ্যাম বা কৃষ্ণ বর্ণের মানুষ ও কিন্তু তার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারেন। একজন মানুষের ত্বক যদি হয় সুস্থ, মসৃণ, কোমল ও তারুণ্য তাহলে সেই মানুষটাকে কিন্তু সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ যুগের সব মানুষই এখন বলতে গেলে রূপচর্চা করে।কিন্তু রূপচর্চা করার পরেও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৌন্দর্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পরে। তাই সৌন্দর্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে কিভাবে সঠিক নিয়ম ও সুস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলবেন তা জেনে নেয়া যাক –

দৈনন্দিন জীবনযাপনে যা যা করবেন –

১. ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন। সকালের আবহাওয়া মন ও শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও তাজা রাখে।

২. প্রতিদিন প্রয়োজন মতো পানি খাবেন এবং বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালিপেটে আধা লিটার পানি পান করার অভ্যাস করুন এবং এতে আপনার ত্বকের লাবণ্যতা বেড়ে যাবে।

৩. যাদের সারাদিন বসে কাজ করার অভ্যাস আছে তারা একটু সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করুন এতে পেটে ওভাবে মেদ জমবে না।

৪. নিয়মিত সকালে ব্যায়াম করুন অথবা ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন।

৫. প্রয়োজন ছাড়া সাইবার বা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করবেন না এতে মাথার উপর অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে এবং চোখের সমস্যা হয়ে যায়।

৬. নিয়মিত চুল ও ত্বকের যত্ন নিন।

৭. শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় বের করুন। এতে আপনার সৌন্দর্যের চর্চা বাড়বে।

৮. রোদে বের হলে ছাতা এবং সান্সস্ক্রিন পাওডার বা ক্রীম ব্যাবহার করুন।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে যেসব খাবার বেছে নিবেনঃ

১. নিয়মিত ২-২.৫ লিটার পানি পান করুন। এতে আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকবে।

২. দাতের এবং ত্বকের চর্চায় এন্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার ও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার যেমন আমলকী, কামরাঙ্গা, মাল্টা, লেবুর রস ইত্যাদি বেছে নিন।

৩. হালকা কুসুম গরম দুধে কাচা হলুদ মিশিয়ে খেলে আপনার ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে।

৪. প্রতিদিন সকালে বাদাম খেলে আপনার মুখে আলাদা তৈলাক্ত প্রলেপ পড়বে যা আপনার লাবণ্যতা এনে দিবে।

৫. যে ঋতু চলবে সে ঋতুর শাক-সবজী খাবেন এতে আপনার ত্বকের ময়শ্চারাইজ হবে, হরমোন তৈরি হবে এবং ব্রোনের দাগ থাকলে সেরে যাবে।

৬. প্রতিদিন মধু খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. নিয়মিত টক দই খাবেন। এতে ত্বক সুন্দর ও মসৃন হবে।

৮. যেকোন ফলের রস পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে পানি খুব সহজেই আপনার শরীরে শোষণ হবে।

৯. বিটা ক্যারোটিন যুক্ত খাবার যেমন – মিষ্টি কুমড়া, গাজর, রঙিন শাক-সব্জী খাবেন। এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে ও ত্বকের ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস হবে।

১০. সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত টমেটো, শশা ও গাজরের সালাদ খাবেন।

যেসব খাবার থেকে বিরত থাকবেন-

১. দুধ চা। কারণ দুধ এবং চা একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় চা তার গুনাগুন হারিয়ে ফেলে ফলে ত্বক নষ্ট হয়।

২. অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে মুখে ব্রোনের সৃষ্টি করে।

৩. অতিরিক্ত মশলা ও বাইরের খাবার পরিহার করুন।

৪. কার্বোনেটেড পানীয় পরিহার করুন কারন এতে ওজন বেড়ে জায় শরীর এবং মুখ ফুলে যায়।

৫. চায়ে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। কারণ এটি চেহারায় দ্রুত বয়সের ছাপ তৈরি করে।

আরও পড়ুন

আমড়ার উপকারিতা

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে দেশি ফল আমড়া। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল অনেকের কাছেই প্রিয়। আকারে ছোট হলেও নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ঠাসা আমড়া। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যে কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে সহজেই। আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের চাহিদা ‍পূরণ করে আমড়া। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতেও সাহায্য করে এটি। কাঁচা আমড়ার পাশাপাশি এর আচার, মোরব্বা কিংবা চাটনি তৈরি করেও খাওয়া যায়।

আমড়ার পুষ্টিগুণ

 

প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় ১ দশমিক ১ গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম শ্বেতসার, শূন্য দশমিক ১০ গ্রাম স্নেহ জাতীয় পদার্থ এবং ৮০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন আছে। এছাড়াও আছে ০.২৮ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৪ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৩.৯ মিলিগ্রাম লৌহ। আমড়ার খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালোরি। খনিজ পদার্থ বা মিনারেলসের পরিমাণ ০.৬ গ্রাম। এই ফলে প্রায় ৯০%-ই পানি, ৪-৫% কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য প্রোটিন থাকে। জেনে নিন আমড়া কী উপকার করে-

 

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর করে

আমাদের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা অনেক। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিলে তা হাড়ের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, পাশাপাশি দাঁতের সমস্যা, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগের কারণ হতে পারে। নিয়মিত আমড়া খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়।

ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে

সুস্থ ও সুন্দর ত্বক সবারই প্রত্যাশা। তবে ত্বকের কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে অনেকের। বিশেষ করে ব্রণের সমস্যা থাকে প্রায় সবারই। ত্বক থেকে ব্রণ দূর করতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে আমড়া। এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে। পাশাপাশি দূর করে ব্রণও।

রক্তস্বল্পতা দূর করে

রক্তস্বল্পতা এড়াতে কিংবা এই সমস্যা দূর করতে নিয়মিত আমড়া খান। কারণ আমড়ায় আছে প্রচুর আয়রন যা রক্তস্বল্পতা রোধে সাহায্য করে। এটি আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

হজমের সমস্যা দূর করে

বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে অনেকে সমস্যায় ভুগে থাকেন। নিয়মিত আমড়া খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এই ফলে আছে বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার, এটি পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে।