Categories
জীবনশৈলী

জিমের বিকল্প ঘুম

আকর্ষণীয় কে না হতে চায়! কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া কিংবা অনিয়মের চলাফেরার কারণে সেটা অনেক সময় হয়ে উঠে না বেড়ে যায় মেদ। তবে জিম সেন্টারে গিয়ে শরীরচর্চা কিংবা খাওয়া-দাওয়ায় রাশ না টানলেও ছোটখাটো বেশ কিছু ফ্যাক্টর থাকে, যা আপনাকে করে তুলতে পারে আকর্ষণীয়।

শরীর সুন্দর রাখতে হলে প্রথমেই যেটা দরকার, তা হলো পর্যাপ্ত ঘুম। হ্যাঁ, নিয়মিত ব্যায়াম ও ক্যালোরিতে কাটছাঁট করার পাশাপাশি দরকার যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম। তবে শুধু ঘুমোলেই হবে না, তার সঙ্গে মেনে চলতে হবে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নিয়ম। তবেই সামগ্রিকভাবে ফল পাবেন। আসুন জেনে নিই সেই নিয়মগুলো-

ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রথমেই দেখে নিন, আপনার ঘর অন্ধকার রয়েছে কি না। লাইট নেভানোর পাশাপাশি দেখে নিন ঘরের জানালাগুলোতে পর্দার অবস্থান যেন ঠিক থাকে। এসবের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। অন্ধকার ঘর শরীরে মেলাটনিন তৈরিতে সাহায্য করে। যা প্রভাবিত করে মেটাবলিক রেটকে। মেদ কমাতে সাহায্য করে।

বিছানায় যান তাড়াতাড়ি। গভীর ঘুম শরীরের ক্যালোরি বেশি পোড়াতে সাহায্য করে। যত বেশি গভীর ঘুম হবে, তত বেশি কমবে শরীরের মেদ। কারণ, গভীর ঘুমের সময় ব্রেন সবথেকে বেশি অ্যাকটিভ থাকে। যা শরীরের এনার্জি ব্যবহার করে বডি ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

শুতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আপনার ঘরের কুলার টেম্পারেচার। কারণ, শরীরে যে ব্রাউন ফ্যাট থাকে যা পরিচিত ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু হিসেবেও তা ঠান্ডা পরিবেশে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। যা ফ্যাট সেল গুলি পোড়াতে সাহায্য করে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিয়ে নিন গ্রিন টি। ক্যাফেইন থাকার কারণে গ্রিন টি মেটাবলিজম রেট বাড়ায়। ফলে দ্রুত ক্যালোরি বার্ন হয়।

সবশেষে যেটা না করলেই নয়, তা হলো বিছানায় গিয়ে নিজের প্রিয় ইলেকট্রিক ডিভাইস যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব বন্ধ করে দিন। কারণ এই জিনিসগুলোই আপনাকে ভালো ঘুম থেকে দূরে রাখে। ফোনের ব্লু লাইট শরীর থেকে মেলাটনিন হরমোন নিঃসরণে বাধার সৃষ্টি করে। ব্যাঘাত ঘটে ঘুমের। তাই নিজের প্রতি যত্ন নিন। পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া, শরীর চর্চার পাশাপাশি নজর দিন নিজের ঘুমের দিকেও।

আরও পড়ুন

ওজন নিয়ন্ত্রণে কলা

নানা কারণে মানুষের সুস্থ থাকা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সচেতন থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে অনেক ভালো থাকতে পারেন যে কেউ। সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সকালেই কলা খেতে। অ্যাসিডিটি হওয়ার ভয় থাকলে তার আগে এক মুঠো মুড়ি খান।

সকালে উঠে একগ্লাস উষ্ণ গরমপানি পান করুন। গরমপানি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান এক মুঠো মুড়ি। এরপর ১৫ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড কিছু এক্সসারসাইজ করে কলা ও আমন্ড খান। এতে শরীর থাকবে সুস্থ। থাকবে না গ্যাস অম্বলের ভয়।

কলায় রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী পটাসিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম। তা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ক্ষিদে দূরে রাখে। প্রতিদিনই কলা খাওয়া যায়। কিন্তু খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে: অনেকেই মনে করেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে অনেকেই কলা বাদ দিয়ে দেন।

আমরা যে আবহাওয়া থেকে থাকি, সেই আবহাওয়াতে সবচেয়ে পুষ্টিকর ফল হল কলা। রক্তচাপ ঠিক রাখা থেকে শুরু করে হার্টের সমস্যা সবই দূরে রাখে কলা। এছাড়াও পাকা হলুদ কলায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ব্রেকফাস্টে কলা : ব্রেকফাস্টে ডিম, টোস্ট কিংবা কর্নফ্লেক্সের সঙ্গে অনেকেই কলা খান। এতে যেমন পেট ভরা থাকে তেমন পুষ্টিও পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা অবশ্যই কলা খাবেন ব্রেকফাস্টে। হজমের সমস্যা থাকলেও কলা খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কলা সবসময় হেলদি ফ্যাটের সঙ্গে খেতে হবে। পিনাট বাটার, ইয়োগার্ট কিংবা পরিজের সঙ্গে কলা খান।

খালি পেটে কলা নয়: কলা খাওয়ার আগে একমুঠো শুকনো মুড়ি কিংবা দুটো ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুট অবশ্যই খান। কলাতে ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক সুগার থাকে।

আর যে কারণে খালি পেটে কলা খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে যায়। ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যখানে অনেক সময়ই বেশি গ্যাপ হয়ে যায়। সেই গ্যাপটা পূরণ করে দেয় কলা। কারণ কলায় থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে: পেট পরিষ্কার না হলে আরও নানা সমস্যা দেখা যায় শরীরে। যে কারণে সকালে উঠেই যাতে পেট পরিষ্কার হয় সেইদিকে খেয়াল রাখতেই হবে। যাদের আলসারের মতো সমস্যা রয়েছে, যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন তাদের নিয়ম করে কলা খেতে হবে।

তবে আপনি যদি সকালে একদম খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই বেরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে এবং ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

শরীরে পানির চাহিদা পূরণে কলা: আগের রাতে বেশি তেল মশলাদার খাবার খাওয়া হলে কিংবা একটু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল খাওয়া হয়ে গেলে পরেরদিনও তার একটা প্রভাব থেকে যায়।

কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আর কলা,

Categories
জীবনশৈলী

সাড়া জাগাচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় ফলকে রোগবালাই ও রাসায়নিক মুক্ত রেখে স্বাদ ও ফলের আসল রং অক্ষুন্ন রাখতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি আম চাষে বিপ্লব ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে এই উপজেলায়। কীটনাশকের বিরুদ্ধে মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এই প্রযুক্তিতে ফল চাষ দিন দিন চাষির মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করছে। লালপুরে এক সময় কীটনাশক ছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনের চিন্তা করতে পারতেন না মৌসুমী ফল চাষীরা।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথাগত পরিবর্তন এসেছে ফল উৎপাদনে। উৎপাদিত ফল রফতানির চিন্তা মাথায় রেখে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে চিরাচরিত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে এখানকার চাষিরা বেছে নিচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। সকালে উপজেলা বিজয়পুর এলাকার কমরুজ্জামান লাভলুর আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে বাবুই পাখির বাসার মতো প্রতিটা আমের গাছে হলুদ ও সাদা রঙ্গের ব্যাগ ঝুলছে কাছে গিয়ে দেখা যায় ব্যাগের মধ্যে আম রয়েছে।

কথা হয় বাগান মালিক আম চাষি কামরুজ্জামান লাভলু সঙ্গে তিনি বলেন, বিষমুক্ত আম উৎপাদনের একমাত্র উপায় ফ্রুট ব্যাগিং। গত বছর ১০ বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে লাভবান হওয়ায় এবার প্রায় ১৬ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে (বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আম ঢেকে রাখা) ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন তিনি। বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা গাছে থাকা অবস্থায় ফলকে আবৃত করে রাখাটাই ফ্রুট ব্যাগিং। ফলের একটা নির্দিষ্ট আকারের সময় এই ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

ফল সংগ্রহ পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে। এই ব্যাগটি বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং ও আকারের হয়ে থাকে। তার মতে, কীটনাশক, পোকামাকড় ও বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে রক্ষা করতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এতে আম থাকে বিষমুক্ত। তবে এই পদ্ধতি একটু ব্যয়বহুল হলেও আম বিক্রির লাভ থেকে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। কারণ এই পদ্ধতির আমের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা একটু বেশি দামে হলেও বিষমুক্ত আম কিনতে চান। অনেক আম চাষিই এই পদ্ধতির দিকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। লালপুর ুউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর এই উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে।

বিষমুক্ত ফল উৎপাদনের এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। ফ্রুট ব্যাগিংকৃত আমের চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কারণ এই আম কীটনাশকমুক্ত, পোকামাকড়, বিরূপ আবহাওয়া ও বাইরের ক্ষতিকর কোনো প্রভাবই এই ব্যাগের মধ্যে ঢুকতে পারে না। এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাতে সভা করা হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতির উপকরণের মূল্য কম ও সহজলভ্য হলে আগামীতে এই পদ্ধতিতে আমের চাষ আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ভালোবাসার মানুষের প্রতারণা বুঝার উপায়

ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেমিক বা প্রেমিকা সবসময় ভালো দিকটাই দেখিয়ে থাকেন। সম্পর্কে জড়ানোর পর সর্বদা নিজের খারাপ দিকটা লুকিয়ে রাখেন। সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই তো ফোনে বা ম্যাসেঞ্জারে কথা হয়। আর দেখা হওয়ার সময় তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এই সময়ে কি করে বিচার করবেন জীবন সঙ্গী করতে চাওয়া মানুষটিকে।

বিচার করার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, মানুষটি আপনার সঙ্গে সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে এটা জানা কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। সঙ্গী হিসেবে অবশ্যই একজন ভালো মানুষকে পছন্দ করতে হয়। অনেকে একাধিক সম্পর্ক চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি যখন গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে বিষয়টি জানার পর খুব আঘাত লাগে হৃদয়ে। অনেকে তা সহ্য করতে না পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটান। তাই জীবন সঙ্গীকে জানতে-বুঝতে সে সত্য বলছে কিনা জেনে নেওয়ার

উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-
কথা রক্ষা না করা : আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আপনাকে জানানো হল সে আপনার সঙ্গে অংশ নিতে পারবে না। বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। কখনো কখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজও দেখান। একটা সময় জানতে পারলেন ঐ সময়টায় তার কোনো কাজই ছিল না। এমনটা দেখলে তার সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কেন মিথ্যা বলল সেটাও জানার প্রয়োজন নেই।

অন্য বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা : ভালোবাসার মানুষটি অন্য কারও সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে বা বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে এটা কেউই মেনে নিতে পারবে না। মুখে হাজারবার অসুবিধা নেই বললেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই রাগ করেন সকলে। এক্ষেত্রে অনেকে ভালোবাসার মানুষ রাগ করবেন ভেবে মিথ্যা বলে থাকেন। পরবর্তীতে এ নিয়েই সমস্যার শুরু হয়। এতে বিশ্বাস ভেঙে যায়। একাধিকবার এমনটা করলে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বা ম্যাসেজ : অনেকেই আছেন ভালোবাসার মানুষটির পাশে থেকেই অন্য কারও সঙ্গে চ্যাটিং বা ফোনে কথা বলেন। আবার তাদের বলেন যে বিষয়টি যেন কাউকে না বলেন। এটা খুবই খারাপ। এতে করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আপনি যাকে ভালোবাসেন আর তার অপছন্দের কাজ করেন সেটা কি উচিত হবে আপনার। এতে অন্যজন আঘাত পান। যা কথা বলার, ম্যাসেজ করার ভালোবাসার মানুষটির সামনেই করুন।

বন্ধু বা বান্ধবীর ভালোবাসার মানুষ বেশি আকর্ষণীয় : এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের ভালোবাসার মানুষটির থেকে অন্যের ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি পছন্দ করেন। বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কখনো

Categories
জীবনশৈলী

কিটো ডায়েটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

২০০৬ সাল; আমি তখন স্কুলে পড়ি। হঠাৎ পত্রিকার পাতায় একটি খবরে চোখে আটকে গেল। ২১ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এক মডেল Anorexia Nervosa নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তখন জানতে পারি, এটি একটি eating disorder.

এই সংবাদে আমাকে যে ব্যাপারটা অবাক করে তা হলো, এই মডেল জিরো ফিগার ধরে রাখতে খাবার পর বমি করে ফেলে দিতেন। এ ঘটনার পর সব মডেলদের জন্য জিরো ফিগারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আমার ধারণা ছিল, এটি হয়তো পাশ্চাত্যদেশের রোগ। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য নয়।

পরে আমি পুষ্টিবিজ্ঞানে পড়ার সুবাদে এই বিরল রোগ নিয়ে বিস্তারিত পড়ার সুযোগ পাই। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ক’দিন আগে আমাদের দেশে সামিন নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয় এই Anorexia Nervosa রোগে।

এখন আসি এই রোগটি আসলে কী? এটি হলো বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর ডায়েটে যেমন কিটো, ফাস্টিং ইত্যাদির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।এটি এমন একটি eating disorder যা রোগীকে ডায়েটের মাধ্যমে কম ওজন ধরে রাখতে মানসিকভাবে কঠিন করে তোলে। তখন এরা প্রয়োজনীয় খাবারটুকু খেতেও ভয় পায়। তারা ভাবে যদি ওজন বেড়ে যায়! আবার খাবার খেয়ে এদের বমি করার প্রবণতা দেখা দেয়।এ রোগীদের মধ্যে ওজন কমানোর জন্য অত্যাধিক ব্যায়াম করতে দেখা যায়। নেশাগ্রস্ত হবারও আশঙ্কা বাড়ে। এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়।

রোগটি বেশি দেখা যায় সৌন্দর্যপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে, মডেলদের মধ্যে আবার যারা বডি শেমিং নিয়ে বুলিং এর শিকার যেমনটি কিশোর সামিন। এছাড়াও যে কোনো বয়সে যে কারো এমন হতে পারে। Anorexia Nervosa আক্রান্ত ব্যক্তির নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমন:রশূন্যতা, হৃদরোগ, ভিটামিনের অভাবজনিত রোগসমূহ, নিদ্রাহীনতা, মেয়েদের পিরিয়ড ইরেগুলার, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়া, কিডনি জটিলতা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য। এতো সব জটিলতা দেখা দেবার পর সর্বশেষ পরিণতি হয় মৃত্যু।

Anorexia Nervosa রোগটির চিকিৎসা তুলনামূলক অন্যসব রোগের থেকে ভিন্ন ও জটিল। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না যে তারা কোন রোগে আক্রান্ত।এই রোগীরা যেহেতু খুব কম খাবার গ্রহণ করে তাই এদের খাবারের তালিকা খুব টেকনিক্যালি মেইনটেইন করতে হবে।রোগীর অবস্থা বেশি আশঙ্কা জনক হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

এই রোগীদের প্রচুর কাউন্সেলিং করতে হয়। তাদের বুঝাতে হবে সুস্বাস্থ্যের সঠিক অর্থ এবং এর সুফলতা।আর আমরা যারা আশেপাশে আছি, আমাদের সকলের উচিত তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে পাশে থাকা।

আরও পড়ুন

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যা খাওয়াবেন

বেশিরভাগ শিশুই খাওয়ার ব্যাপারে উদাসীন। তাদেরকে জোর করে খাওয়াতে হয়। আর পুষ্টিকর খাবার না পেলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও ধীর গতিতে হয়। তাই আপনার শিশুকে কোন ধরনের খাবার নিয়মিত দিলে সে দ্রুত বেড়ে উঠবে, তা জেনে নেয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে শিশুর শরীরের গ্রোথ হরমোন নির্গত হয়, এর ফলে তার বৃদ্ধি হয় দ্রুত। শিশুদের যেসব খাবার নিয়মিত খাওয়াবেন-

ডিম: প্রচুর প্রোটিন থাকে ডিমে, যা শরীরের মাংসপেশী ও কোষ গড়ে উঠতে সহায়তা করে। ডিমে যে ভিটামিন ডি থাকে,তা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে ভূমিকা রাখে। এতে শিশুর হাড় গড়ে উঠে ও বৃদ্ধি হয়।

দই: প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্য সব পুষ্টি উপাদান থাকে দইয়ে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক্স পাকস্থলী ভালো রাখে ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে।

সবজির বীজ: সয়া সবজির বীজ, শিমের বীজ সহ বিভিন্ন সবজির বীজে প্রচুর প্রোটিন থাকে, যা হাড় তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস এসব বীজ। তাই শিশুকে স্বাস্থ্যকর বীজ খাওয়ান।

খাদ্য শস্য: বিভিন্ন খাদ্য শস্যে অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম, সেলিনিয়াম, জিংক, আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা শিশুর শরীর গঠনে খুব সহায়ক।

শুকনো ফল: শুকনো ফলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। এতে আঁশ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে অনেক, যা শিশুর শরীর বৃদ্ধি করতে পারে।

শাকসবজি: সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি, কে, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। তাই শাকসবজি হাড় মজবুত করে ও শরীর সুস্থ রাখে। তাই শিশুকে শাক সবজি খাওয়ান

Categories
জীবনশৈলী

সহজে ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরি করুন

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাকের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি এসব ফেসপ্যাকে নেই কোনও ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। পাশাপাশি ত্বক সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পানি পানও জরুরি।

১ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও প্রয়োজন মতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। ধুয়ে ফেলুন কুসুম গরম পানি দিয়ে।

১ টেবিল চামচ করে চালের আটা, চন্দন গুঁড়া ও বেসন নিন। আধা চামচ গুঁড়া দুধ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি ৫ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
সমপরিমাণ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। কিছুক্ষণ ত্বকে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ বেসন, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ তরল দুধ ও আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার জেল, ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট।

২ চা চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চা চামচ টমেটোর রস ও আধা চা চামচ চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত।

আরও পড়ুন
নানা গুণে ভরপুর জাম্বুরা

জাম্বুরা একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে হজমের উন্নতি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পেশির শিরটান কমাতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন, খনিজ উপাদান, পটাশিয়াম, আঁশ, ভিটামিন বি৬ এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।

গুণাগুণ: প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য জাম্বুরায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালোরি, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৩ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, থায়ামিন ০.০৩৪ মিলি গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০২৭ মিলি গ্রাম, নিয়াসিন ০.২২ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৬ মিলি গ্রাম, ভিটামিন সি ১০৫ মিলি গ্রাম, ক্যারোটিন ১২০ মাইক্রো গ্রাম, আয়রন ০.২ মিলি গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭ মিলি গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম।

জাম্বুরার স্বাস্থ্য উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: একটি জাম্বুরায় দৈনিক চাহিদার ৬০০ শতাংশ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি এসকরবিক অ্যাসিডের ভালো উৎস যা দ্রুত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে যা শ্বেত রক্ত কণিকার কার্যক্রম বাড়ায় এবং ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে।

জাম্বুরা ঠান্ডা, সর্দি-জ্বর জনিত সমস্যার জন্য খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

হজমে সহায়ক: এতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে। একটি মাঝারি আকারের জাম্বুরাতে দৈনিক চাহিদার ২৫ শতাংশ আঁশের চাহিদা পূরণ করে। পর্যাপ্ত আঁশ স্বাস্থ্যসম্মত হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: জাম্বুরা পটাশিয়ামের ভালো উৎস। দৈনিক চাহিদার ৩৭ শতাংশ এর মাধ্যমে পূরণ করা যায়। পটাশিয়াম এক ধরনের ভ্যাসোডিলেটর এটি রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে এবং দুশ্চিন্তা দূর করে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং দেহে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

ওজন কমায়: জাম্বুরায় ‘চর্বি পোড়ানোর এনজাইম’ উপাদান রয়েছে। যা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পেশি মোচড়ানোর প্রতিরোধে: পটাশিয়াম শরীরে ফ্লুইডের ভারসাম্য

Categories
জীবনশৈলী

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে

পরিমিত পরিমাণ খাবার খেতে হবে

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। একটি সুষম খাবার তালিকা তৈরি করুন। ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট—সবকিছুর মধ্যে যেন একটা ভারসাম্য থাকে।

ভিটামিন ও প্রোটিনজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ও প্রোটিনজাতীয় খাবার রাখুন। কিন্তু তা যেন পরিমাণে বেশি না হয়, সেদিকে নজর রাখুন। অতিরিক্ত ভিটামিন ও প্রোটিন খেলেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হুট করে বেড়ে যাবে না; বরং হিতে বিপরীত ঘটবে। হঠাৎ শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ও মিনারেল বৃদ্ধির ফলে অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি
হতে পারে।

দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে
দুগ্ধজাত খাবারগুলো বিজ্ঞানের ভাষায় প্রোবায়োটিকস হিসেবে পরিচিত। যেমন দই, ঘোল, ছানা ইত্যাদি। মানুষের পাকস্থলীতে যে আবরণ আছে, তার ভেতর বেশ কিছু উপকারী জীবাণু কার্যকরী হয়। পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমলে সেখানে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। দুগ্ধজাত খাবারগুলো পাকস্থলীতে উপকারী জীবাণুকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিটামিন ডির জন্য দিনের কিছুটা সময় শরীরে রোদ লাগাতে হবে। এটা খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যার শরীরের গঠন ভালো এবং সেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না, তার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি হবে। যেমন শিশুর জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

নিয়মিত ডিম খেতে হবে
নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সেদ্ধ, পোচ কিংবা ভাজা যেকোনোভাবেই ডিম খেতে পারেন। ডিম শরীরে শক্তি সঞ্চার করে এবং রোগের সঙ্গে লড়ার শক্তি জোগায়।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলে সেটি শরীরের ভেতরে ঢোকার পর ফ্যাট বা চর্বিতে রূপান্তর ঘটে। তাই একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা উচিত এবং এর সঙ্গে ৩০ শতাংশ প্রোটিন ও ৫ শতাংশ চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত চা-কফি গ্রহণ নয়
অতিমাত্রায় চা-কফি পান করা শরীরের জন্য ভালো নয়। চা-কফিতে এমন অনেক উপাদান থাকে, যার কোনোটি শরীরের জন্য ভালো ও কোনোটি খারাপ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
অতিরিক্ত ওজন নানা রোগের উৎস। আমেরিকান একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজনের ফলেই বেশির ভাগ কোভিড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ আরও জটিল রোগের কারণ। তাই সব সময় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করতে হবে
প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। আমরা না জেনে অনেক সময় ভুল ব্যায়াম করি, অর্থাৎ আমাদের শরীর নিতে পারে না এমন অনেক ব্যায়াম করার ফলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। তাই আপনার শরীর নিতে পারে এমন ব্যায়াম করুন। নিজের সক্ষমতার চেয়ে অধিক ব্যায়াম করা উল্টো শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

শারীরিক পরিশ্রম করুন
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে, তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করে।
শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদ্‌যন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই সঙ্গে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছায়। তখন শরীরের কোষগুলোয় শক্তি উৎপাদন শুরু হয়। এমন ধরনের পরিশ্রম করতে হবে, যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে।

লেখক: অধ্যাপক, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
সহজে ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরি করুন

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাকের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি এসব ফেসপ্যাকে নেই কোনও ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। পাশাপাশি ত্বক সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পানি পানও জরুরি।

১ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও প্রয়োজন মতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। ধুয়ে ফেলুন কুসুম গরম পানি দিয়ে।

১ টেবিল চামচ করে চালের আটা, চন্দন গুঁড়া ও বেসন নিন। আধা চামচ গুঁড়া দুধ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি ৫ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
সমপরিমাণ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। কিছুক্ষণ ত্বকে লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ বেসন, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ তরল দুধ ও আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার জেল, ১ চা চামচ লেবুর রস

Categories
জীবনশৈলী

নখের যত্ন করার উপায় জেনে নিন

হাতের নখের দিকে সময়ে সময়ে নজর দেওয়া হলেও পায়ের নখ যেন পায়ের মতোই অবহেলায় রয়ে যায়।
বিশেষত যাদের নিত্যদিন বাইরে চলাচল করা প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে পায়ের নখের যত্ন নেওয়া বেশি জরুরী। বাইরে থেকে ফিরেই পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার সাথে নজর দিতে হবে পায়ের নখের দিকেও। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনগুলোতে নখে কাদা লেগে যায়।

ধুলাবালি নখের ভেতর প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন পায়ের নখ অপরিষ্কার রাখা হলে নখে জীবাণু জমে ফাঙ্গাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে নখ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে রাখা প্রয়োজন পায়ের নখের যত্নে কী করতে হবে।

১. পায়ের নখ ছোট রাখতে হবে। নেইলকাটার মেশিন দিয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন নখ কাটতে হবে। যদি নখ বড় হতে থাকে, তাহলে এর ভিতরে জীবাণু জমে নখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও হাঁটতে গিয়ে নখে আঘাত পেলে নখ নষ্ট হয়ে যায় বা মরে যায়। নখ ছোট থাকলে নখে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

২. প্রতিদিন জুতা বা ফ্লোর থেকে নখে ময়লা জমতে পারে। তাই প্রতিদিন গোসলের সময় ও ঘুমানোর পূর্বে নখ হালকাভাবে হলেও পরিষ্কার করতে হবে। একটি ছোট ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে, যা নখের স্বল্প গভীরের ময়লা পরিষ্কার করতে পারবে, এতে জীবাণু জমবে না ও নখে ইনফেকশন হবেনা।

৩. নখ কাটার সময় আঙ্গুলের সাথে মিল রেখে কাটতে হবে, আঙুলের মাংসের নিচে যেন না আসে এবং নখের কোণাগুলো গোল আকৃতি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে নখ শক্ত থাকবে এবং কোনাগুলো ধারালো হবে না।

৪. নখ কাটার পরে নখের ধার কমাতে এমারি বোর্ড ব্যবহার করা হয়। এটি দিয়ে পায়ের নখ ঘষার সময় সামনের দিকে কোনার অংশ থেকে নমনীয়ভাবে ঘষতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এটি বেশি পুরনো ও ধারহীন যেন না হয়। এতে নখের আকার নষ্ট হয়ে যাবে।

৫. পায়ে পানি লাগলে বা পা ধোয়ার পর দ্রুত শুকাতে হবে। কারণ ভেজা থাকলে নখ নরম হয়ে যায়। এতে সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে।

৬. পা পরিষ্কারের পরে লোশন জাতীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও পা শুষ্ক হয়ে আসলে বা নখে ব্যথাভাব হলে লোশন ম্যাসাজ করতে হবে।

৭ জুতার সাথে মোজা ব্যবহার করা হলে, বাসায় এসে মোজা ধুয়ে দিতে হবে। একই মোজা পরপর পরা উচিত নয়। এতে মোজায় জমে থাকা জীবাণু বারবার নখে জমতে থাকবে। নিয়মিত মোজা ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকলে দুই-তিনটা মোজা রাখতে হবে।

৮. মাসে ২-৩ বার সময় করে একটি বড় পাত্রে বা বালতিতে গরম পানি নিয়ে কিছুক্ষণ পা চুবিয়ে বসে থাকতে পারেন। সাথে সামান্য শ্যাম্পু বা পরিষ্কারক লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে জমে থাকা ময়লাগুলো চলে যাবে।

৯. লেবু নখ পরিষ্কারের এবং নখ সাদা রাখতে ও জীবাণু থেকে রক্ষার জন্য খুব কার্যকরী। টুকরো লেবু নিয়ে নখের উপর এর রস ঘষে কিছুক্ষণ পা রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আরও পড়ুন

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে

পরিমিত পরিমাণ খাবার খেতে হবে
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। একটি সুষম খাবার তালিকা তৈরি করুন। ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট—সবকিছুর মধ্যে যেন একটা ভারসাম্য থাকে।

ভিটামিন ও প্রোটিনজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ও প্রোটিনজাতীয় খাবার রাখুন। কিন্তু তা যেন পরিমাণে বেশি না হয়, সেদিকে নজর রাখুন। অতিরিক্ত ভিটামিন ও প্রোটিন খেলেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হুট করে বেড়ে যাবে না; বরং হিতে বিপরীত ঘটবে। হঠাৎ শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ও মিনারেল বৃদ্ধির ফলে অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি
হতে পারে।

দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে
দুগ্ধজাত খাবারগুলো বিজ্ঞানের ভাষায় প্রোবায়োটিকস হিসেবে পরিচিত। যেমন দই, ঘোল, ছানা ইত্যাদি। মানুষের পাকস্থলীতে যে আবরণ আছে, তার ভেতর বেশ কিছু উপকারী জীবাণু কার্যকরী হয়। পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমলে সেখানে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। দুগ্ধজাত খাবারগুলো পাকস্থলীতে উপকারী জীবাণুকে বাঁচিয়ে রাখে। ভিটামিন ডির জন্য দিনের কিছুটা সময় শরীরে রোদ লাগাতে হবে। এটা খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যার শরীরের গঠন ভালো এবং সেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না, তার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি হবে। যেমন শিশুর জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

নিয়মিত ডিম খেতে হবে
নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সেদ্ধ, পোচ কিংবা ভাজা যেকোনোভাবেই ডিম খেতে পারেন। ডিম শরীরে শক্তি সঞ্চার করে এবং রোগের সঙ্গে লড়ার শক্তি জোগায়।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলে সেটি শরীরের ভেতরে ঢোকার পর ফ্যাট বা চর্বিতে রূপান্তর ঘটে। তাই একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা উচিত এবং এর সঙ্গে ৩০ শতাংশ প্রোটিন ও ৫ শতাংশ চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত চা-কফি গ্রহণ নয়
অতিমাত্রায় চা-কফি পান করা শরীরের জন্য ভালো নয়। চা-কফিতে এমন অনেক উপাদান থাকে, যার কোনোটি শরীরের জন্য ভালো ও কোনোটি খারাপ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
অতিরিক্ত ওজন নানা রোগের উৎস। আমেরিকান একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজনের ফলেই বেশির ভাগ কোভিড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ আরও জটিল রোগের কারণ। তাই সব সময় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করতে হবে
প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। আমরা না জেনে অনেক সময় ভুল ব্যায়াম করি, অর্থাৎ আমাদের শরীর নিতে পারে না এমন অনেক ব্যায়াম করার ফলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। তাই আপনার শরীর নিতে পারে এমন ব্যায়াম করুন। নিজের সক্ষমতার চেয়ে অধিক ব্যায়াম করা উল্টো শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

শারীরিক পরিশ্রম করুন
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে, তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করে।
শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদ্‌যন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই

Categories
জানা-অজানা জীবনশৈলী

পেঁপে পাতার ঔষধি গুণ

পেঁপে গাছ খুব সহজেই হয়, ফলনও হয় অনেক। পেঁপে এমন একটি গাছ যার প্রায় প্রতিটি অংশই ব্যবহার করা যায়। এর বীজেও রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই বিশ্বে এই ফল পছন্দের তালিকায় রয়েছে সবার উপরে। তবে আমরা অনেকেই পেঁপে পাতা সম্পর্কে জানি না। এরও উপকারিতা প্রচুর। আজ এই প্রতিবেদনে আমরা পেঁপে পাতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানবো।

পেঁপে পাতা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমন স্কিনের জন্য উপকারী। পেঁপে পাতায় রয়েছে পাপাইন, যা হজমে সাহায্য করে। পেট ফুলে যাওয়া এবং অন্যান্য হজম সংক্রান্ত ব্যাধি প্রতিরোধ করে। হজমের পাশাপাশি কারপেইনের মতো শক্তিশালী যৌগ খুশকি ও চুল পড়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভিটামিন পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন ই, সি এবং বিটা ক্যারোটিন। আর পেঁপে পাতায় এ, সি, ই, কে ও বি এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাহলে জেনে নিন পেঁপে পাতার জুসের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১) ডেঙ্গু মোকাবিলা করে পেঁপে পাতা

ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীদের পেঁপে পাতার রস খেতে বলা হয়। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কাউন্ট কমতে শুরু করে, পেঁপে পাতার রস প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে।

২) অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া উপাদান

পেঁপে পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া উপাদান। এতে থাকা এসিটোজেনিন যৌগ ডেঙ্গুর পাশাপাশি ম্যালেরিয়া সারিয়ে তুলতেও সাহায্য করে।

৩) লিভারের জন্য ভালো

লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে পেঁপে পাতার রস। তাই এই রস প্রতিদিন খেলে লিভারের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জন্ডিস এবং লিভার সিরোসিস হওয়ার ভয় থাকে না।

৪) হজমে সাহায্য

পেঁপে পাতায় থাকা এনজাইম প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড এবং মিনারেলকে ভেঙে হজমে সাহায্য করে। এর উচ্চ অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান পেট এবং মলাশয়ের প্রদাহকে হ্রাস করে। পেঁপে পাতার রস খেলে আলসার নিরাময় হয়।

৫) রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে

ডায়াবেটিসে দারুন কাজ করে পেঁপে পাতার রস। এটি ইনসুলিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান কিডনি ড্যামেজ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো ডায়াবেটিসের ফলে যে জটিলতা দেখা দেয় তা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। কিডনির সমস্যা নিমেষেই দূর করবে মেথির তেল! এবার জেনে নিন এর অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা-

৬) মাসিকের ব্যথা কম করে

পিরিয়ডের সময় পেটের যন্ত্রণা প্রায় সবার হয়। পেঁপে পাতার রস খেলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই রস হরমোন এবং মাসিক চক্র ঠিক রাখে।

৭) ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

পেঁপে পাতায় থাকা এসিটোজেনিন যৌগ অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান। এথনোফার্মাকোলজির জার্নালের সমীক্ষা অনুসারে, পেঁপে পাতায় থাকা এনজাইমগুলো লিভার ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। পেঁপে পাতার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ এবং কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সহায়ক হতে পারে।

৮) স্কিনের সমস্যা দূর করে

পেঁপে পাতার রসে ভিটামিন সি এবং এ থাকে, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং আপনাকে স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল ত্বক দেয়। পেঁপে পাতার রস ফ্রি র‌্যাডিক্যালসের ক্রিয়াকে দমন করে। কারপাইন যৌগের উপস্থিতি অতিরিক্ত অণুজীবের বৃদ্ধি পরীক্ষা করে এবং ত্বক পরিষ্কার করে। ত্বকের সমস্যাগুলি যেমন পিম্পলস, ফ্রিকেলস এবং ব্রণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

৯) চুল ভালো রাখে

ত্বকের পাশাপাশি চুল ভালো রাখতেও পেঁপে পাতার রস কাজ করে। চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া আটকায় পেঁপে পাতার রস। খুশকি দূর করতেও দারুন কাজ করে। এছাড়াও, স্ক্যাল্প থেকে ধুলো-ময়লা ও তেল দূর করে।

আরও পড়ুন

রূপ, লাবণ্য ও তারুণ্যকে ধরে রাখতে যা করণীয়

এই পৃথিবীতে কম বেশি সবাই সৌন্দর্যের পূজারী। তবে ফর্সা মানেই যে সুন্দর তা কিন্তু নয়। একজন শ্যাম বা কৃষ্ণ বর্ণের মানুষ ও কিন্তু তার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারেন। একজন মানুষের ত্বক যদি হয় সুস্থ, মসৃণ, কোমল ও তারুণ্য তাহলে সেই মানুষটাকে কিন্তু সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ যুগের সব মানুষই এখন বলতে গেলে রূপচর্চা করে।কিন্তু রূপচর্চা করার পরেও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৌন্দর্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পরে। তাই সৌন্দর্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে কিভাবে সঠিক নিয়ম ও সুস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলবেন তা জেনে নেয়া যাক –

দৈনন্দিন জীবনযাপনে যা যা করবেন –

১. ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন। সকালের আবহাওয়া মন ও শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও তাজা রাখে।

২. প্রতিদিন প্রয়োজন মতো পানি খাবেন এবং বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালিপেটে আধা লিটার পানি পান করার অভ্যাস করুন এবং এতে আপনার ত্বকের লাবণ্যতা বেড়ে যাবে।

৩. যাদের সারাদিন বসে কাজ করার অভ্যাস আছে তারা একটু সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করুন এতে পেটে ওভাবে মেদ জমবে না।

৪. নিয়মিত সকালে ব্যায়াম করুন অথবা ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন।

৫. প্রয়োজন ছাড়া সাইবার বা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করবেন না এতে মাথার উপর অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে এবং চোখের সমস্যা হয়ে যায়।

৬. নিয়মিত চুল ও ত্বকের যত্ন নিন।

৭. শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় বের করুন। এতে আপনার সৌন্দর্যের চর্চা বাড়বে।

৮. রোদে বের হলে ছাতা এবং সান্সস্ক্রিন পাওডার বা ক্রীম ব্যাবহার করুন।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে যেসব খাবার বেছে নিবেনঃ

১. নিয়মিত ২-২.৫ লিটার পানি পান করুন। এতে আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকবে।

২. দাতের এবং ত্বকের চর্চায় এন্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার ও ভিটামিন সি যুক্ত খাবার যেমন আমলকী, কামরাঙ্গা, মাল্টা, লেবুর রস ইত্যাদি বেছে নিন।

৩. হালকা কুসুম গরম দুধে কাচা হলুদ মিশিয়ে খেলে আপনার ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে।

৪. প্রতিদিন সকালে বাদাম খেলে আপনার মুখে আলাদা তৈলাক্ত প্রলেপ পড়বে যা আপনার লাবণ্যতা এনে দিবে।

৫. যে ঋতু চলবে সে ঋতুর শাক-সবজী খাবেন এতে আপনার ত্বকের ময়শ্চারাইজ হবে, হরমোন তৈরি হবে এবং ব্রোনের দাগ থাকলে সেরে যাবে।

৬. প্রতিদিন মধু খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৭. নিয়মিত টক দই খাবেন। এতে ত্বক সুন্দর ও মসৃন হবে।

৮. যেকোন ফলের রস পানির সাথে

Categories
জীবনশৈলী

মেথি খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

মেথি ব্যবহার করা হয় রান্নার কাজে। খাবারের সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে মেথির ব্যবহার বেশ পুরোনো। এছাড়াও নানা কাজে লাগে মেথি। এর উপকারিতাও কিন্তু অনেক। আপনি যদি নিয়মিত মেথি খেতে পারেন, তবে দূরে থাকা যাবে শারীরিক অনেক সমস্যা থেকে। এটি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না সহজে। তবে যেকোনো প্রকারে খেলেই হবে না, এটি খাওয়ার আগে জানা থাকা চাই সঠিক নিয়ম। নয়তো উপকারিতা না-ও মিলতে পারে।

মেথি খাওয়ার নিয়ম

এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি নিন। এবার তাতে এক চা চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে উঠে খালি পেটে সেই পানিটুকু পান করুন। আবার সকালে খালি পেটে শুধু মেথিও চিবিয়ে খেতে পারেন। এতেও মিলবে উপকার। চাইলে মেথি ভেজানো পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। পাশাপাশি রুটি, পরোটা, ঝোল তরকারি, সালাদ এবং মাছে ব্যবহার করতে পারেন মেথি। এতেও উপকৃত হবেন। জেনে নিন মেথি খেলে কী উপকার মিলবে-

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

মেথিতে থাকে দ্রবণীয় ফাইবার। এর ফলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমানো সহজ হয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি খেলে তা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কৃমি দূর করে

অনেকেই কৃমির সমস্যায় ভুগে থাকেন। এটি হতে পারে আরও অনেক অসুখের কারণ। বিশেষ করে শিশুদের এই সমস্যায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে মেথি। নিয়মিত মেথি খেলে কৃমি দূর হয়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

অতিরিক্ত ওজন ও বাড়তি চর্বি নিয়ে মুশকিলে পড়লে মেথির সাহায্য নিতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত মেথি খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চর্বিও ঝরায়। সুস্থ থাকার জন্য তাই নিয়মিত মেথি খান।

ত্বকের দাগ দূর করে

ত্বকে নানা ধরনের দাগ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকে। এ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে মেথি। আপনি যদি নিয়মিত মেথি খান তবে ত্বকের নানা দাগছোপ দূর হবে সহজেই। সেইসঙ্গে ত্বক হবে ভেতর থেকে উজ্জ্বল।

পেটের সমস্যা দূর করে

পেটের নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। এর থেকে মুক্তির জন্য মেনে চলেন নানা উপায়। পেটের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে খাবারের দিকে। নিয়মিত মেথি খেলে তা গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ আরও অনেক সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।

আরও পড়ুন

পেঁপে পাতার ঔষধি গুণ
পেঁপে গাছ খুব সহজেই হয়, ফলনও হয় অনেক। পেঁপে এমন একটি গাছ যার প্রায় প্রতিটি অংশই ব্যবহার করা যায়। এর বীজেও রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই বিশ্বে এই ফল পছন্দের তালিকায় রয়েছে সবার উপরে। তবে আমরা অনেকেই পেঁপে পাতা সম্পর্কে জানি না। এরও উপকারিতা প্রচুর। আজ এই প্রতিবেদনে আমরা পেঁপে পাতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানবো।

পেঁপে পাতা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমন স্কিনের জন্য উপকারী। পেঁপে পাতায় রয়েছে পাপাইন, যা হজমে সাহায্য করে। পেট ফুলে যাওয়া এবং অন্যান্য হজম সংক্রান্ত ব্যাধি প্রতিরোধ করে। হজমের পাশাপাশি কারপেইনের মতো শক্তিশালী যৌগ খুশকি ও চুল পড়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভিটামিন পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন ই, সি এবং বিটা ক্যারোটিন। আর পেঁপে পাতায় এ, সি, ই, কে ও বি এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাহলে জেনে নিন পেঁপে পাতার জুসের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১) ডেঙ্গু মোকাবিলা করে পেঁপে পাতা

 

ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীদের পেঁপে পাতার রস খেতে বলা হয়। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কাউন্ট কমতে শুরু করে, পেঁপে পাতার রস প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে।

২) অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া উপাদান

পেঁপে পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া উপাদান। এতে থাকা এসিটোজেনিন যৌগ ডেঙ্গুর পাশাপাশি ম্যালেরিয়া সারিয়ে তুলতেও সাহায্য করে।

৩) লিভারের জন্য ভালো

লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে পেঁপে পাতার রস। তাই এই রস প্রতিদিন খেলে লিভারের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জন্ডিস এবং লিভার সিরোসিস হওয়ার ভয় থাকে না।

৪) হজমে সাহায্য

পেঁপে পাতায় থাকা এনজাইম প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড এবং মিনারেলকে ভেঙে হজমে সাহায্য করে। এর উচ্চ অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান পেট এবং মলাশয়ের প্রদাহকে হ্রাস করে। পেঁপে পাতার রস খেলে আলসার নিরাময় হয়।

৫) রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে

ডায়াবেটিসে দারুন কাজ করে পেঁপে পাতার রস। এটি ইনসুলিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান কিডনি ড্যামেজ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো ডায়াবেটিসের ফলে যে জটিলতা দেখা দেয় তা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। কিডনির সমস্যা নিমেষেই দূর করবে মেথির তেল! এবার জেনে নিন এর অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা-

৬) মাসিকের ব্যথা কম করে

পিরিয়ডের সময় পেটের যন্ত্রণা প্রায় সবার হয়। পেঁপে পাতার রস খেলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই রস হরমোন এবং মাসিক চক্র ঠিক রাখে।

৭) ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

পেঁপে পাতায় থাকা এসিটোজেনিন যৌগ অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান। এথনোফার্মাকোলজির জার্নালের সমীক্ষা অনুসারে, পেঁপে পাতায় থাকা এনজাইমগুলো লিভার ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। পেঁপে পাতার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ এবং কেমোথেরাপির

Categories
জীবনশৈলী

নখ জানিয়ে দিচ্ছে আপনি কতটা সুস্থ

নখ ত্বকের অংশ। এটি প্রত্যেক মানুষকে সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। আবার এই নখ দেখেই বোঝা যায় আপনি কতটা সুস্থ আছেন। প্রাচীনকালে চিকিৎসকেরা নখ দেখেই বলে দিতে পারতেন শারীরিক সমস্যা। নখের রং দেখে জেনে নিন আপনার শারীরিক অবস্থা-

হলদে নখ

অনেকের নখের রং হলুদ থাকে। এটি হতে পারে ছত্রাক-সংক্রমণ, নেলপালিশের অতিরিক্ত ব্যবহার, সোরিয়াসিস কিংবা অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে। যদি আপনার নখের রং হলুদ হয় এবং এর সঙ্গে ব্যথাবোধ করেন তবে বুঝবেন ছত্রাক সংক্রমণের কারণে এমনটা হয়েছে। আবার অনেক সময় ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বা সোরিয়াসিস থেকেও হতে পারে এই সমস্যা। তাই নখের রং হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নখে সাদা দাগ

নখে সাদা দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে অনেকের। আঞ্চলিক ভাষায় একে ‘নখে ফুল ফোটা’ও বলা হয়ে থাকে। এটি অনেক সময় অতিরিক্ত ম্যানিকিওরের কারণে হতে পারে, আঘাত লাগলেও নখে সাদা দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই দাগ নিজ থেকেই মিলিয়ে যায়। তবে সমস্যা বোধ করলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেয়াই জরুরি।

নখ ভেঙে গেলে

আপনার নখ ‍কি একটু বড় হতে না হতেই ভেঙে যায়? এটি হতে পারে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলে। কারণ তখন নখ নরম হতে থাকে। ফলে ভেঙে যায় সহজেই। তবে এটি হতে পারে শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ। অনেক সময় নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে ভিটামিন এ-র অভাবে। তাই নখ শক্ত রাখার জন্য ভিটামিন সি খেতে হবে নিয়মিত।

কালচে দাগ

সাধারণত যারা শ্যামবর্ণের, তাদের ক্ষেত্রে নখে লম্বলম্বি কালচে দাগের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের দাগ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। কারণ এই দাগ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা নতুন করে দাগ সৃষ্টি হলে তা হতে পারে ম্যালিগন্যান্ট মেলোনোমা নামের এক ধরনের ত্বকের ক্যান্সার। তাই এ ধরনের দাগ দেখতে পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নখের গোড়ায় সাদা দাগ

নখের গোড়ায় অর্ধেকটা চাঁদের মতো সাদা দাগ খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অবশ্য এটি অনেকের কাছে সমস্যাই মনে হয় না। তবে এই সমস্যা হতে পারে স্ট্রেস, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে। মাঝে মাঝে শক্ত নেল বাফার দিয়ে হাল্কা ঘষে নিলে উপকার পাবেন। তবে সবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

ক্ষয়াটে নখ

আপনার নখের উপরে এক ফোঁটা পানি রাখুন। যদি নখ তা শুষে নেয় তবে বুঝতে হবে এটি স্পুন নেল বা ক্ষয়াটে নখ। পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন এবং আয়রনের অভাবে নতুন নখ তৈরি হতে পারে না। এর ফলে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। এছাড়াও এটি হতে পারে হাইপো-থাইরয়েডিসম বা হৃদরোগের উৎস। তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে একদমই অবহেলা করবেন না।

আরও পড়ুন

মেথি খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
মেথি ব্যবহার করা হয় রান্নার কাজে। খাবারের সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে মেথির ব্যবহার বেশ পুরোনো। এছাড়াও নানা কাজে লাগে মেথি। এর উপকারিতাও কিন্তু অনেক। আপনি যদি নিয়মিত মেথি খেতে পারেন, তবে দূরে থাকা যাবে শারীরিক অনেক সমস্যা থেকে। এটি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না সহজে। তবে যেকোনো প্রকারে খেলেই হবে না, এটি খাওয়ার আগে জানা থাকা চাই সঠিক নিয়ম। নয়তো উপকারিতা না-ও মিলতে পারে।

মেথি খাওয়ার নিয়ম

ADVERTISEMENT

এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি নিন। এবার তাতে এক চা চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে উঠে খালি পেটে সেই পানিটুকু পান করুন। আবার সকালে খালি পেটে শুধু মেথিও চিবিয়ে খেতে পারেন। এতেও মিলবে উপকার। চাইলে মেথি ভেজানো পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। পাশাপাশি রুটি, পরোটা, ঝোল তরকারি, সালাদ এবং মাছে ব্যবহার করতে পারেন মেথি। এতেও উপকৃত হবেন। জেনে নিন মেথি খেলে কী উপকার মিলবে-

 

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

মেথিতে থাকে দ্রবণীয় ফাইবার। এর ফলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমানো সহজ হয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি খেলে তা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কৃমি দূর করে

অনেকেই কৃমির সমস্যায় ভুগে থাকেন। এটি হতে পারে আরও অনেক অসুখের কারণ। বিশেষ করে শিশুদের এই সমস্যায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে মেথি। নিয়মিত মেথি খেলে কৃমি দূর হয়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

অতিরিক্ত ওজন ও বাড়তি চর্বি নিয়ে মুশকিলে পড়লে মেথির সাহায্য নিতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত মেথি খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চর্বিও ঝরায়। সুস্থ থাকার জন্য তাই নিয়মিত মেথি খান।

 

ত্বকের দাগ দূর করে

ত্বকে নানা ধরনের দাগ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকে। এ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে মেথি। আপনি যদি নিয়মিত মেথি খান তবে ত্বকের নানা দাগছোপ দূর হবে সহজেই। সেইসঙ্গে ত্বক হবে ভেতর থেকে উজ্জ্বল।

Categories
জীবনশৈলী

ফর্সা হওয়ার ক্রিম লাগালেই সর্বনাশ!

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে তরূণ-তরুণীরা মাখেন ফর্সা হওয়ার ক্রিম। কিন্তু এ ক্রিমে আসলেই কী কোনো উপকার হচ্ছে? নাকি অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ?
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এমনই তথ্য জানানো হয়েছে। ছোট থেকে কালো রং ফর্সা করার জন্য ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখতে শুরু করে অনেক কিশোর-কিশোরী। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখার ফলে ত্বক শুকিয়ে গিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ত্বক বিশেষজ্ঞ সন্দীপন ধর আনন্দবাজারকে জানান, ফর্সা হওয়ার জন্য যে ক্রিম মাখা হয় সেটার মাধ্যমে শুরুতে কিছুটা পরিষ্কার লাগলেও বার বার মুখে লাগানোর ফলে কালচে ছোপ পড়ার পাশাপাশি মুখে গলায় হাতে বিভিন্ন রকমের অ্যালার্জি, র‍্যাশ, ব্রন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুকিয়ে গিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফর্সা হওয়ার ক্রিমে মার্কারি, লেড, স্টেরয়েড, নানান প্রিজার্ভেটিভসহ অজস্র রাসায়ানিক থাকে, যা আমাদের ত্বকের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর। তাই ত্বক বিশেষজ্ঞরা প্রায় সময় এই ক্রিম মাখতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু এখনও সচেতনতা তৈরি হয়নি, বরং এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৯ সালে ভারতে ফেয়ারনেস ক্রিমের ব্যবসা ছিল ৩০০০ কোটি টাকার।বিশ্বের বৃহত্তম বিপণন গবেষণা জার্নাল ‘রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটস’-এ প্রকাশিত গবেষণায় জানা গেছে, ২০২৩ সালে ভারতে ফেয়ারনেস ক্রিমের ব্যবসা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০০০ কোটি টাকায়।

এ বিষয়ে সন্দীপন জানান, প্রত্যেক মানুষ আলাদা আলাদা ত্বকের রং নিয়ে জন্মায়। পৃথিবীর কোনও ক্রিম বা লোশনের সাধ্য নেই সেই রংকে ফর্সা করে দেওয়ার। প্রত্যেক মানুষ যে রং নিয়ে জন্মেছে, সেই রং ফর্সা করা যায় না। তবে ত্বকের রং সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবে কালচে হয়ে যায়। ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখলে কালো হওয়া আটকানো যায় না।ফর্সা হওয়ার ক্রিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বিজনেজ সিক্রেটের নাম করে সব কোম্পানিই ফেয়ারনেস ক্রিমের উপাদান সম্পর্কে ক্রেতাদের অন্ধকারে রাখে। আদতে এগুলির মূল উপাদান হাইড্রোক্যুইনোন, হাইড্রক্সিইথাইল ইউরিয়া, ফেনক্সিইথাইল, ট্রেটিনয়েন, স্টেরয়েড এবং মার্কারি। এই রাসায়ানিকগুলি দীর্ঘ দিন ব্যবহার করলে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে অনেকের ত্বক ভয়ানক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

ব্যবহারকারী যখন টের পান, তখন তা আর সারিয়ে তোলার উপায় থাকে না। লাগাতার ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখলে মুখ ও গলার ত্বকের স্থায়ী পিগমেন্টেশন হয়ে যায়, সব মুখ, গলাজুড়ে কালচে ছোপ পড়ে। চোখ এবং চুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যারা নিয়মিত ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখেন, তাদের চোখে জ্বালা থেকে শুরু করে নানা রকম অসুবিধে হতে পারে।
ত্বকের ক্ষতির পাশাপাশি সফট টিস্যুরও সমস্যা হয়। এমনকি ত্বকের ক্যানসারের আশঙ্কা থেকে যায়। কালো হওয়া আটকাতে নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো সব থেকে ভাল সমাধান। সুস্থ সুন্দর ঝকঝকে ত্বকের জন্য পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি।

আরও পড়ুন

নখ জানিয়ে দিচ্ছে আপনি কতটা সুস্থ
নখ ত্বকের অংশ। এটি প্রত্যেক মানুষকে সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। আবার এই নখ দেখেই বোঝা যায় আপনি কতটা সুস্থ আছেন। প্রাচীনকালে চিকিৎসকেরা নখ দেখেই বলে দিতে পারতেন শারীরিক সমস্যা। নখের রং দেখে জেনে নিন আপনার শারীরিক অবস্থা-

হলদে নখ

অনেকের নখের রং হলুদ থাকে। এটি হতে পারে ছত্রাক-সংক্রমণ, নেলপালিশের অতিরিক্ত ব্যবহার, সোরিয়াসিস কিংবা অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে। যদি আপনার নখের রং হলুদ হয় এবং এর সঙ্গে ব্যথাবোধ করেন তবে বুঝবেন ছত্রাক সংক্রমণের কারণে এমনটা হয়েছে। আবার অনেক সময় ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বা সোরিয়াসিস থেকেও হতে পারে এই সমস্যা। তাই নখের রং হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নখে সাদা দাগ

নখে সাদা দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে অনেকের। আঞ্চলিক ভাষায় একে ‘নখে ফুল ফোটা’ও বলা হয়ে থাকে। এটি অনেক সময় অতিরিক্ত ম্যানিকিওরের কারণে হতে পারে, আঘাত লাগলেও নখে সাদা দাগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই দাগ নিজ থেকেই মিলিয়ে যায়। তবে সমস্যা বোধ করলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেয়াই জরুরি।

নখ ভেঙে গেলে

আপনার নখ ‍কি একটু বড় হতে না হতেই ভেঙে যায়? এটি হতে পারে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলে। কারণ তখন নখ নরম হতে থাকে। ফলে ভেঙে যায় সহজেই। তবে এটি হতে পারে শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ। অনেক সময় নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে ভিটামিন এ-র অভাবে। তাই নখ শক্ত রাখার জন্য ভিটামিন সি খেতে হবে নিয়মিত।

কালচে দাগ

সাধারণত যারা শ্যামবর্ণের, তাদের ক্ষেত্রে নখে লম্বলম্বি কালচে দাগের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের দাগ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। কারণ এই দাগ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা নতুন করে দাগ সৃষ্টি হলে তা হতে পারে ম্যালিগন্যান্ট মেলোনোমা নামের এক ধরনের ত্বকের ক্যান্সার। তাই এ ধরনের দাগ দেখতে পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নখের গোড়ায় সাদা দাগ

নখের গোড়ায় অর্ধেকটা চাঁদের মতো সাদা দাগ খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অবশ্য এটি অনেকের কাছে সমস্যাই মনে হয় না। তবে এই সমস্যা হতে পারে স্ট্রেস, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে। মাঝে মাঝে শক্ত নেল বাফার দিয়ে হাল্কা ঘষে নিলে উপকার পাবেন। তবে সবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

ক্ষয়াটে নখ

আপনার নখের উপরে এক ফোঁটা পানি রাখুন। যদি নখ তা